ঢাকা     বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২০ ১৪২৭ ||  ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

risingbd-august-banner-970x90

‘ওয়ালটন পুঁজিবাজারে গেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে'

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৪৭, ৮ জুলাই ২০২০  
মো. সায়েদুর রহমান

মো. সায়েদুর রহমান

মো. সায়েদুর রহমান, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি।  পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক ও ইবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।  ব্যাংকিং, বিমা, মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ব্রোকারেজ হাউজসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৩ বছরের পেশাদার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। পুঁজিবাজার ও মার্চেন্ট ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন নিয়ে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাইজিংবিডির জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নুরুজ্জামান তানিম।

রাইজিংবিডি: পুঁজিবাজারের বর্তমান আবস্থা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

সায়েদুর রহমান: পুঁজিবাজার ইতিবাচক দিকেই যাচ্ছে।  একটি বড় ক্রাইসিসের মধ্যে থেকে আমরা উঠে আসছি।  পর্যায়ক্রমে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে  সময় লাগবে।  বিনিয়োগকারীদের নতুন বিনিয়োগ আসতে যে সময় দরকার সে সময় পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।  এখনও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্বিধা কাজ করছে।  এটা কেটে গেলেই পুঁজিবাজার গতিশীল হবে।

রাইজিংবিডি: পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে তারল্য সংকট রয়েছে। এ সংকট কীভাবে মোকাবিলা করতে পারি?

সায়েদুর রহমান: পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারিতে নির্দেশনা জারি করে ব্যাংকগুলোকে ২০০ কোটি টাকা করে অতিরিক্ত বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছিল। সেই বিনিয়োগটা কিন্তু এখনও বাজারে আসেনি। ওই বিনিয়োগটা বাজারে আসা দরকার। এতে পুঁজিবাজারে তারল্য কিছুটা বাড়বে। এছাড়া পুঁজিবাজারে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ফান্ড প্রয়োজন।  বন্ড বা প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করে পুঁজিবাজারে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তারল্য বৃদ্ধির সুযোগ করে দেওয়া যেত পারে।  এ বিষয়ে নীতি নির্ধারণী মহলের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।

রাইজিংবিডি: বর্তমান প্রেক্ষপটে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা কেমন রয়েছে?

সায়েদুর রহমান: এ মুহূর্তে শুধু মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো নয়, পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারী কোনও প্রতিষ্ঠাই ভালো নেই।  পুঁজিবাজার যখন ভালো থাকে না, তখন তার সঙ্গে সম্পৃক্ত কারোরই ভালো থাকার সুযোগ নেই।  ব্রোকারেজ বা সিকিউরিটিজ হাউজগুলোর মূল ইনকামই হচ্ছে কমিশন। সম্প্রতি করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পুঁজিবাজার দুই মাস বন্ধ ছিল।  বাজার খোলার পরেও যে পরিমাণ লেনদেন হচ্ছে তাতে কমিশন ইনকাম নেই বললেই চলে।  মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর পোর্টফোলিও ও ইস্যু ব্যবস্থাপনা থেকে ইনকাম আসে। বর্তমানে ব্রোকারেজ হাউজের মতোই মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কমিশন ইনকাম নেই।  ইস্যু ব্যবস্থাপনা তথা প্রাথমিক গণপ্রাস্তব (আইপিও) গত এক বছর ধরে নেই।  ইস্যু নেই অর্থাৎ ইনকাম নেই।  এ পরিস্থিতিতে আমরা ব্যবসা ছেড়ে চলে যেতে পারব না।  আমাদেরকে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। সেজন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।

রাইজিংবিডি: সম্প্রতি ওয়ালটন হাই-টেক আইপিও’র অনুমোদন পেয়েছে।  বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজারে ওয়ালটনের অন্তর্ভুক্তিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

সায়েদুর রহমান: ওয়ালটনের প্রতি মানুষের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। এটা যে পরিস্থিতিতেই আইপিওতে আসুক না কেন, এটা ওভার সাবস্ক্রাইব হবে।  ওয়ালটন পুঁজিবাজারে চলে আসলে তারল্য প্রবাহ বেড়ে যাবে, যা বাজারের ইতিবাচক ধারায় যুক্ত হবে।  ওয়ালটন আসলে পুঁজিবাজারের ৩টি উপকার হবে। প্রথমত, ওয়ালটন পুঁজিবাজারে আসলে সূচকে প্রভাব পড়বে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।  দ্বিতীয়ত, ওয়ালটন পুঁজিবাজারে আসলে লেনদেন বৃদ্ধি পাবে। বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়বে। তৃতীয়ত, যারা ইনভেনটরি করছে, তাদের টাকা রোল ওভার হবে। এটা পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দেবে।  মূলত এ ৩টি কারণেই ওয়ালটনকে দ্রুত বাজারে চলে আসা উচিত।

রাইজিংবিডি: ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের মালিকপক্ষের শেয়ার ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত।  এ মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের জন্য করণীয় কী?

সায়েদুর রহমান: আসলে এটা একটি দুঃখজনক।  এখন সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শেয়ার সেটেলমেন্ট হয়।  মনিটরিং ব্যবস্থা আগের চেয়েও অনেক জোরদার রয়েছে।  এরপরেও এমন একটি ঘটনা ঘটছে, যা মেনে নেওয়ার মতো নয়। তারপরও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ৮২ কোটি টাকার শেয়ার ফ্রিজ করা হয়েছে। এটা বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির বিষয়। এছাড়া ডিএসই বলছে, প্রয়োজনে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের মেম্বারশিপ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের দায় পরিশোধ করা হবে।  আর বিনিয়োগকারীদের উচিত হবে, বিনিয়াগের পূর্বে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর মান, সেবা ও নিরাপত্তার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা উচিত।  তাহলে এ ধরনের ঘটনা থেকে রেহাই পেতে পারেন বিনিয়োগকারীরা।  এ মুহূর্তে পরামর্শ হিসেবে বলতে চাই, জরুরি ভিত্তিতে বিও হিসাবে মোবাইল নম্বর হালনাগাদ করার জন্য বিনিয়োগকারীদের বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। আর হালনাগাদ করা মোবাইল নম্বর কার্যকর হয়েছে কি-না তা পরীক্ষা করে দেখে নিতে হবে।

রাইজিংবিডি: পুঁজিবাজারের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের লক-ইন সময়ে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন কী?

সায়েদুর রহমান: পুঁজিবাজারের বর্তমান প্রেক্ষাপটে লক-ইন সময়ে দ্রুত পরিবর্তন আনা জরুরি।  কারণ বিগত সময়ে যেসব আইপিও এসেছে, তাদের ১০ টাকার শেয়ার ৪০/৫০ টাকা পর্যন্ত উঠতে দেখা গেছে।  লক-ইনের কারণে শেয়ার সরবরাহ কম থাকে।  এতে শেয়ার দর অস্বাভাবিক হয়ে যায়, যা সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে দেখা যায়, লক-ইন ফ্রি হয়ে যখন শেয়ারের সরবরাহ বাড়তে থাকে।  এতে তখন শেয়ার দর কমতে থাকে, যা সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।  যদি শুরুতেই লক-ইন ফ্রি থাকে তাহলে শেয়ার দর অস্বাভাবিক হবে না ও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।  এটা বাস্তবায়ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করা যেতে পারে।

 

এনটি/সাইফ

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়