পুরস্কৃত ছোট ছবি ‘আকাশে’
সিলেট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা সিনেমাটোগ্রাফি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আকাশে’। এটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন আহসান স্মরণ। চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন সমর ঢালি।
এবারের উৎসবে ১১২টি দেশ থেকে ৩ হাজার ৬১টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে নির্বাচিত ১০৯টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। সেখান থেকে সেরার পুরস্কার জিতেছে ‘আকাশে’।
এমন প্রাপ্তিতে আনন্দিত চিত্রগ্রাহক সমর ঢালি। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন—‘বেশ সময় নিয়ে কাজটি করেছি। এটি ছোট ছবি হলেও ছয় দিন শুটিং করেছি। চিত্রনাট্যে রাতের দৃশ্য কম ছিলো, তাই বেশি দিন লেগেছে। দৃশ্যের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি শট ধরার চেষ্টা করেছি। এ ক্ষেত্রে পরিচালকের পরিকল্পনা এবং টিমের সবার সহযোগিতা একটি ভালো দৃশ্য পেতে সহায়তা করেছে।’
সিনেমাটির গল্পে আকাশ অপরিহার্য বিষয়। কিন্তু শুটিং হয়েছে শীতের সময়ে। সেই অভিজ্ঞতা জানিয়ে সমর ঢালি বলেন—‘একটি পরিষ্কার আকাশ চেয়েছিলাম। শুটিংয়ের করেছি শীতকালের শেষ দিকে। এ সময় কুয়াশা প্রধান অন্তরায় ছিলো। এজন্য আকাশ পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে শট নিয়েছি। পরিচালক আহসান স্মরণ যথেষ্ট সময় দিয়েছেন। কখনো তাড়াহুড়ো করেননি। আমাদের টিম ওয়ার্ক যেমন ভালো ছিলো, তেমনি সময়ও ছিলো।’
ক্যামেরায় ব্যস্ত সমর ঢালি
আহসান স্মরণ নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র এটি। এমন প্রাপ্তিতে ভীষণ খুশি নির্মাতা। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন—‘‘আকাশে’ আমার প্রথম নির্দেশিত সিনেমা। অনেক ভুল-ভ্রান্তি আছে। কিন্তু এই সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে প্রথম থেকেই খুব আশাবাদী ছিলাম। সমরদা তার কাজের প্রতি একাগ্রতার কারণে এরকম পুরস্কার ডিজার্ভ করেন। এই পুরস্কার ‘আকাশে’-এর প্রথম অর্জন। সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবেও সমরদার এটি প্রথম অর্জন। আশা করি ভবিষ্যতে আরো ভালো কাজ উপহার দিতে পারবো।’’
গল্প প্রসঙ্গে পরিচালক আহসান স্মরণ বলেন, ‘একুশ বাইশ বছর বয়েসি তরুণ নুরুদ্দীন। সাদাসিধে স্বভাবের এই তরুণ অন্যের জমিতে কাজ করে। ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়েছে। মায়ের মুখ ঠিক করে মনে করতে পারে না। মায়ের সঙ্গে দেখা করার বাঁধভাঙা ইচ্ছে তার। সে ছোটবেলা থেকে শুনে আসছে— মানুষ মরে গিয়ে আকাশে থাকে। তার মাও মরে গিয়ে নিশ্চয় আকাশেই আছেন। মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার আকাশে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছে। আর এই ইচ্ছেকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কাহিনি।’
নুরুদ্দীন চরিত্রটি রূপায়ন করেছেন সুজয় রাজ। চলচ্চিত্রটির অন্যতম চরিত্র হাকিম। এটি রূপায়ন করেছেন ইবনুল কাইয়ুম সনি। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘‘আমার চরিত্রটি গ্রামের স্বল্পবিদ্যা ভয়ংকর টাইপ মানুষজনের প্রতিনিধিত্ব করে। মাকে খুঁজতে আকাশে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে নুরুদ্দীন আমার কাছে পরামর্শ চাইতে এলে, নুরুদ্দীনকে বাঁশের মাচা বানিয়ে তার ওপর বসে আকাশ গবেষণা করার পরামর্শ দিই। আর বাঁশের দূরবীণ বানিয়ে গবেষণা চালিয়ে যেতে বলি। আকাশের সীমা খুঁজে না পেয়ে নুরুদ্দীন আবার আমার কাছে পরামর্শের জন্য ছুটে আসে। এ সময় বিরক্ত হয়ে বলি, ‘আল্লার দুনিয়া যে গোল, সেডা বার বার প্রমাণ কত্তিছে, বারবার তোর সঙ্গে আমার দেখা করায় দেচ্ছে।’ আল্লার দুনিয়া গোল শুনে নুরুদ্দীনের মাথায় নতুন গবেষণার ভূত ঢোকে। সে নতুন করে গবেষণায় মেতে ওঠে এবং নিজের মতো করে আকাশের শেষ সীমানার ঠিকানা পেয়ে যায়।’’
স্বাধীনধারার চলচ্চিত্র নির্মাণকে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে সিলেট চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করে থাকে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ। গত ৬ জুলাই শুরু হয়ে এ উৎসবের পর্দা নামে ১৫ জুলাই।
ঢাকা/শান্ত
রাইজিংবিডি.কম