ঢাকা, শনিবার, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মসজিদ সম্পর্কিত কিছু অজানা তথ্য

আহমেদ শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১৩ ৪:৪৪:৩৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-১৪ ১:০৮:০৪ পিএম

আহমেদ শরীফ : মুসলিমদের আত্মশুদ্ধির মাস রমজান চলছে। তাই বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মসজিদগুলোতে ভিড় বেড়ে চলেছে মুসলিমদের। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মসজিদসহ বেশ কিছু অজানা তথ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।

* ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত কুবা মসজিদ। হযরত মুহাম্মদ (সা:) মক্কা থেকে মদিনায় গিয়ে কুবা এলাকায় ৬২২ সালে এই মসজিদ নির্মাণ করেন।

* বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মসজিদ আছে মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায়। দেশটিতে ৮ লাখের বেশি মসজিদ আছে।

* মুসলিম দেশ না হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি মসজিদ আছে ভারতে। সেখানে আছে ৩ লাখের বেশি মসজিদ।

* বাংলাদেশে বর্তমানে মসজিদ আছে প্রায় ৩ লাখ।

* ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, ঢাকায় মসজিদ আছে অন্তত ৫ হাজার ৭৭৬টি। সেই হিসাবে ঢাকাকে ‘মসজিদের নগরী’ বলা যেতে পারে। এর আগে তুরস্কের ইস্তানবুলকে মসজিদের নগরী বলা হতো। ইস্তানবুলে আছে ৩,১১৩টি মসজিদ।

* ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে চলতি বছরে মসজিদের সংখ্যা ৪০ লাখের কাছাকাছি হতে চলেছে।

* কাদামাটির ইট দিয়ে তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্থাপনা ও মসজিদটি আছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে। মসজিদটির নাম ‘দ্য গ্রেট মস্ক অব জেনে’। ১৯০৭ সালে তৈরি করা মসজিদটির দৈর্ঘ্য ২৪৬ ফুট ও প্রস্থ ২৪৬ ফুট। তিনটি মিনারসহ মসজিদটির সর্বোচ্চ উচ্চতা ৫২ ফুট।

* বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ায় ২০২০ সালের মধ্যে ১০০০টি পরিবেশবান্ধব মসজিদ নির্মাণ করা হবে। সেসব মসজিদ সবুজ গাছপালায় ঘেরা থাকবে। মসজিদ চত্বরে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাসহ পরিবেশবান্ধব সব উদ্যোগ নেয়া হবে।

* বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদের মিনার রয়েছে মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় দ্বিতীয় হাসান মসজিদে। মিনারটির উচ্চতা ৬৮৯ ফুট।

* সৌদি আরবের মদিনায় আল মসজিদ আল নববী গড়ে তুলেছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সা:)। এই মসজিদের চত্বরে আসা হাজার হাজার মানুষকে প্রখর রোদ থেকে রক্ষা করতে ২০১০ সালে গড়ে তোলা হয় অনেকগুলো বড় আকৃতির ফোল্ডেবল ছাতা। প্রতিটি ছাতা ২০ মিটার উঁচু। ছাতাগুলো ১ লাখ ৪৩ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে স্থাপন করা। কন্ট্রাকটর প্রতিষ্ঠান সৌদি বিন লাদেন গ্রুপ, জার্মান প্রতিষ্ঠান এসএল-রাসচ, জার্মান ছাতা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লাইবের, জাপানি প্রতিষ্ঠান তাইয়ো কোগয়ো এই বিশাল প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িত। পিটিএফই নামের বিশেষ ফেব্রিকের মাধ্যমে এই ছাতাগুলো তৈরি করা হয়। উচ্চ প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা এসব ছাতা সূর্যের ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট রশ্মি যেমন রোধ করে, তেমনি বাতাসের চাপ সামলাতে পারে। আগুন প্রতিরোধ করতে পারাসহ বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এসব ছাতা।

* বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাতা গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে মক্কার মসজিদ আল হারাম অর্থাৎ কাবা শরীফের উপরে। মোট আটটি বিশাল ছাতা স্থাপন করা হবে মসজিদুল হারামে। প্রতিটি ছাতা কমপক্ষে ৪৫ মিটার উঁচু হবে, ওজন হবে প্রায় ১৬ টন। উচ্চপ্রযুক্তি সম্পন্ন এসব ছাতা মোট ১৯ হাজার ২০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে থাকবে। এগুলো মদিনার মসজিদে নববীর ছাতাগুলোর মতোই ফোল্ডেবল ও ফুলের পাপড়ির মতো ধীরে ধীরে খুলতে সক্ষম।

* আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদ হলো ইরানের ইমাম রেজা মসজিদ। শিয়াদের এই মসজিদটি মোট ৬৪ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯০ বর্গফুট এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে।

* বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে নির্মিত হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গম্বুজসহ মসজিদ। গোপালপুর উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে ঝিনাই নদীর তীরে ২০১৩ সালে এই মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১০০ কোটি টাকা। মসজিদটির মূল গম্বুজ হবে ৮১ ফুট চওড়া। এর পাশে থাকবে ১৭ ফুট চওড়া সব গম্বুজ। মোট ২০১টি গম্বুজসহ নির্মিত হতে যাচ্ছে মসজিদটি। মসজিদে ৪৫১ ফুট উঁচু একটি মিনার গড়ে তোলা হবে, যা দেশের সবচেয়ে উঁচু মিনার হতে চলেছে।

তথ্যসূত্র: আরব নিউজ, দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন, ডিজাইন লাইক, ডাকস্টারস

 

 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ মে ২০১৯/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন