ঢাকা, বুধবার, ৬ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ আগস্ট ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:
আইলার ১০ বছর

ঝুলন্ত পাড়া শেষ ঠিকানা!

রফিকুল ইসলাম মন্টু : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২৫ ২:৫১:৫১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-২৭ ১:৩২:৩২ পিএম
ঝুলন্ত পাড়া শেষ ঠিকানা!
Walton E-plaza

শিবসা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে তর্জনী তুলে প্রথম বেড়িবাঁধের স্থানটি বোঝানোর চেষ্টা করলেন কালাবগির বাসিন্দা মনিরুজ্জামান। সে অনেক দূরে, সুন্দরবনের কাছাকাছি। এপার থেকে সুন্দরবন বেশ স্পষ্ট দেখা যায়। বললেন, ‘নদী অনেক ছোট ছিল। আর এই নদীতেই ছিল জীবিকা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ শিবসা নদীতে চিংড়ির পোনা ধরে জীবিকা নির্বাহ করলেও সেদিন ফুরিয়েছে। চিংড়ির পোনা ধরায় নিষেধাজ্ঞা, পাশাপাশি সুন্দরবনের কাজেও রয়েছে নানামূখী সমস্যা।’
পাশে দাঁড়ানো রুহুল আমিন সায় দিলেন মনিরুজ্জামানের কথায়। নিজের জমিজমা থাকলেও এখন তা শিবসাগর্ভে। যে বাঁধের পাশে রুহুল আমীনের দোকান, সেটি চতুর্থ বাঁধ। এর আগে আরও তিনটি বাঁধ গিলে খেয়েছে শিবসা। এরপর যে আমরা কোথায় যাবো!- কথার ফাঁকে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন রুহুল আমীন।

ভোরের নীরব-নিস্তব্ধ কালাবগি। ভাটার টানে শিবসার তীর শুকিয়ে আছে। তীরের কাদাপানিতে আটকে আছে দু’চারটি নৌকা। কাঁচা সড়কের দু’ধারে ছড়ানো ছিটানো বাড়িঘর। মাঝে মাঝে দু’একটি দোকানপাট। শিবসা তীরের পশ্চিম পাড়া বলে পরিচিত জায়গাটিতে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ-পূর্বে তাকালে চোখে পড়ে আরও অনেকগুলো ঝুলন্ত ঘর। একটির সঙ্গে আরেকটি ঘর লাগানো। মূল রাস্তা থেকে পাড়ার দিকে রাস্তা থাকলেও তা চলাচলের অনুপযোগী। কবে যে এ রাস্তা নির্মিত হয়েছে, তা জানেন না এলাকার মানুষও। রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকি। জনশূন্য রাস্তায় দু’একজন মানুষ কেবল বেরিয়েছেন। এদের একজন রুহুল আমীন। দোকানের ঝাপ খোলার অপেক্ষায়। অপরিচিত লোক দেখে দাঁড়ালেন। আমাকেই তার প্রশ্ন-
কোথায় যাবেন?
ঝুলন্ত পাড়াটা কোথায়?
এখান থেকেই শুরু। তবে সামনে আরও অনেক বড় পাড়া আছে।
‘ঝুলন্ত পাড়া’ নাম হলো কেন?
সে আর বলবেন না, এখানের সব মানুষই তো এক সময় নিজেদের বাড়িঘরেই ছিল, আইলা এদের সব কেড়ে নিয়েছে। সব হারিয়ে মানুষগুলো রাস্তার ধারে ঠাঁই নিয়েছে। যাবে কোথায়? থাকার জায়গা নেই। খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। কষ্টের জীবন আর শেষ হয় না। এদিকটায় যদি সরকার একটু নজর দিত।

