ঢাকা, বুধবার, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

অন্তর্বর্তী আদেশের দিকে তাকিয়ে রোহিঙ্গারা

সুজাউদ্দিন রুবেল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-২৩ ১২:৫২:০৯ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-২৩ ৪:৪৪:০৫ পিএম

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার অন্তর্বতীকালীন আদেশ দেবেন আন্তর্জাতিক আদালত। এ আদেশ নিয়ে আশাবাদী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। আইসিজের রায় দেশে ফিরে যাওয়ার পথকে সুগম করবে বলে আশা তাদের।

এ আদেশের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় বিশ্ব আদালত সোচ্চার হবে এমনটাই প্রত্যাশা আইন বিশেষজ্ঞদের।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চালায় মিয়ানমার। দেশটির সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে নতুন করে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এই নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। মামলায় প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ আন্তর্জাতিক আদালত দিতে পারে বলে আশা তাদের। এতে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পথ সুগম হতে পারে বলে মনে করেন রোহিঙ্গারা। 

টেকনাফের লেদা শরণার্থী শিবির রোহিঙ্গা নেতা নুর বশর বলেন, গাম্বিয়া আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে রোহিঙ্গাদের যে উপকার করেছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ২৩ জানুয়ারির রায়ের পর হয়তো আমাদের নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যাওয়ার একটি পথ বের হবে।

কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী তার ফুফাতো ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে; তার আপন দুই ভাই এখনও রাখাইনে বন্দি। মিয়ানমারে আমরা যে অত্যাচারের শিকার হয়েছি, আশা করছি এ রায়ে তার বিচার মিলবে।

ছৈয়দুল আমিন নামে আরেক এক রোহিঙ্গা বলেন, হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালিয়ে তার এক ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তার বাবা-মাকেও আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। সে জানে না তারা এখন বেঁচে আছে কিনা। তার আশা, আইসিজের রায় রোহিঙ্গাদের পক্ষে আসবে। স্বজন হারানোর বেদনা একটু হলেও কমবে।

নুরুল হক নামে এক রোহিঙ্গা বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে আমাদের জমি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এর পাশাপাশি রাখাইনে নাগরিকত্ব ও অধিকার নিয়ে ফিরতে পারব। সারাবিশ্ব মিলে এদের বিচার করবে-এটা আমাদের সবার প্রত্যাশা। 

গত মাসে নেদারল্যান্ডসের হেগের আদালতে এ মামলায় শুনানি হয়। ১৫ সদস্যের আদালত সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে রায় দেবেন। সেখানে প্রথমবারের মতো সু’চির সামনেই রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন গাম্বিয়ার আইনজীবীরা।

এদিকে আরকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুহিব উল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরি হবে। এতে মিয়ানমার আমাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে। অন্তর্বর্তী রায় আমাদের পক্ষে যাবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ সাবেক ডীন ড. জাকির হোসেন চৌধুরী মনে করেন, রোহিঙ্গাদের ওপর গত চার দশক ধরেই নির্যাতন ও গণহত্যা চলছে-এটা প্রমাণিত হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি, আমরা বিশ্বাস করি। আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকরা এমন একটি রায় দেবেন, যে রায়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষা করা হবে। এবং রোহিঙ্গা গণহত্যা সম্পূর্ণ বন্ধ হবে। একই সঙ্গে আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক আদালত রোহিঙ্গাদের পক্ষে সোচ্চার হবে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছেন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। গাম্বিয়া রোহিঙ্গাদের রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে ৬টি অন্তর্বর্তী আদেশের আবেদন করেছে আইসিজেতে।   


কক্সবাজার/সুজাউদ্দিন রুবেল/নাসিম