ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৬ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

কর রেয়াতের সুপারিশ সিপিডির

বিশেষ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৫ ১১:৪২:১৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৫ ১১:৪২:১৬ পিএম

করোনাভাইরাস সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হলেও দেশের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে, বিভিন্ন পেশাজীবীদের আয় কমে যাবে। ফলে আয়কর পরিশোধ করা কঠিন হবে। তাই আগামী ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে কিছু খাতে আয়কর রেয়াতের সুপারিশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

আসন্ন অর্থবছরের বাজেটের ওপর কয়েকটি প্রস্তাব সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পেশ করা হয়েছে বলে সিপিডি সূত্রে জানা গেছে। 

সূত্র জানায়, করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী অর্থবছরের বাজেটে কিস্তিতে করপোরেট কর পরিশোধ, ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর মওকুফের সীমা বৃদ্ধি এবং করোনা রোগীকে যেসব চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সেবা দিচ্ছেন তাদের জন্য বিশেষ বোনাস দেওয়ার সুপারিশ করেছে সিপিডি। একই সঙ্গে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে সময় নির্ধারণ করে চলতি ও আগামী অর্থবছরে কর রেয়াত দেওয়ারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

সিপিডির পক্ষ থেকে দেশে অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, করোনার কারণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। এর ফলে আগামীতে কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট আদায় এবং সম্পূরক শুল্ক থেকে রাজস্ব আহরণ কমে যাবে। কারণ, দেশে ইতোমধ্যে রপ্তানি আয় কমেছে। করোনার কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষের চাকরিচ্যুতি ঘটবে। কমে যাবে আয়কর আদায়ের হার। শুধু তাই নয়, বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আয় কমবে। ফলে করপোরেট কর আদায়ও কমবে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি হবে। একই সঙ্গে বেড়ে যাবে বাজেট ঘাটতি। চলতি অর্থবছরে বাজেটে এই ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে জিডিপির ৫ শতাংশ। কিন্তু সিপিডি বলছে, এই ঘাটতি সাড়ে ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সিপিডির পক্ষ থেকে আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন শ্রেণির আয়করদাতাদের কিছু সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেমন: বর্তমানে ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর মওকুফের সীমা হচ্ছে আড়াই লাখ টাকা। সিপিডি এই সীমা বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরে তা সাড়ে ৩ লাখ টাকায় উন্নীত করার কথা বলেছে। একই সঙ্গে আয়করের প্রথম তিনটি স্ল্যাব পরিবর্তনেরও সুপারিশ করেছে সিপিডি। বিদ্যমান স্ল্যাব ১০, ১৫ ও ২০ পরিবর্তে ৫, ১০ ও ১৫ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সিপিডি শঙ্কা ব্যক্ত করে বলেছে, আগামী অর্থবছরে কর হার বা করের আওতা বাড়ানো সরকারের জন্য কঠিন হবে। এর পরিবর্তে এনবিআরের উচিত হবে কর মনিটরিং জোরদার করা, যাতে বিদ্যমান করদাতারা যেন কর ফাঁকি দিতে না পারে এবং আমদানি-রপ্তানির নামে মুদ্রাপাচার যেন না ঘটে।

এনবিআরের উচিত করোনার কারণে যেসব কৃষিভিত্তিক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের কর রেয়াত সুবিধা দেয়া। এক্ষেত্রে তাদেরকে মার্চ-জুন প্রান্তিকে ভ্যাট মওকুফ করে দেওয়া যেতে পারে এবং এটা আগামী অর্থবছরে অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। অভ্যন্তরীণ শিল্প ও রপ্তানিমুখী শিল্পকে তাদের করপোরেট কর কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া এবং এই কিস্তি সুবিধা আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের টার্নওভার ট্যাক্স মওকুফের সীমা ৫০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি টাকায় উন্নীত করারও সুপারিশ করেছে সিপিডি। এই সুবিধা চলতি অর্থবছরের পাশাপাশি আগামী অর্থবছরেও দেওয়া উচিত বলে মনে প্রতিষ্ঠানটি।

হাসপাতাল, ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ড্রাস্টি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আনুষঙ্গিক প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট কর কমানোর কথাও বলেছে সিপিডি। এই সুবিধা চলতি বছরের মার্চ-জুন এবং আগামী অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেসব চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন তাদেরকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করেছে সিপিডি। এক্ষেত্রে সরকারি চিকিৎসক-নার্সদের একটি বোনাস এবং বেসরকারি চিকিৎসক-নার্সদের আয়কর মওকুফের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।


ঢাকা/হাসনাত/রফিক