কুষ্টিয়ায় বিনোদন কেন্দ্রে আনন্দে মেতেছে শিশুরা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

আনন্দে মেতেছে শিশুরা
ঈদুল ফিতরের দিন ও পরের দিন আজ মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) কুষ্টিয়ার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় রয়েছে। রঙ-বেরঙের পোশাক পরে তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ এখানে ছুটে আসছে।
ঈদের ছুটিতে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে বাড়ি ফেরা মানুষও পরিবার নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে এসেছে।
ঈদের দিন সোমবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ভিড় কিছুটা কম থাকলেও বেলা গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে। কুষ্টিয়া শহরের রেনউইক বাঁধ, রবীন্দ্র-লালন উদ্যান, কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীয়া শিশুপার্ক, হাউজিং মাঠ, ভেড়ামারা মনি পার্কসহ বেশ কিছু খেলার মাঠে শিশুমেলায় মানুষের ভিড় লেগে আছে।
মিরপুর উপজেলার আমলাসদরপুর এলাকা থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীয়া শিশু পার্কে এসেছে শিশু মনিকা খাতুন। সে পার্ক ঘুরে ঘুরে বেশকিছু রাইড উপভোগ করেছে। সন্তানকে নিয়ে বিকেল থেকে ঘুরছেন বলে জানান বাবা রবিউল ইসলাম।
মনিকা খাতুন বলে, ‘‘বাবাকে অনেক দিন ধরে বলছিলাম। তাই তিনি ঈদের পর আমাদের ঘুরতে এনেছেন। এখানে ঘুরে মজা পেয়েছি, আমি খুব খুশি।’’
শুধু ছোটরা নয়, পার্কে এসেছে বিভিন্ন বয়সী দম্পতি। তারা আনন্দের মুহূর্তটা ক্যামেরাবন্দি করতেও ভুলছে না।
হাউজিং খেলার মাঠের পাশে অস্থায়ী বিনোদন কেন্দ্র বসেছে। পাশাপাশি মেলাও বসেছে। অনেকে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে হেঁটে বেড়াচ্ছে। বাচ্চারা দল বেঁধে নাগরদোলা, চরকি, নৌকার দোলনায় চড়ে আনন্দ উপভোগ করছে।
বাবা ও মায়ের সঙ্গে বেড়াতে এসেছে রোজা, নিমু ও তাবিয়া। তারা জানায়, ঈদের নামাজের পর বাসায় সেমাই খেয়ে তারা গ্রামের বাড়িতে যায়। সেখান থেকে ঘুরে এসে বিকেলে পার্কে এসেছে। অনেক মজা করছে তারা।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীয়া শিশুপার্কে মানুষের ভিড়। টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করে ৩০ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন রাইডে চড়ার সুযোগ আছে। তবে টিকিট কাটতে গিয়ে লম্বা লাইন। আর রাইডের কাছে গিয়েও দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সেখানে পরিবার নিয়ে ঘুরছেন মো. আক্তার হোসেন। তিনি জানান, এমনিতে বাচ্চাদের নিয়ে বের হওয়ার সময় পাননি। তাই আজ ঘুরতে বের হয়েছেন। স্ত্রী ও মেয়েসহ সবাই বেশ কয়েকটি রাইডে উঠেছে। এতে তারা খুব খুশি। বিশেষ করে বাচ্চারা খুব উপভোগ করেছে।
শহীদ জিয়াউর রহমান শিশুপার্কে তেমন উন্নয়ন না থাকায় অভিভাবকরা তাদের শিশুদের নিয়ে এসে বিমুখ হয়ে ফিরে গেছে।
ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল হক বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান শিশুপার্ক এক সময় অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত ছিল। অনেকে সময় কাটাতে, কখনো বা পরিবার-পরিজন নিয়ে এই পার্কে আসতেন। তবে এখন এখানে তেমন কিছু না থাকায় দর্শনার্থীরা আসতেই চায় না।
ঢাকা/কাঞ্চন/বকুল