ঢাকা     রোববার   ০৬ এপ্রিল ২০২৫ ||  চৈত্র ২৩ ১৪৩১

মূ্ল্যস্ফীতি কমাতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে: উপদেষ্টা 

বিশেষ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০৫, ১৪ আগস্ট ২০২৪   আপডেট: ১৪:৪১, ১৪ আগস্ট ২০২৪
মূ্ল্যস্ফীতি কমাতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে: উপদেষ্টা 

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ (ফাইল ফটো)

পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ বাড়ানো ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধসহ মূ্ল্যস্ফীতি  কমানোর বিষয়ে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (১৪ আগষ্ট) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মূল্যস্ফীতি  ও খাদ্য সরবরাহ পরিস্থিতি সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভাশেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেছেন। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর, অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব, শিল্প সচিব, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, মূ্ল্যস্ফীতি অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তার মধ্যে উৎপাদন ও সরবরাহ অন্যতম। আর এসব বিষয়ে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। 

তিনি বলেন, মূ্ল্যস্ফীতি এমন একটি বিষয় যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে আশা করি আগামী ২/১ মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি  সহনীয় পর্যায়ে আনা যাবে।

কৃষি পণ্য উৎপাদন বাড়াতে কৃষকের যা যা প্রয়োজন তা যোগান দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেইসঙ্গে পথেঘাটে চাঁদাবাজি বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আপনারা দেখতে পারছেন,  জিনিসপত্রের দাম কিছুটা কমে আসছে। আমি শুনেছি, সবজির দাম কমে আসছে। যে কারণেই হোক। 

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি শুধু জীবন-জীবিকা না, এটা ইনভেস্টমেন্ট একটা ব্যাপার আছে। বিদেশ থেকে মূল্যস্ফীতির রেটটা দেখে, প্রজেক্ট করে তারা কী করবে, তাদের নেট রিটার্ন কেমন হবে। অতএব ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপার। আমরা জরুরি পদক্ষে নিচ্ছি।

সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়ে অতীতে এমন দেখা গেছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহ উদ্দিন বলেন, এটি নজরে আনা হয়েছে, কথা হয়েছে। আমাদের নজরে কোনো কিছু এড়ায়নি। আমার কিছুটা আইডিয়া আছে।

তিনি বলেন, আমরা বলেছি, আপনারা (সচিব) ফ্রিলি আমাদের বলবেন। আগের মত ভয় করে, একেবারে প্রথমে এসে তোয়াজ করবেন, স্যার ভালো মানুষ এগুলো কিছু বলবেন না। আমাদের ভুল হলে বলবেন, আপনার কাছে তথ্য থাকলে ফ্র্যাংকলি বলবেন। অতএব আগের মত গোপন কিছু থাকবে না। আবার সবকিছু স্বার্থের জন্য ওপেন করা যাবে না। 

তিনি আরও বলেন, একজন গভর্নর নিয়োগ দিতে গেলে অনেকগুলো আইনি ব্যাপার আছে। আমরা তিন দিনে সমাধান করেছি। আমি তাড়াতাড়ি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে কেবিনেটে আলোচনা করেছি, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলেছি। এগুলো অন্য সময় হলে দিত না। আরও তিন মাস লাগতো কাকে দেবে না দেবে, সেটা ঠিক করতে।

অনেকে ভাবছে সাম্প্রতিক সময় যে সহিংসতা হয়েছে তার কারণে ছাগল কাণ্ডের মতিউরসহ অন্যান্য দুর্নীতির বিষয়গুলো ধামাচাপাড়া পড়ে যেতে পারে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কোনো কিছুই ধামাচাপা পড়বে না। এগুলো চলমান থাকবে।

মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রানীতি এ দুটি বিষয় সমন্বয় করে কাজ করবেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নিশ্চয়৷ সমন্বয় করেই কাজ করা হবে৷ তবে সমন্বয়হীনতার জন্য অর্থের অপচয় হয়৷ অর্থের অপচয় রোধ করতে হবে এবং অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে৷ সেটা দেশি সম্পদ হোক বা বিদেশ থেকে ধার করা হোক৷ এ দুটি ক্ষেত্রেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে৷ আমরা অর্থের অপচয় করব না৷

পুরাতন পদক্ষেপ নতুন ক্ষেত্র কীভাবে সফল হবে এমন উত্তরে তিনি বলেন, আমরা নিশ্চয়ই নতুন পদক্ষেপ নিব এবং সে পদক্ষেপের বাস্তবায়ন যাতে হয় সেটা নিশ্চিত করব৷ অনেক জায়গায় দেখেছেন অনেক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হয় না সেটার অনেক কারণ আছে৷ আমরা যেটা নিব সেটা বাস্তবায়ন করবো।

হাসনাত/ইভা 


সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়