ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ চৈত্র ১৪২৬, ৩১ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘জ্ঞানের আলো’ পথ দেখালো ওদের

বাদল সাহা : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২৮ ২:৩৪:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২৮ ২:৩৪:২৭ পিএম

শাহানা রশিদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সোহেলী। বাবা আল আমিন শেখ মারা গেছেন তিন বছর আগে। মা অন‌্যের বাড়িতে কাজ করেন। পাশাপশি হাঁস-মুরগী পালেন। এভাবে কোনো রকমের চলে সংসার।

সামান‌্য এ উপার্জনে কোনোমতে সংসার চললেও দুয়েকটি শখ বা অন‌্যান‌্য প্রয়োজন মেটে না। তাই অভাবের সংসারে এক সেট স্কুল ড্রেসের অভাবে স্কুলে যেতে পারছিল না সোহেলী।

শুধু সোহেলী নয়, একই অবস্থা আরো চার শিক্ষার্থীর। শিক্ষা উপকরণ আর স্কুল ড্রেসের অভাবে কয়েক মাস ধরে স্কুলে যেতে পারছিল না তারা।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার দরিদ্র পরিবারের এই পাঁচ শিক্ষার্থীর সমস‌্যার কথা জানতে পেরে পাশে তাদের দাঁড়িয়েছে উপজেলার তারাশী গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জ্ঞানের আলো পাঠাগার’।

পাঠাগারের সদস্য আজিজুল ইসলাম কয়েকজন মানবিক মানুষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। এতে এগিয়ে আসেন শাহানা রশিদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বি. এম বাবুল হোসেন, ঘাঘর বাজারের মায়ের দোয়া বস্ত্রালয়ের মালিক মনিরুজ্জামান মনির, ফেরধারা গ্রামের সহিদ খান এবং কয়খা গ্রামের বাচ্চু হাওলাদার।

এই হৃদয়বান ব‌্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল ড্রেস, প্রয়োজনীয় বই ও শিক্ষা উপকরণ তুলে দেয়া হয়। জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সভাপতি সুশান্ত মন্ডল তাদের হাতে এসব উপকরণ তুলে দেন।

এসময় পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন তালুকদার, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাব্বির তালুকদার, সদস্য আজিজুল ইসলাম ও লাইব্রেরিয়ান সাজিদ কাজিসহ পাঠাগারের সদস্যেরা উপস্থিত ছিলেন।

শাহানা রশিদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সোহেলী জানায়, সহপাঠীরা সবাই স্কুল ড্রেস পরে স্কুলে যায়। অর্থাভাবে এতদিন স্কুল ড্রেস তৈরি করতে পারেনি বলে তার স্কুলে যাওয়া হচ্ছিল না। জ্ঞানের আলো পাঠাগার সে অভাব দূর করায় তার খুব ভালো লেগেছে।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিতালী খানম বলে, ‘প্রয়োজনীয় বই ও শিক্ষা উপকরণের অভাবে এতদিন লেখাপড়া করতে পারিনি। বই ও ড্রেস পেয়ে খুব ভাল লাগছে। এখন আমি ঠিকভাবে স্কুলে যেতে পারব।’

গচাপাড়া প্রাথমিক বিদালয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জুঁই বলে, ‘আমার বাবা দিন মজুর। বই ও স্কুল ড্রেস কিনে দিতে পারেনি। তাই স্কুলে যেতে পারিনি। এতে আমার পড়ালেখায় অসুবিধা হচ্ছিল। এখন পড়ালেখায় আর অসুবিধা হবে না।’

শাহানা রশিদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বি এম বাবুল হোসেন বলেন, ‘জ্ঞানের আলো পাঠাগার কোটালীপাড়ার একটি আলোকিত সংগঠন। তাদের কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের কারণে এসব শিক্ষার্থীরা ঠিক মত স্কুলে যাওয়ার পাশাপাশি পড়ালেখাও করতে পারবে।’

জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সভাপতি সুশান্ত মন্ডল বলেন, ‘শুধু আমরাই নই, এসব দরিদ্র শিক্ষার্থীর জন্য সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে দরিদ্র এসব শিক্ষার্থীরা সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে পারবে।’

 

গোপালগঞ্জ/সনি