রুহুল আমিনের কথা বলতে বলতে জড়ো হলেন আরও কয়েকজন। নারী-পুরুষ আর শিশুরাও পাশে দাঁড়িয়ে শুনছে কথা। প্রত্যেকেরই কথা আছে। প্রত্যেকেরই আছে আলাদা আলাদা গল্প। কিন্তু সে গল্প শোনার জন্য কেউ এ পাড়ায় আসেন না। রুহুল আমীনের কথার রেশ না কাটতেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা চল্লিশোর্ধ্ব সকিরন বিবি মাথার কাপড়টা মুখের দিকে টানতে টানতে বলতে থাকেন-
আমাগো খবর তো কেউ নেয় না।
কী সমস্যা আপনার?
সমস্যার কী শেষ আছে? নদীর মাঝে থাকি। পানি উঠলে ঘর ডুবে যায়। আয় রোজগার নাই। খাবার পানি নাই। আমাগো ঘরে গিয়াই দেখেন আমরা কেমন আছি। লিখে নিয়ে যান। সরকারকে বলবেন আমাদের দিকে যেন একটু নজর দেন। সকিরনের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে মনিরুল সানা বলেন, ‘ভোট আসে। অনেক মানুষ আসে। যাদের ভোট লাগে তারা সব আশ্বাস দেয়। এটা দিব, ওটা দিব, সব করে দিব। ভোটের পর কারও দেখা পাই না। আইলার পর এতকিছু হলো, এই এলাকার মানুষের অবস্থা বদলালো না। বড় উঁচু বেড়িবাঁধ হইতেছে, আমরা তো থাকবো সে বাঁধের বাইরে। কী লাভ আমাদের? আমরা তো এদেশের মানুষ না।’
মনিরুলের কণ্ঠে ক্ষোভ ঝরে।
 


খুলনার দাকোপ উপজেলার সুতারখালি ইউনিয়নের পশ্চিমে শিবসা নদীর তীরে ‘গেট’ বলে একটি স্থান রয়েছে। একটি বড় স্লুইজ গেট আছে বলে লোকমুখে প্রচলিত হয়ে এলাকাটির নাম ‘কালাবগি গেট বলে পরিচিতি পেয়েছে। মুলত এখান থেকেই মূল কালাবগি শুরু। এখান থেকেই যতই দক্ষিণ-পূর্বে এগুতে থাকি, ততই ঝুলন্ত বাড়ির সংখ্যা বাড়তে থাকে। প্রথমে ছড়ানো ছিটানো ঝুলন্ত ঘর চোখে পড়ে। এরপর সারিবদ্ধ ঝুলন্ত ঘর। সামনে এগোলে আরও দীর্ঘ সারি। নদীর তীরে ঝুলন্ত ঘরের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘরত হলেও ঠিক ভেতর অংশেই আবার ভিন্ন চিত্র চোখে পড়ে। বাঁধের ভেতরে অবস্থাপন্ন মানুষেরা জমিতে ধানের আবাদ করেছে। তবে ঘূর্ণিঝড় আইলার ধাক্কা এখনও অনেকেই সামলে উঠতে পারেনি। নদীতে মাছ ধরে আর বনের কাজে কালাবগির মানুষের জীবিকা নির্বাহ হলেও অনেক আগেই তাতে ভাটা পড়েছে। ঘূর্ণিঝড় আইলায় সব কেড়ে নেওয়ার পর প্রতিনিয়ত এখানকার মানুষের সংকট বেড়েই চলেছে। প্রধানত কাজের সংস্থান হারিয়েছে, সঙ্গে জড়িয়ে আছে জীবন-জীবিকার নানান বিষয়। শেষ বসতভিটাটুকু হারানোর পর আবাসনের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট।

