ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

যে ১১ প্রাণী সারাজীবন একসঙ্গে থাকে

স্বপ্নীল মাহফুজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২১ ৯:৪০:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-২১ ৯:৪০:২৭ পিএম

স্বপ্নীল মাহফুজ : প্রেম-ভালোবাসা কেবলমাত্র মানুষ নয়, পশুপাখির মধ্যেও বিরাজমান রয়েছে। কোনো কোনো প্রাণীর ভালোবাসা থেকে সম্পর্ককে প্রতারিত করে এমন মানুষেরা শিক্ষা নিতে পারে। এ প্রতিবেদনে সারাজীবন একসঙ্গে কাটায় এমন ১১ একগামী প্রাণী সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

* ম্যাকারনি পেঙ্গুইন
৯০ শতাংশেরও বেশি পাখি একগামী বা একজনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকারী, কিন্তু তাদের কেউই ম্যাকারনি পেঙ্গুইনের মতো এত বেশি ভালোবাসা দেখায় না। এ আদুরে দম্পতি একে অপরকে দেখলে নাচে, এটাকে বলে ‘একস্ট্যাটিক ডিসপ্লে’ বা পরমানন্দের বহিঃপ্রকাশ। তারা বুক ফোলায়, একপাশ থেকে অন্যপাশে মাথা দোলায় এবং খুশিতে গদগদ হয়ে এক ধরনের শব্দ করে। তাদের বাচ্চা জন্মালে বাবা বাচ্চাটির দেখাশোনা করে, যখন মা খাবারের সন্ধানে ছুটে বেড়ায়।

* স্যান্ডহিল ক্রেন
মানুষেরা গান ও কবিতার মাধ্যমে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়ে থাকে, অন্যদিকে স্যান্ডহিল ক্রেন জুটি ভালোবাসার কথা জানাতে একই ধরনের শব্দ করে- নারী ক্রেন দুবার এক ধরনের শব্দ করে এবং পুরুষ ক্রেন প্রত্যুত্তরে একবার অনুরূপ শব্দ করে। এর সঙ্গে মনুষ্য জুটির মিল রয়েছে, যেমন- প্রেমিক ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বললে প্রেমিকা বলে ‘আমিও তোমাকে ভালোবাসি’।

* সিহর্স
পুরুষ সিহর্স তাদের পাকস্থলির উপরিস্থ থলিতে বাচ্চা বহনের অনেক আগে সম্ভাব্য নারী সঙ্গীদের লেজের সঙ্গে লেজ পেঁচিয়ে ফ্লার্ট করে এবং একে অপরের চারপাশে নাচে। অন্যদিকে নারী সিহর্স এ ঘটনায় হিংসাত্মক হয়ে ওঠে এবং একজন নির্দিষ্ট পুরুষ সঙ্গী পেতে অন্য নারী সিহর্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।

* ধূসর নেকড়ে
পুরুষ ধূসর নেকড়ে প্রধান ও তার নারী সঙ্গী হলো পাওয়ার কাপল বা শক্তিশালী জুটি। গোত্রের অন্য সকল ধূসর নেকড়ের সামাজিক র‍্যাংক তাদের ওপর নির্ভর করে। এ পাওয়ার কাপল বছরে একবার বাচ্চা নিয়ে থাকে।

* লক্ষীপেঁচা
লক্ষীপেঁচাদেরও ভালোবাসার নিজস্ব ভাষা রয়েছে। পুরুষ লক্ষীপেঁচা সম্ভাব্য সঙ্গিনীদের মৃত ইঁদুর উপহার দিয়ে এবং উচ্চ শব্দের মাধ্যমে ফ্লার্ট করে- আগ্রহী নারী লক্ষীপেঁচা এক ধরনের গম্ভীর শব্দ করে সাড়া দিয়ে থাকে।

 



* শিঙ্গেলব্যাক স্কিঙ্ক

শিঙ্গেলব্যাক স্কিঙ্ক হলো গিরগিটির একটি প্রজাতি যা অস্ট্রেলিয়াতে পাওয়া যায়। এ প্রাণী প্রতি মিলন মৌসুমে একই সঙ্গীর কাছে ফিরে আসে। পুরুষ শিঙ্গেলব্যাক স্কিঙ্ক নারী শিঙ্গেলব্যাক স্কিঙ্কের ভালোবাসা পেতে সোহাগভরা স্পর্শ ও লেহন করে থাকে। তাদের সম্পর্ক ২০ বছরের বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। এমনকি এ প্রাণী জুটি একসঙ্গে হাঁটেও, যেখানে পুরুষ শিঙ্গেলব্যাক স্কিঙ্ক তার সঙ্গীনিকে একটু পেছন থেকে অনুসরণ করে।

* বাল্ড ইগল
নেকড়ে বা শিঙ্গেলব্যাক স্কিঙ্কের মতো বাল্ড ইগলও প্রতি মিলন মৌসুমে একই সঙ্গীর কাছে ফিরে আসে। পুরুষ বাল্ড ইগল ডিমে তা দিয়ে সাহায্য করে এবং জন্মের পর বাচ্চাকে খাওয়ায়।

* গিবন বানর
গিবন বানরদের রিলেশনশিপ মানুষদের রিলেশনশিপের মতো। এ জুটি প্রতারণা করে, সম্পর্কচ্ছেদ করে এবং এমনকি পুনরায় মিলিতও হয়। এ জুটি একসঙ্গে থাকে, একে অপরের লোম পরিষ্কার করে এবং সমানভাবে বাচ্চার দেখাশোনা করে।

* কালো শকুন
কালো শকুনেরা ভয়ানকভাবে ভালোবাসে। এ জুটি সারাবছর ধরে একসঙ্গে থাকে এবং তাদের পরিবারে ডিম এলে তারা ২৪ ঘন্টা পালাক্রমে ডিমে তা দিয়ে থাকে।

 



* বিভার

বিভাররা কিভাবে যৌনসঙ্গী খুঁজে নেয় তা সম্পর্কে তেমন একটা জানা যায়নি, কিন্তু এ প্রাণী একবার কারো সঙ্গে প্রণয়ে জড়ালে সারাজীবন তার পাশে থাকে। চেক প্রজাতন্ত্রের চার্লস ইউনিভার্সিটির একটি জেনেটিক গবেষণায় পাওয়া যায়, বিভাররা তাদের জীবনসঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকে। এটি কেবলমাত্র ইউরোপিয়ান বিভারদের ক্ষেত্রে সত্য। উত্তর আমেরিকার বিভারদের চরিত্রে ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে- তারা মানুষের মতো বিচ্ছেদ ঘটিয়ে অন্য সঙ্গী খুঁজে নেয়।

* রাজহাঁস
রাজহাঁস হলো ভালোবাসার প্রতীক, এর পেছনে যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে। প্রণয়ের পূর্বে পুরুষ রাজহাঁস ও নারী রাজহাঁস গলা বাকিয়ে হার্টের আকৃতি তৈরি করে, ডানা ঝাপটায় এবং বাও করে। তারা এ প্রক্রিয়ায় যে শব্দগুলো করে তা তেমন রোমান্টিক নয়, কিন্তু এটি তাদেরকে বাকি জীবন একসঙ্গে কাটানো থেকে বিরত রাখতে পারে না।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ মে ২০১৯/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন