ঢাকা, শনিবার, ১৪ চৈত্র ১৪২৬, ২৮ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

থামানো যাচ্ছে না নিষিদ্ধ নোট-গাইডের রমরমা ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-২৫ ১২:১০:০৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-২৫ ১২:৪৭:৫৯ পিএম

শিক্ষা মন্ত্রনালয় অনেক আগেই প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নোট ও গাইড বই নিষিদ্ধ করেছে।

কিন্তু রংপুরের বাজারে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে নোট ও গাইড বই। কিছুতেই থামানো যাচ্ছেনা রমরমা এই ব্যবসা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষককে প্রকাশনী সংস্থাগুলো বিশেষ আর্থিক সুবিধা দিয়ে এসব বই বাজারজাত করছে।

অপরদিকে, এসব নোট ও গাইড বই বিক্রি করে এক শ্রেণির পুস্তক ব্যবসায়ীরা আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে।

তবে জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, বৃহস্পতিবার পুস্তক ব্যবসায়ীদের ডেকেছিলাম। তারা হাইকোর্টের এক কাগজ দেখিয়েছে। ওই কাগজের সতত্যা যাচাই করে খুব দ্রুত নিষিদ্ধ নোট ও গাইড বইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুর মহানগরীর স্টেশন রোড এলাকা ও সিটি বাজারের সামনে জররেজ মাকের্টসহ বিভিন্ন উপজেলায় বইয়ের দোকানগুলোতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণির নিষিদ্ধ গাইড ও নোট বই। এসব বই ব্যবসায়ীদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে অভিভাবকের পকেট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাঞ্জেরী, জুপিটার, গ্যালাক্সি, লেকচার, অনুপম, জননীসহ বিভিন্ন নোট ও গাইড বই বিক্রি হচ্ছে দেদারছে।  শিক্ষাথীদের অভিযোগ বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এসব গাইড ও নোট বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছেন। পুস্তক ব্যবসায়ী এবং পুস্তক প্রকাশনীর প্রতিনিধিরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং শিক্ষকদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এসব নিষিদ্ধ নোট এবং গাইড কিনতে বাধ্য করছেন। এজন্য পুস্তক প্রকাশনীর মালিকরা মোটা অঙ্কের ডোনেশন দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোকে ম্যানেজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

জানা গেছে, সরকার ১৯৮০ সালে আইন করে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকের নোট বই মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশনা, আমদানী, বিতরণ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এছাড়া উচ্চ আদালতের এক রায়ে গাইড ও নোট বই মুদ্রণ ও বাজারজাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অপরদিকে, ২০০৮ সালে নির্বাহী এক আদেশে নোট ও গাইড নিষিদ্ধ করা হয় এবং ২০০৯ সালে দেশের সব্বোর্চ আদালতের এক নির্দেশে নোট ও গাইড বই বিক্রয় সম্পুর্ন নিষিদ্ধ করে এক রায় প্রদান করেন। 

রংপুর নগরীর জিএলরায় রোডের আব্দুর রহিম, শামছুজোহাসহ বেশকজন অভিভাবক অভিযোগ করে জানান, প্রকাশকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের পকেট ভারী করতে বই পাঠ্য তালিকা অর্ন্তভূক্ত করেন। আর আমরা অভিভাবকরা চড়া দামে সেসব বই কিনতে বাধ্য হচ্ছি। অসহায় ছাত্রছাত্রীদের কথা শিক্ষকেরা একবারও চিন্তা করেন না। 

কয়েকটি পুস্তক ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, লেখালেখি করে কিছুই হবে না কারণ রংপুরের পুস্তক ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা সকলকে ম্যানেজ করেই প্রতিবারের মতো এবারো এসব বই বিক্রি করতে মাঠে নেমেছে।

রংপুর প্রেস ক্লাব এলাকার মেসার্স ফারুক লাইব্রেরির সত্ত্বাধিকারী মো. ফারুক বলেন, ‘রংপুর পুস্তক ব্যবসায়ীর নেতারা আদালতের এক কাগজ দিয়ে বলে গেছে, নোট গাইড বই বিক্রিতে কোন বাধা নেই। তাই আমরা এসব নোট গাইড বই বিক্রি করছি।’

রংপুর পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমির আযম চৌধুরী বাবু বলেন, ‘পত্রিকায় যদি প্রশ্ন উত্তর দিয়ে সাজেশন নাম দিয়ে ছাপা হয় তাহলে আমরা বিক্রি করলে তাতে দোষ হবে কেন। আমরা উচ্চ আদালতে আবেদন জানিয়েছি, তার কপি রংপুরের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে দিয়েছি।’



রংপুর/নজরুল/বুলাকী