ঢাকা     শনিবার   ০৫ এপ্রিল ২০২৫ ||  চৈত্র ২২ ১৪৩১

বাঁধে ভাঙনের ২ দিনেও সংস্কার শুরু হয়নি, ১০ গ্রাম প্লাবিত 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৫৮, ১ এপ্রিল ২০২৫   আপডেট: ২০:২৯, ১ এপ্রিল ২০২৫
বাঁধে ভাঙনের ২ দিনেও সংস্কার শুরু হয়নি, ১০ গ্রাম প্লাবিত 

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর বিছট পয়েন্টে বেড়িবাঁধে ভাঙনের দুই দিন অতিবাহিত হলেও সংস্কারের কাজ শুরু হয়নি। এতে ১০ গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ প্লাবিত হয়েছে। আরো তিন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে।

এরইমধ্যে আনুলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকে উঁচু বেড়িবাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে। 

ঈদের দিন সোমবার (৩১ মার্চ) বেলা সাড়ে ৯টার দিকে আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামে খোলপেটুয়া নদীর অন্তত দেড়শত ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে বিছট, বল্লভপুর, আনুলিয়া, নয়াখালী, চেঁচুয়া, কাকবসিয়া, পারবিছুট, বাসুদেবপুরসহ আশপাশের অন্তত ৮-১০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

আরো পড়ুন:

আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস জানান, আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীর বিছট পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের প্রায় ২০০ ফুট ভেঙে ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে ৫ হাজার হেক্টর মৎস্য ঘের। ১ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, এতে শতাধিক বসতবাড়ি ডুবে যাওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। প্রায় ৫০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। বেড়িবাঁধ‌ দ্রুত সংস্কার করা না হলে আরো বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করেন তিনি।

আশাশুনি উপজেলার ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) টিম লিডার আব্দুল জলিল বলেন, যে পয়েন্টে বাঁধ ভেঙেছে, সেটাতে একটি পাইপলাইন ও গেট সিস্টেম ছিল। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ শুরু করলেও এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। অনেক পরিবার উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম জানান, ঈদের কারণে দক্ষ শ্রমিক না পাওয়া যাওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আগামীকাল বুধবার (২ এপ্রিল) থেকে কাজ শুরু করা যাবে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ভাঙন কবলিত এলাকায় পৌঁছেছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘‘পরিস্থিতি ভয়াবহ। আমরা যদি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে না পারি, তাহলে পরবর্তী জোয়ারে আরো প্রায় আধা কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে যেতে পারে।’’

তিনি জানান, ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগকে একত্রে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা/শাহীন/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:


সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়