ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৫ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সালমানের স্মৃতিগুলো এখনো আমাকে তাড়া করে: শাবনূর

রাহাত সাইফুল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০৬ ৮:১৪:৩৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-৩০ ৫:২৬:৪০ পিএম

রাহাত সাইফুল: ‘তুমি আমার’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’ সিনেমার নাম আসলেই ভেসে উঠে তুমুল জনপ্রিয় জুটি সালমান শাহ-শাবনূরের নাম। এই জুটি একসঙ্গে ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ।

নব্বই দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো সালমান শাহর আবির্ভাব। মাত্র চার বছরে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। এই সময় সালমান শাহর সঙ্গে শাবনূরের প্রেমের গুঞ্জন উঠেছিল। আজ সালমান শাহর প্রয়াণ দিবস। সালমান শাহকে স্মরণ করে রাইজিংবিডির এ প্রতিবেদক কথা বলেছেন শাবনূরের সঙ্গে। এ আলাপচারিতার অংশ বিশেষ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

রাহাত সাইফুল: সালমান শাহর সঙ্গে আপনার প্রথম দেখা কীভাবে?

শাবনূর: আমি তখন সপ্তম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীতে উঠেছি মাত্র, চলচ্চিত্রে আসিনি। এহতেশাম দাদুর সঙ্গে এফডিসিতে যেতাম। একদিন দাদুর সঙ্গে এফডিসিতে গিয়েছি, সেদিন ঝরনা স্পটে সালমান শাহ শুটিং করছিল। সোহানুর রহমান সোহান ছিলেন পরিচালক। তখন দূর থেকে একটু দেখেছিলাম সালমানকে। তখনো তার কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি। নতুন নায়ক এসেছে— এতটুকু জেনেছি। এর মধ্যে আমি ‘চাঁদনী রাতে’ সিনেমায় কাজ শুরু করি। এর মধ্যে সালমান শাহর ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তি পায় এবং সুপারহিট হয়। তখন আমার সঙ্গে ‘তুমি আমার’ সিনেমার অফার এলো। রাজি হলাম। আমি ও সালমান প্রথম শুটিং করি একটি বাসায়। সেখানে আমাদের প্রথম শট ছিল একটি ঝগড়ার। দৃশ্যটা ছিল এমন— আংটি পরা নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছে। এভাবেই তার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা।

রাহাত সাইফুল: আপনার দৃষ্টিতে সালমান শাহ কেমন প্রকৃতির ছিলেন?

শাবনূর: সালমান অসম্ভব চঞ্চল ছিল। সবসময় সেটের মধ্যে দুষ্টুমি করত। ওর কাছে সবসময় একটা রুমাল থাকত। সারাক্ষণ রুমাল ঘুড়াত। ডন ও ফারুকের সঙ্গে ওর ভালো সম্পর্ক ছিল। সালমান রুমাল ঘুরাত আর সবাইকে রুমাল ব্যবহার করে গুলতির মতো মারত। ডন বা ফারুক ব্যথা পেয়ে বলত, লাগে তো! তারপরও সালমান শুনত না। মজা করেই সে কাজটা করত। এই হলো সালমানের দুষ্টুমি! দেখা গেছে এই কথা বলছে, আবার একটু পরই হাওয়া! সালমান যখন এফডিসিতে গাড়ি নিয়ে ঢুকত তখন সবাই বুঝতে পারত সালমান গাড়ি চালাচ্ছে। ও একটু ভিন্নভাবে গাড়ি চালাত। দেখা গেছে এক জায়গাতে বসেই গাড়ি ঘুড়িয়ে ফেলত। প্রচণ্ড রাফ ড্রাইভ করত কিন্তু ব্যালেন্স ঠিক থাকত। সালমান শাহ ভালো মনের মানুষ ছিল। বড় মনের মানুষ ছিল। ব্যক্তি হিসেবে খুবই ভালো ছিল। সেটে কোনো মুরুব্বি ঢুকলে আমি কখনই দেখিনি সে বসে থেকেছে। উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান করেছে এবং বসার জন্য চেয়ার এগিয়ে দিয়েছে। আরেকটি ব্যাপার, সে যত চঞ্চলই হোক, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে চেঞ্জ হয়ে যেত।

রাহাত সাইফুল: সালমান শাহর সঙ্গে আপনি ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার সঙ্গে আপনার কোনো স্মৃতি শুনতে চাচ্ছি।

