ঢাকা     শনিবার   ০৫ এপ্রিল ২০২৫ ||  চৈত্র ২২ ১৪৩১

শত বছরের পুরনো আখের হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫৭, ৮ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১২:২৩, ৮ আগস্ট ২০২১

এখন আখের ভরা মৌসুম। গাজীপুরের কড্ডা বাজারে তুরাগ নদের পারে জমে উঠেছে আখের হাট। ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের ঐতিহ্যবাহী এই হাট সপ্তাহে দু'দিন বসে।

আশপাশের ১০-১২ টি গ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আখ নিয়ে বিক্রেতারা এই হাটে আসেন।

স্থানীয়রা জানান, সারাবছরই এই হাটে আখ বেচাকেনা হয়। হাট বসে প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার। ভাওয়াল মির্জাপুর, হাটুরিচালা, আঙ্গুরিচালা, পানইসাল, মৌরিচালা,তালতলাসহ আশপাশের বেশ কিছু গ্রামের মানুষ হাটের আগের দিন আখ নিয়ে এই হাটে আসেন। তারা নৌকা বোঝাই করে তুরাগ নদী পার হয়ে হাটে আসেন। সাধারণত জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আখের ভরা মৌসুম। এসময় তুরাগ নদে পানিতে টইটম্বুর হয়ে যায়। বিক্রেতারা তখন খুব সহজেই নৌকা নিয়ে হাটে আসতে পারেন।

আখ বিক্রেতা আব্দুল লতিফ (৫০) বলেন, আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই হাটে আখ (গেন্ডারি) বিক্রি করি। আমার সাথে ভাওয়াল মির্জাপুর থেকে কাশের আলী, রফিক, বিল্লাল, জিতু, মোস্তফা, সোহেল, কায়সারসহ আরও অনেকে আখ বিক্রি করতে আসেন। আখ বিক্রি শেষে ঐতিহ্যবাহী কড্ডা বাজার থেকে দৈনন্দিন জিনিসপত্র কিনে বাসায় ফেরেন তারা।

ছোট-বড় আখগুলো বিভিন্ন উপায়ে আঁটি বেঁধে হাটে নিয়ে আসেন। এরপর আখের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয় দরদাম। আকার অনুযায়ী ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম আসে প্রতি পিস আখের। এই হাটে পাইকারিতেই বিক্রি হয় আখ। ২৫টি আখ একত্রিত করে একটি আঁটি বানানো হয়। ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দমতো আখ ক্রয় করে। এরপর কেউ ভ্যানে, কেউ পিকাপে, কেউবা নৌকাতে নিয়ে যায় আখ।

বিক্রেতারা ও হাটের ইজারাদার জানান, আশপাশে বড় আখের হাট নেই। যার ফলে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আখ ব্যবসায়ীরা আমাদের হাটে আসে।

সাভারের নবীনগর থেকে আসা ক্রেতা লিয়াকত মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন হলো আমি প্রতি শনিবার কড্ডার হাট থেকে আখ কিনে নিয়ে যাই। ভালো মানের ও দামের কারণেই এখানে আসা। আজও ৪৫০টি আখ কিনেছি। এগুলো নবীনগর নিয়ে নিজেও বিক্রি করি, আবার অন্যদের কাছেও পাইকারি বিক্রি করি।

আরেক বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম ১০০০ হাজার পিস আখ নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, এই হাটে ছোট বেলায় দাদার সাথে এসেছি। দাদা মারা যাওয়ার পর প্রায় ৩৫ বছর আমি নিজেই আখ বিক্রি করতে আসি। তিনি বলেন, হাটে বেচাকেনা শেষে ১ হাজার আখে ৮০০ টাকা খাজনা দিতে হয়।

স্থানীয় কড্ডা এলাকার বাসিন্দা জসিমউদদীন (৪৪) বলেন, যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই দেখছি আমাদের ঐতিহ্যের কড্ডা আখের হাট বসে। ছোট বেলায় দাদার কাছে গল্প শুনতাম তারাও জ্ঞান হওয়ার পর থেকে আখের হাট দেখেছে। মূলতঃ ভাওয়াল পরগণা, গাজী বংশের আমল থেকেই এই কড্ডার হাটের যাত্রা শুরু।

হাটের ইজারাদার সাইফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, হাটের একপাশে তুরাগ নদী অন্য পাশে হাইওয়ে রাস্তা থাকায় যাতায়াত খুবই ভালো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা হাটে আসে। প্রতি বছর সিটি কপোরেশন থেকে এই হাটের লিজ হয়। খাজনা হিসাবে ক্রেতাদের থেকে ২০ টাকা আঁটি ও বিক্রেতা থেকে নেওয়া হয় ১০ টাকা আঁটি । তবে বেচাকেনা ও দরদাম ঠিক থাকায় শত বছরেও এই হাটের ঐতিহ্য বজায় রয়েছে।

গাজীপুর/রেজাউল/টিপু


সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়