ঢাকা, বুধবার, ২৫ চৈত্র ১৪২৬, ০৮ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

স্টেকহোল্ডাররা শেয়ারবাজার স্থিতিশীল রাখতে তৎপর

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-১২ ২:৪৫:৪৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-১২ ৪:৫৭:৪১ পিএম

দেশের শেয়ারবাজার যখন সংকটে পড়ে তখন স্টেকহোল্ডাররা তৎপর হয়ে ওঠে। বর্তমানে সংকট কাটিয়ে স্থিতিশীল বাজারের লক্ষ্যে তারা ফের তৎপর। তাদের উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে বাজার স্থিতিশীল রাখতে নীতি সহায়তাও দেয়া হয়েছে। যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা।

দেশে করোনাভাইরাস আতঙ্কে চলতি সপ্তাহের শুরুতে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। এর পরপরই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তৎপরতায় দ্রুত সময়ে তা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই-র তৎপরতার মধ্যে ছিল, তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর এমডিদের সঙ্গে বৈঠক। গত মঙ্গলবার ওই বৈঠকে ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহবান জানায় ডিএসই। ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকেও বাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর আশ্বাস দেয়া হয়। এ আশ্বাসের পর বাজারে আস্থার সংকট কাটতে শুরু করে। ফলে বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে বাজারে পরপর দুই দিন শেয়ার দর বাড়ার কারণে কিছুটা মুনাফার আশায় আজ সপ্তাহের শেষ দিন সকাল থেকে অনেকে শেয়ার বিক্রি করেছে। এক পর্যায়ে বিক্রি চাপ বেড়ে যাওয়ায় সূচক নিম্নমুখি হলেও দুপুরের দিকে তা উত্থানের ধারায় ফিরেছে। তাতে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হক বলেন, বাজারের তারল্য সংকট কাটতে ব্যাংকগুলোকে বাজারে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ দিয়ে নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমরা তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর এমডিদের সেই সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছি। এতে একদিকে বাজার গতিশীল হবে, অপরদিকে বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর মুনাফা করা সম্ভব হবে। তবে মাঝেমধ্যে সূচক কমলে তাতে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য্য ধারণ করা উচিত।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব এইচ মজুমদার বলেন, চলতি সপ্তাহে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিনিয়োগকারীরা কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। এর ডিএসই ব্যাংকগুলোর এমডিদের নিয়ে বৈঠক করে বাজারে সাপোর্ট দেয়ার যে আশ্বাস দিয়েছে, তাতে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে শুধু আশ্বাস নয়, বাজারে তারল্য সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগের যে সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে বাজার স্থিতিশীল হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের প্রত্যেক শিডিউল ব্যাংক শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল থেকে দুইশ কোটি টাকা পাবে। তহবিলের অর্থ ৫ শতাংশ সুদে পাবে ব্যাংকগুলো, যার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৫ সালে। এদিকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে বেশ কিছু ব্যাংক তহবিল গঠন করা শুরু করেছে।এসব অর্থ বিনিয়োগ করলে বাজার স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার ডিএসইতে আগের কার্যদিবসের চেয়ে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে ৪ হাজার ২৮৭ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। ওই দিন দেশে করোনাভাইরাস রোগী শনাক্তের খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরের কার্যদিবস সোমবার ডিএসইএক্স সূচক ২৭৯ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ওইদিনই বৈঠক আহবান করে ডিএসই। বৈঠকের পরদিন মঙ্গলবার থেকে সূচক ঘুরে দাঁড়িয়েছে।


ঢাকা/ফারুক মিয়া/তারা

     
 

ট্যাগ :