শাবনূর: একবার বন-জঙ্গলের মধ্য দিয়ে অনেক দূরের পথে যাচ্ছিলাম। রাস্তাটা খুব খারাপ ছিল। সালমান ড্রাইভারকে বলল, ‘এই তুমি সিটে বসো আমি গাড়ি চালাচ্ছি।’ এরপর ও খুব স্পীডে গাড়ি চালাতে লাগল। আমরা তো সবাই কাত হয়ে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। গাড়িতে ছিলাম আমি, সালমান, সালমানের স্ত্রী সামিরা, আমার মা। মা ভয় পেয়ে বলেছিল, ‘বাবা একটু আস্তে চালাও।’ সামিরাও সেদিন গাড়ি আস্তে চালাতে বলেছিল। উত্তরে সালমান বলেছিল, ‘দেখছ না, রাস্তা খারাপ। আমার তো তাড়াতাড়ি যেতে হবে।’ সালমানের সঙ্গে অসংখ্য স্মৃতি এখনো আমাকে তাড়া করে। একবার কক্সবাজারে শুটিং করছিলাম। শুটিং শেষ। পরিচালক ক্যামেরা ক্লোজ করেছেন। সবাই মিলে হইহুল্লোর করছি। তখন অনেক রাত। সালমানের মনে হলো বারবিকিউ করবে। ইউনিটের সবাইকে নিয়ে বারবিকিউ করতে চলে গেল সৈকতে। রাতে মশাল জ্বালিয়ে আমরা একসঙ্গে বারবিকিউ করলাম। সালমানের সঙ্গে স্মৃতিগুলো এখনো মনের ভেতর জ্বলজ্বল করে।

রাহাত সাইফুল: সালমান শাহর সঙ্গে আপনার সর্ম্পক কেমন ছিল?

শাবনূর: সালমান আমাকে সব সময় ‘পিচ্চি’ বলো ডাকত। বলত, ‘এই পিচ্চি এদিকে আয়।’ আমাকে বলত, ‘আমার তো কোনো বোন নেই তুই আমার বোন।’ দেখা গেছে, সামিরা তার ড্রেস ম্যাচিং করে দিচ্ছে আর সালমান আমার সঙ্গে কথা বলছে। এমনো হয়েছে আমার দু-একটা ড্রেস সামিরা ঠিক করে দিয়েছে। কখনো কখনো সামিরা আমার কানের দুল ম্যাচিং করে দিয়েছে— এভাবে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। এ ধরনের মজার ঘটনা অনেক ঘটেছে। একবার অনেকগুলো কানের দুল আমি বের করেছি। তখন সামিরা বলল, ‘আমার কাছে দাও আমি বেছে বেছে ম্যাচিং করছি।’

রাহাত সাইফুল: সালমান শাহ ও আপনাকে নিয়ে চলচ্চিত্র পাড়ায় বেশ গুঞ্জন রয়েছে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

শাবনূর: শোবিজ তারকাদের নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকবেই। অচেনা মানুষকে নিয়ে গুঞ্জন থাকে না। আমাদের নিয়ে লেখালেখি না হলে তো মানুষ খবর পড়বে না। শাবনূর সালমানকে নিয়ে কিছু লিখলে সাধারণ মানুষের আগ্রহ একটু বেশি থাকবে। পত্রিকার কাটতি হবে। আসলে আমাদের নিয়ে যে প্রেমের গুঞ্জন সেটা সত্যি নয়। আমাদের নিয়ে যদি সমালোচনা না হয় তা হলে আমরা কেমন শিল্পী? যার বেশি নাম তারই তো বেশি বদনাম এটাই তো নিয়ম। এর বাইরে কিছু দেখছি না।

রাহাত সাইফুল: দীর্ঘদিন চলচ্চিত্রে আপনাকে দেখা যাচ্ছে না। চলচ্চিত্র নিয়ে কী ভাবছেন?

শাবনূর: চলচ্চিত্রে অভিনয় করার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণ করার কথা ভাবছি। এজন্য অনেকদিন ধরে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তুতিও নিচ্ছি।

রাহাত সাইফুল: রাইজিংবিডিকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

শাবনূর: রাইজিংবিডিকেও ধন্যবাদ।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯/রাহাত/শান্ত

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন