ঢাকা, সোমবার, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ১৩ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘কাম না করলে ভাত পামু কই’

অনিক রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৫ ৮:১১:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৫ ১০:৪৪:৩৩ পিএম

আজ ছিল ঈদের দিন। পথে-প্রান্তরে মানুষের শোভা না থাকলেও মনের আনন্দ রয়েছে অটুট। যেন বৈশ্বিক মহামারি মনের আনন্দে কোনো বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু সমাজের এক শ্রেণীর কাছে ঈদের এই অর্থ যেন একদম নিরর্থক। শত ব্যস্ততার ভিড়ে তারা যেন ঈদকে আপন করে নেওয়ার সুযোগ পান না। তারা আমাদের দেশের কৃষক।

ঈদের দিন মানে নতুন পোশাকে সাজবে সবাই, পরিবারের সাথে কাটাবে কিছু আনন্দঘন মুহুর্ত। ঠিক এমনটাই হওয়ার কথা থাকলেও করোনা প্রকোপের জন্য তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। বলা হয়েছিল বাসায় থেকেই ঈদের আনন্দ করতে। কিন্তু তারা বেছে নিয়েছেন এক কঠিন পথ। ঈদের দিনেও যাদের নেই কোনো অবসর।

বগুড়া জেলার শেরপুরে অবস্থিত দূরবর্তী একটি গ্রাম নলুয়ার চিত্র এটি। কথা হয় সেখানকার কৃষক ও কৃষাণীদের সঙ্গে।
 


আব্দুস সোবহান এদেরই একজন। তার ঈদ যেন শত কর্মব্যস্ততার ভিড়ে চাপা পড়ে আছে। তিনি বলেন, ‘ঈদ তো খুশির দিনই, কিন্তু সেই খুশি তো আমাদের জন্য না, আমরা কাম না করলে কই থেকে ভাত পামু?’

আনোওয়ারা বেগম তারই স্ত্রী, মজুরের টাকা যোগাতে না পারায় হাত মিলিয়েছেন স্বামীর সঙ্গে শক্ত এই কাজে। তিনি বলেন, ‘ধান উৎপাদনের খরচ বাঁচানোর জন্য এই কাজ করছি, এতে দুই পয়সা লাভ হলে আমাদেরই ভালো।’

করোনার ভয় তারা বহু আগেই জয় করেছে। হয়তো পেটের দায়ে, নিয়তির কাছে এক প্রকারের বাধ্য হয়েই তাদের লড়তে হয়েছে। চোখে তাদের রঙিন স্বপ্ন নেই, শুধু ইচ্ছা পেটভর্তি ভাত আর গোলা ভরা ধান। সেই কামনায় হয়তো এই পথ বেছে নেওয়া।
 


ঈদ তাতে কী হয়েছে? এটা তো কৃষকদের ধান কাটার, ঘরে তোলার মৌসুম। তাদের তো এক মুহূর্ত বিশ্রাম নেওয়ার ফুরসত নেই। নতুন জামা-কাপড় তাদের লাগবে না, তাদের শুধু একটাই চাওয়া, তাদের ধান যেন সময়মতো পৌঁছিয়ে দিতে পারে আমাদের কাছে। একবার ভাবুন তো, ঠিক কতখানি বাধ্য হলে এই মানুষগুলো ঈদের দিনেও হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে?

কবি হয়তো এজন্যই বলেছিলেন, ‘সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা, দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা।’


জবি/হাকিম মাহি