ঢাকা, সোমবার, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

নানা পদক্ষেপে ব্যাংকের সুদহার কমবে, বাড়বে বিনিয়োগ

নাসির উদ্দিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২৭ ৭:২১:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-২৭ ৭:২১:১১ পিএম
নানা পদক্ষেপে ব্যাংকের সুদহার কমবে, বাড়বে বিনিয়োগ
Walton E-plaza

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় কমানো, ঋণের গুণগত মান উন্নয়ন এবং যৌক্তিক মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের মতো পদক্ষেপ নিলে সুদহার কমানো সম্ভব হবে। এতে অর্থনৈতিক সূচকের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।

সুদ হার না কমার অন্যতম কারণ খেলাপি ঋণের উচ্চ সুদ হার। বিশ্বের অন্যান্য দেশে খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানায় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরকার এ ধরণের উদ্যোগ নিতে পারে যা খেলাপি ঋণকে নিয়ন্ত্রণ এবং সুদহার কমাতে সহায়তা করবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘ইন্টারেস্ট রেট অ্যান্ড এক্সপানশান অব ব্যাংক ক্রেডিট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএম-এর ড. মোজাফফর আহমদ চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএম-এর অধ্যাপক এবং পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন ও পরামর্শ এবং প্রশাসন ও হিসাব) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী। তিনি তার বক্তব্যে সুদহারের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেন।

বৈঠকে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক মোঃ নেহাল আহমেদ। চার সদস্যের একটি গবেষণা দল এ গবেষণা সম্পন্ন করেন। গবেষণা দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহেল মোস্তফা, বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক রেক্সোনা ইয়াসমিন এবং বিআইবিএমের অনুষদ সদস্য এবং মহাব্যবস্থাপক মো: আব্দুল কাইউম।

মূল প্রবন্ধে বিআইবিএমের অধ্যাপক মোঃ নেহাল আহমেদ বলেন, ঋণ গ্রহীতারদের উচ্চসুদহার ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বড় বাঁধা। যা ঋণ পরিশোধে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উপরন্তু উচ্চ সুদের কারণে পণ্য উৎপাদনে খরচ বাড়ায় রফতানিমুখী শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সুতরাং ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে আসা দরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিআইবিএম এর মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মহাঃ নাজিমুদ্দিন বলেন,  সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বত্র গত কয়েক বছর ধরে সুদহার কত তা আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সুদহার কম থাকলে বিনিয়োগে গতি বাড়ে। ভিশন-২০৪১, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ডেল্টা প্ল্যানের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে সুদের হার কমিয়ে আনতে হবে। যাতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হয়। সরকার এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

বিআইবিএম এর ড. মোজাফফর আহমদ চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন,  সরকার উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমান সরকার অর্ন্তভূক্তিমূলক ব্যাংকিংয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উচ্চ লক্ষ্য অর্জনে সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অসম প্রতিযোগিতা অনেক সময় বিপদ ডেকে আনছে। এটি দ্রুত বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদকেই বিষয়টি দেখভাল করতে হবে। অনেকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হারের কারণে ব্যাংক সুদ কমানো সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেন। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ব্যাংক ঋণের সুদে তেমন কোন প্রভাব পড়ে না। সামাজিক নিরাপত্তায় সঞ্চয়পত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যাংকের ট্রেজারি ব্যবস্থাপনাটা সুষ্ঠু হলে তারল্য সংকটের মধ্যে পড়ে না ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএম এর সাবেক সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলি বলেন,  ব্যাংকের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে খেলাপী ঋণ কমাতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পুরো ব্যাংকিং খাতকে খেলাপী সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নেপাল এবং চীনে ঋণ খেলাপিরা ট্রেন এবং বিমানের টিকেট কিনতে পারেন না। এ ধরণের উদ্যোগ বাংলাদেশেও নেওয়া যেতে পারে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ আগস্ট ২০১৯/নাসির/সাজেদ

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       
Walton AC
Marcel Fridge