ঢাকা, সোমবার, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ১৩ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

জীবনযুদ্ধে দিশেহারা যমুনার জেলেরা

অদিত্য রাসেল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-০৪ ৮:১৬:৩৮ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-০৬ ৩:৪৯:৩২ পিএম

মাঘের হাড় কাঁপানো শীতের মধ্যেও ভাসমান জেলেরা জীবিকার তাগিদে যমুনা নদী দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। রাতের অন্ধকার কেটে আলো ফোটার আগেই শুরু হয় তাদের এই অভিযান।

তবে যমুনায় আগের মতো পানি নেই। জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। মিলছে না পর্যাপ্ত মাছ।

এই জেলেরা ১৫/২০ দিনের জন্য নৌকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর নৌকায় তাদের রান্না, খাওয়া, ঘুম। সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, চৌহালী, এনায়েতপুর, শাহজাদপুর, সদর উপজেলার যমুনা নদীর বিভিন্নস্থানে এমন বহু নৌকার দেখা মেলে। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কেউ ছেঁড়া জাল সেলাই করছেন, কেউ রান্না করছেন, কেউবা তথনো ঘুমিয়ে।

ছোনগাছা ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচঠাকুরী স্পার বাঁধ এলাকায় কথা হয় কুড়িগ্রামের চর জাৎরাপুর গ্রামের নুর হোসেন, মিজানুর রহমান ও আব্দুল খালেকের সঙ্গে। তারা জানান, যমুনায় তেমন মাছ ধরা পড়ে না। যদি একটু বেশি ধরা পড়ে তাহলে ৮/১০ দিন পর বাড়ি যেতে পারেন। না হলে ১৫/২০ দিন পর যান। প্রতি নৌকায় ৩/৪ জন জেলে থাকে। মাছ বিক্রি করে যে টাকা হয়, তা সমান ভাগ করে নেন।

সকালে নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে বের হন। ঘুরে ঘুরে মাছ ধরা শেষে বিকেলে ফিরে সদর ও কাজীপুর উপজেলার বাজারে বিক্রি করেন। বিক্রির পর পাওনাদারদের দেনা পরিশোধ ও খাবার সামগ্রী ক্রয়ের পর হাতে যা সামান্য কিছু থাকে, সেই টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরেন।

কাজীপুর উপজেলার আকনাদিঘী গ্রামের আব্দুল মালেক ও বাদশা আলম জানান, নদী শুকিয়ে মাঝে-মধ্যে ডুবোচর পড়েছে। কোথাও পলি জমে নালায় পরিণত হয়েছে। এতে মাছ তেমন মিলছে না।

তিনি বলেন, টিকে থাকতে না পেরে অনেকে বাপ-দাদার এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্ত তাদের বয়স হয়েছে। এই বয়সে এসে নতুন কিছু করা সম্ভব হয় না। তাই কোনো রকমে টিকে আছেন।

কয়েকজন জেলে জানান, নদীতে পর্যাপ্ত মাছ নেই। আবার জালে যদি বড় মাছ পড়ে, তা এলাকার প্রভাবশালীরা নামমাত্র দামে নিয়ে যায়। অথচ তাদের সপ্তাহে ঋণের কিস্তির টাকা শোধ করতে হয়; স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি সুরুতজামান জানান, যমুনা নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় চরাঞ্চলের বহু নৌ-শ্রমিক এবং জেলে বেকার হয়ে পড়েছে। তারা কিছু একটা করে কোনো রকমে টিকে আছে। 


ঢাকা/বকুল

       
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী বিভাগ
ট্যাগ :