ঢাকা, বুধবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৭ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

পণ্যের স্বাভাবিক মূল্যে স্বস্তিতে রাজশাহীর মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৮ ৬:১৯:৩৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২৮ ৬:১৯:৩৮ পিএম

করোনায় বিপর্যস্ত সারাদেশ। এর মাঝেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বাভাবিক মূল্যে স্বস্তিতে রয়েছেন রাজশাহীর মানুষ।

রাজশাহীর বাজারগুলোতে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক কম।

স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, মনিটিরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে বাজার মূল্য স্বাভাবিক রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর চারটি কাঁচাবাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে অন্য সময়ের চেয়ে ক্রেতা কম। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যও অনেক কম।

এদিন রাজশাহীর বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন মাত্র ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাত্র চারদিন আগে রাজশাহীতে ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বেগুন বিক্রি হয়েছে। গত কয়েকদিন আগে মিষ্টি কুমড়ার দাম ছিলো কেজি প্রতি ৩০-৩৫ টাকা। শনিবার তা বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা কেজি।

এছাড়া, কয়েকদিন আগে পটল এবং ঢেড়স ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের মূল্য অনেকটা কমে বর্তমান বাজার দর ৩০-৩৫ টাকা কেজি।

আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। কয়েকদিন আগেও প্রতিকেজি আদা দেড়শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। কমেছে রসুনের দাম। রসুন বর্তমানে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে লাউ কয়েকদিন আগেও আকার ভেদে ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে প্রতিটির দাম ২০-২৫ টাকা। কমেছে শাকের দামও। শসা বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা কেজি।

এছাড়া, মাছের দামও কম। আটশ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের রই বা কাতল বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা কেজি। বড় আকারের (দুই কেজির ওপর) রুই বা কাতল আড়াইশ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মুরগি, গরু এবং ছাগলের মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

রাজশাহী মহানগরীর হড়গ্রাম বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার বলেন, ‘রাজশাহীতে বর্তমানে কাঁচা সবজির দাম অনেক কম। করোনা আতঙ্কে অনেকেই ভেবেছিলেন সবজির দাম বেশি হবে। কিন্তু বাস্তবে এমনটি ঘটেনি। মোকামগুলো থেকে সবজির স্বাভাবিক সরবরাহ রয়েছে। আমরা কম দাম কিনছি বলেই ক্রেতাদের কাছেও কম দামে বিক্রি করতে পারছি।’

শনিবার সকালে মহানগরীর মাস্টারপাড়া এলাকায় কাঁচা বাজার করছিলেন একটি সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আলিমুল হক। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে রাজশাহীতে সবজির দাম খুব কম। এক সপ্তাহ আগেও সবজি বেশি দামে কিনতে হয়েছে। কিন্তু এখন আমরা অনেক কম দামে সবজি কিনছি। সবজির দাম কম হবার কারণে রাজশাহীর মানুষ স্বস্তিতে রয়েছেন। আমাদের ধারণা ছিলো, করোনা ভাইরাসের অজুহাতে হয়ত ব্যবসায়ীরা দাম বেশি নিবেন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের মনিটরিংয়ের কারণে সবজির বাজার স্বাভাবিক রয়েছে।’

রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ খড়খড়ি বাইপাস, জেলার পবা উপজেলার দামকুড়া হাট, মোহনপুরের মৌগাছি, দুর্গাপুর এবং বাগমারা উপজেলা সদর থেকে রাজশাহী মহানগরীতে সবজি সরবরাহ করা হয়।

মোহনপুরের মৌগাছি সবজি মোকামের মালিক আবুল খায়ের বলেন, ‘কৃষকরা সরাসরি আমাদের কাছে সবজি বিক্রি করেন। সবজির কোনো ঘাটতি নেই। পরিবহন ব্যবস্থাও স্বাভাবিক। সবকিছু মিলিয়ে রাজশাহীতে এখন সবজির দাম কম।’

এ ব্যাপারে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই রাজশাহীতে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছি। শুধু সবজি বাজারের ক্ষেত্রে না, প্রত্যেকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম যেন স্বাভাবিক থাকে-সেদিকে আমাদের কড়া নজরদারি রয়েছে। রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও রয়েছে তৎপর। সবমিলিয়ে রাজশাহীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।’

 

রাজশাহী/তানজিমুল/বুলাকী