ঢাকা, সোমবার, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, ০৬ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

৬ মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-১৬ ৮:৩১:৩৫ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-১৬ ৫:৩৪:৪৯ পিএম

গত ছয় মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমলেও তা আশানুরূপ নয়।

ব্যাংকগুলোর ঋণ অবলোপন ও সরকারের দেয়া সুবিধা ২ শতাংশ পরিশোধ করে ঋণ নিয়মিত করার কারণে খেলাপি ঋণ আদায়ে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৪৩ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। গত বছরের জুনে যা ছিল ৫৩ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। ছয় মাসে এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণ কমেছে ১০ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা।
সম্প্রতি অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে বার্ষিক কর্মসম্পদান চুক্তির(এপিএ) সংক্রান্ত এক বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ব ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের এই পরিসংখ্যান উত্থাপন করা হয়। খেলাপি ঋণের শীর্ষে জনতা ব্যাংক। এর পরে ক্রমান্বয়ে রয়েছে সোনালী, বেসিক, অগ্রণী, রূপালী ও বিডিবিএল।

জনতা ব্যাংক: গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। গত বছরের জুন শেষে ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ২০ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে ৬ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। এর আগে গত দুই বছর ধরে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে। গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ১১ হাজার ১১৫ কোটি টাকা বেড়েছিল। এর পূর্ববর্তী (২০১৭-২০১৮) অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছিল ২ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা। এই ব্যাংকের শীর্ষ ঋণ খেলাপির তালিকায় রয়েছে ‘অ্যানন ট্রেক্স’ নামে একটি গ্রুপ। যারা জালিয়াতি করে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা এই ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নিয়েছে।

সোনালী ব্যাংক: গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছিল ১০ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। গত বছরের জুন শেষে ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ১২ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে ১ হাজার ৯১২ কোটি টাকা।

বেসিক ব্যাংক: গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা। গত বছরের জুন শেষে ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৯ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে ১ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে, গত দুই বছর ধরে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়ছে। সর্বশেষ ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬৭০ কোটি টাকা বেড়েছিল। এর পূর্ববর্তী (২০১৭-২০১৮) অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা বেড়েছিল। আবদুল হাই বাচ্চুকে এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পর থেকে ব্যাংকটির অধঃপতন শুরু হয়।

অগ্রণী ব্যাংক : গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের জুন শেষে ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৬ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে ১৪৭ কোটি টাকা। ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে, গত দুই বছর ধরে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে। সর্বশেষ গত অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ৪৬৯ কোটি টাকা বেড়েছিল। এর পূর্ববর্তী (২০১৭-২০১৮) অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছিল ৫৫৮ কোটি টাকা।

রূপালী ব্যাংক : গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। গত বছরের জুন শেষে ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৪ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে ১৫৪ কোটি টাকা। ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে, সর্বশেষ গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫৩৬ কোটি টাকা কমেছে। তবে এর পূর্ববর্তী (২০১৭-২০১৮) অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ১৫৭ কোটি টাকা বেড়েছিল।

বিডিবিএল ব্যাংক : গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৭৬৪ কোটি টাকা। গত বছরের জুন শেষে ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৯০১ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে বিডিবিএল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে ১৩৭ কোটি টাকা। ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে, সর্বশেষ গত অর্থবছরে বিডিবিএল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৯৬ কোটি টাকা বেড়েছিল। তবে এর পূর্ববর্তী (২০১৭-২০১৮) অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ৪৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা কমেছিল।

ঋণ অবলোপন ও খেলাপি ঋণের ২ শতাংশ নগদ জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ নিয়মিতকরণের সুযোগ দিয়ে এখনো আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। তবে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ আদায়ে আগের চেয়ে অনেকটা সচেষ্ট। তারা আশা করছে খুব শিগগির খেলাপি ঋণ আদায়ে ইতিবাচক সাড়া মিলবে।

 

ঢাকা/হাসনাত/জেনিস