ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, ০৭ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

স্বাস্থ্যবিধি মানছে না মানুষ, ঝুঁকি নিয়েই ঘরে ফিরছে

বেলাল রিজভী : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৬ ৯:২৮:০৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২৬ ৯:৪৯:৩৮ পিএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সারা দেশে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। তবু ঝুঁকি নিয়েই মাদারীপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ ঘরে ফিরছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল থেকেই মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এতে করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে ছাড়া কমেনি।

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ি ঘাট সূত্র জানায়, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি সেবার জন্য ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেরিতে চড়েই নদী পার হয়ে বিভিন্ন উপায়ে বাড়ি ফিরছেন মানুষ।

এদিন দুপুরে কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকলেও ফেরি চলাচল অব্যাহত আছে। এতে সীমিত আকারে কিছু গাড়ি পার হচ্ছে। সকাল থেকেই এই নৌরুটে ঘরমুখী মানুষের ভিড় লেগে আছে। ফেরি থেকে নেমেই যে যার মত ট্রাক বা পিকআপে চড়ে বাড়িতে ছুটছেন।

পুলিশ একদিক দিয়ে সরিয়ে দিলে অন্য দিক থেকে গিয়ে ট্রাকে চড়ছেন এসব ঘরমুখি মানুষ। ঘরে ফেরা মানুষের স্রোতে ভেসে যাচ্ছে করোনা প্রতিরোধে পুলিশের নেওয়া সব পদক্ষেপ।

ঢাকা থেকে বরিশালগামী সোবাহান মোল্লা বলেন, ‘রং মিস্ত্রির কাজ করি। এখন কাজ বন্ধ। ঢাকায় কী করুম? কী খামু? তাই যেভাবেই হোক বাড়ি যাইতে হবে।’

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ি ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুল আলীম বলেন, ‘শিমুলিয়া ঘাটে গাড়ি ও যাত্রীদের চাপ অনেক। ১৬টি ফেরির মধ‌্যে বর্তমানে সচল রয়েছে ১৩টি। তাতে অল্প কিছু গাড়ি ছাড়া যাত্রীই পারাপার হচ্ছে বেশি। অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করা হচ্ছে। এছাড়া পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পার হচ্ছে।’

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. আবির হোসেন বলেন, ‘বুধবার (২৫ মার্চ) মধ্যরাত থেকে গণপরিবহন বন্ধ। তবুও ঢাকা থেকে যে কোনোভাবে কিছু লোক নদী পার হয়ে এপারে আসছে। যেহেতু গণপরিবহন বন্ধ, তাই অনেকে ট্রাকে চড়েও বাড়ি ফিরছেন। এসব বন্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘সরকার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই ছুটি ঘোষণা করেছে। শুনেছি, কিছু মানুষ গাদাগাদি করে গাড়ি ও ফেরিতে চলাচল করছেন। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরো বেড়ে গেছে।

‘আইইসিডিআর থেকে বলা হয়েছে, যারা গ্রামে ফিরবে তাদেরও হোম কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। যারা গ্রামে ফিরেছে তাদের প্রতি অনুরোধ, তারা যেন ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইন পালন করেন।”


বেলাল/সনি