ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ১৯ ১৪২৭ ||  ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

risingbd-august-banner-970x90

শেবাচিমে ২ ওয়ার্ডবয়কে নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২৩, ২ জুলাই ২০২০  

চিকিৎসকের সাথে খারাপ আচরণের অভিযোগ এনে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক‌্যাল (শেবাচিম) কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে দায়িত্বরত দুই ওয়ার্ডবয়কে ছাত্রাবাসে ডেকে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ ঘটনার প্রতিবাদে দিনভর বিক্ষোভ করেছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। তারা পরিচালকের কার্যালয় ঘেরাও করে অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়েছে।

হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মোদাচ্ছের আলী জানান, শের-ই-বাংলা মেডিক‌্যালের জরুরি বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ডবয় মো. বাদশা করোনা আক্রান্ত হয়ে করোনা ওয়ার্ডের চিকিৎসাধীন।

গত ২৮ জুন রাতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন বাদশার ১৮ নম্বর কক্ষের বদলে ভুলক্রমে পাশে ডাক্তারের ১৫ নম্বর কক্ষে ডাকাডাকি করেন ওয়ার্ডবয় মো. দিদারুল ইসলাম ও মো. নুরুল ইসলাম।

কক্ষ ভুল হওয়ায় দায়িত্বরত নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে সহকর্মীর ১৮ নম্বর কক্ষে চলে যায় তারা।

পরদিন সোমবার (২৯ জুন) রাতে দিদার ও নুরুল করোনা ওয়ার্ডে ডিউটি করছিলো।

এ ঘটনায় কতব্যরত ওই নারী চিকিৎসক পরিচালকের নিকট অভিযোগ দিলে পরিচালক ওই দুই ওয়ার্ডবয়কে কৈফিয়ত তলব করেন। কিন্তু ওইদিন রাত ৯টায় ইন্টার্ন চিকিৎসক মো. আরিফ ও মো. সজল তাদের মুঠোফোনে ফোন দিয়ে করোনা ওয়ার্ডের নিচে ডেকে নেয়।

এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক আরিফ ও সজলের নেতৃত্বে তিনটি মোটরসাইকেলে করে ৬/৭জন লোক মিলে দিদার ও নুরুলকে দুই নম্বর ইন্টার্ন হোস্টেলে নিয়ে যায়।

নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের কক্ষে ডাকাডাকি করার অপরাধে সেখানে তাদের দুজনকে চরমভাবে শারীরিক নির্যাতন করে তারা। এতে তারা মারাত্মকভাবে আহত হয়।

এ ঘটনা কাউকে জানালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুশিয়ারী দেয় বলে অভিযোগ করেন আহত ওয়ার্ডবয় দিদারুল ইসলাম ও মো. নুরুল ইসলাম।

বিষয়টি জানাজানি হলে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার বিচার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. মোদাচ্ছেল আলী কবির ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাহেব আলী।

হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে ওই কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।


জে. খান স্বপন/সনি

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়