২০০৭-২০১৫ : বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারতের যত লড়াই
ক্রীড়া ডেস্ক : বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। এদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। দুটি দেশের মধ্যে ঘনঘন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হলেও আইসিসির ইভেন্টে হরহামেশাই দেখা হয়।
১৯৯৯ সাল থেকে বিশ্বকাপ খেলছে বাংলাদেশ। কিন্তু ২০১১ থেকে ২০১৫ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সবশেষ তিন আসরের তিনটিতেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দেখা হয়েছে! ২০১৯ বিশ্বকাপেও মঙ্গলবার মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। বিশ্বকাপে যা দুটি দেশের টানা চতুর্থ মুখোমুখি লড়াই।
তার আগে চলুন পূর্বের তিন বিশ্বকাপে ভারত-বাংলাদেশের মুখোমুখি লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করে আসা যাক।
বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম দেখা হয় ২০০৭ সালে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে আয়োজিত এই বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বারমুডার সঙ্গে পড়েছিল বাংলাদেশ। টাইগাররা তাদের প্রথম ম্যাচেই ১৭ মার্চ ভারতের মুখোমুখি হয়। প্রথম দেখাতেই ভারতকে চমকে দেয় বাংলাদেশ। তারুণ্যদীপ্ত মাশরাফি, তামিম, সাকিব, মুশফিকের দৃঢ়তায় তুলে নেয় এক মহাকাব্যিক জয়।
কুইন্স পার্ক ওভালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারত প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোহাম্মদ রফিক ও আব্দুর রাজ্জাকের বোলিং তোপে ৪৯.৩ ওভারে মাত্র ১৯১ রানে অলআউট হয়ে যায়। ভারতের সৌরভ গাঙ্গুলি একমাত্র অর্ধশত রানের দেখা পেয়েছিলেন (৬৬ রান)। শেবাগ, শচীন, উথাপ্পা, দ্রাবিড়, ধোনিদের ক্রিজে দাঁড়াতেই দেননি মাশরাফি-রফিক-রাজ্জাক। ভারতের দশ উইকেট ভাগাভাগি করে নেন এই তিনজন (মাশরাফি ৪টি, রফিক ৩টি ও রাজ্জাক ৩টি)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ভারত : ১৯১/১০ (৪৯.৩ ওভারে)
বাংলাদেশ : ১৯২/৫ (৪৮.৩ ওভারে)
ফল : বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা : মাশরাফি বিন মুর্তজা।জবাবে তামিম ইকবাল (৫১), মুশফিকুর রহিম (৫৬*) ও সাকিব আল হাসানের (৫৩) অর্ধশত রানে ভর করে ৪৮.৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। জহির খান, অজিত আগারকার, হরভজন সিং ও মুনাফ প্যাটেলের বোলিংয়ের মুখে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছিলেন সেদিন তরুণ তামিম-মুশফিক ও সাকিব। সেটা ছিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ।
এই বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ-ভারত। আগের বিশ্বকাপে টাইগারদের কাছে হার মানায় এই বিশ্বকাপে ভারত ছিল বেশ সতর্ক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ভারত : ৩৭০/৪ (৫০ ওভারে)
বাংলাদেশ : ২৮৩/৯ (৫০ওভারে)
ফল : ভারত ৮৩ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : বীরেন্দর শেবাগ।
টস হেরে মিরপুর শের-ই-বাংলায় ভারত প্রথমে ব্যাট করতে নামে। ৬৯ রানে শচীন টেন্ডুলকারকে সাকিব ও মুশফিক মিলে রান আউট করে ফেরালেও বীরেন্দর শেবাগ ও কোহলির সেঞ্চুরি রানের পাহাড় গড়ে তারা। শেবাগের ১৭৫ ও কোহলির অপরাজিত ১০০ রানে ভর করে ৩৭০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করে ভারত।
জবাবে বাংলাদেশ তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের ব্যাটে ভর করে লড়াই করে শেষ বল পর্যন্ত। কিন্তু ৯ উইকেট হারিয়ে ২৮৩ রানের বেশি করতে পারেনি। ভারতের মুনাফ প্যাটেল বল হাতে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন।
২০০৭ ও ২০১১ বিশ্বকাপের পর ২০১৫ বিশ্বকাপেও ভারতের সঙ্গে দেখা হয় বাংলাদেশের। এবার অবশ্য গ্রুপ পর্বে নয়, কোয়ার্টার ফাইনালে। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে ভারত টস জিতে ব্যাট করতে নেমে এবারও তিন শতাধিক রান সংগ্রহ করে। রোহিত শর্মার ১৩৭, সুরেশ রায়নার ৬৫ রানে ভর করে ভারত ৬ উইকেট হারিয়ে ৩০২ রান সংগ্রহ করে। তাসকিন আহমেদ বল হাতে নেন ৩ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ভারত : ৩০২/৬ (৫০ ওভারে)
বাংলাদেশ : ১৯৩/১০ (৪৫ ওভারে)
ফল : ভারত ১০৯ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : রোহিত শর্মা।
জবাবে বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। উমেশ যাদব, মোহাম্মদ শামি ও রবীন্দ্র জাদেজার বোলিং তোপে ৪৫ ওভারে ১৯৩ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
অবশ্য এই ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড ও আলিম দার।
এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। আগের তিনবারের দেখায় বাংলাদেশ জিতেছে ১বার, ভারত ২বার। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষের জয়ের নায়কেরা (মাশরাফি, মুশফিক, সাকিব এবং তামিম) এবারও আছেন দলে। এবার তারা আরো অভিজ্ঞ। আরো চৌকষ। আরো একবার কী হবে ভারতবধ? নতুন এক মাহাকাব্য রচিত হবে কী? জানতে অপেক্ষা করতে হবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ জুলাই ২০১৯/আমিনুল
রাইজিংবিডি.কম