২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় কালাবগির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সে সময় থেকে বহুবার সুতারখালী ইউনিয়নের নামটি সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। তবে উন্নয়ন সে তুলনায় হয়নি। আইলার পরে যে বেড়িবাঁধ নির্মিত হয়েছিল, সেটিও ভাঙনের মুখে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সুতারখালী ইউনিয়নের চারিদিকে নতুন বাঁধ হচ্ছে। কিন্তু সে বাঁধের বাইরে থাকছে কালাবগির অন্তত ৫শ’ পরিবার। নদীর তীরে ভাঙন বলে অনেক দূর দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে ভাঙন তীরের মানুষের ব্যাখ্যা ভিন্ন। তারা বলেন, নদীর ভাঙন রোধ না করে যত শক্ত করেই বাঁধ দেওয়া হোক না কেন, তা টিকবে না। জনপদ নিরাপদ করতে হলে ভাঙন রোধের দিকেই আগে নজর দিতে হবে।
একদিকে নদী ভাঙনের কারণে সহায় সম্পদ হারানো, অন্যদিকে জীবিকার পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় এখানকার মানুষের সংকট বেড়ে যায়। কালাবগি এসে প্রথম যার সঙ্গে কথা বলি, সেই রুহুল আমীন বাড়ি বদল করেছেন নয়বার। মনিরুজ্জামান বাড়ি বদল করেছেন দু’বার। আর মনিরুল সানা জানালেন তিনি বাড়ি বদল করেছেন ১২ বার। ভাঙন এদের জীবন বদলে দিয়েছে। অন্যদের মত এখানকার মানুষেরাও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন। সময়ের বদলে এখন তাদের বসবাস ঝুলন্ত ঘরে। কথাগুলো বলতে গিয়ে ক্ষোভ ঝরে বাসিন্দাদের কণ্ঠে। তারা বলেন, ‘ভোটের আগে বলে সব করে দিব। ভোটের পরে আর ফস করে না।’

নদীর তীর ধরে সরু কাঁচা সড়ক। এঁকেবেঁকে চলে গেছে কালাবগির শেষ প্রান্তে। এপারে কালাবগি গ্রাম আর ওপারে সুন্দরবন। মাঝখানে বয়ে গেছে ভয়াল নদী শিবসা। বাঁশের খুঁটি, কাঠের পাটাতন, পাতার ছাউনি। ছোট ছোট ঘর। বর্ষায় জোয়ারের পানি ছুঁয়ে যায় ঘরের সেই পাটাতন। কখনো বা পাটাতন উপচে ঘর ডোবে। যতদূর হাঁটছি, ঘরের চেহারা একই রকম। ঘরের বৈশিষ্ট্যের কারণে এ-পাড়ার নাম হয়েছে ঝুলন্ত পাড়া। কালাবগির মূল ভূখণ্ডের মানুষজনের জীবনধারা থেকে এদের জীবনধারায় বেশ পার্থক্য। ঝুলন্ত পাড়ার মানুষের অন্যজীবন। ছোট বাক্যে এই ব্যতিক্রমী জীবনধারার যুৎসই ব্যাখ্যা দিলেন ঝুলন্ত পাড়ার শেষপ্রান্তে কালাবগি ফকির কোনার বাসিন্দা ছকিনা বেগম। বললেন, আমরা জলহস্তির মত বাস করি।
কীভাবে?
ঝড়ের সময় বাড়িঘর পানিতে ডুবে যায়। জোয়ারের সময় পানি ওঠে ঘরে। সিগন্যাল পড়লে আল্লারে ডাকি। শুকনো সময় বাইরে রান্না করি, বর্ষায় ঘরের বাইরে বের হওয়ার সুযোগ নেই। শীতকালে বাঘের ভয়। গরম কালে সাপের ভয়। দস্যু আর কুমিরের ভয় তো বছরের সব সময়। এখন বুঝতে পারছেন- আমরা কীভাবে বেঁচে আছি?
ছকিনা বেগমের এই কথাগুলো যেন ওই এলাকার সকলেরই কণ্ঠস্বর। আনোয়ারা বেগম, মর্জিনা বেগম, খাদিজা বেগমসহ পাশে দাঁড়ানোর অন্যদের কথাও একই রকম।

ঝুলন্ত পাড়ায় সারিবদ্ধ ছোট ছোট ঘরের মাঝখানে সরু রাস্তা। মাটিগুলো সরে গেছে। জোয়ারের পানিতে এ রাস্তা ডুবে যায়। এক সময়ের অবস্থাপন্ন মোনায়েম সরদার থাকেন এই পাড়ায়। বয়স কতইবা, ষাটের কাছাকাছি। এখানে দশ কাঠার মূল বাড়ি ছিল তার। নিজের ভিটেতে থাকতেন আর অন্যের জমি চাষ করতেন। ভালোই চলে যাচ্ছিল। কিন্তু আইলা তাদের জীবন পাল্টে দিয়েছে। বলা যায় এখন নদীর ভেতরেই থাকেন তারা। আমরা ঘরের মাচার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলি। ছোট শিশুটা পাটাতনের ওপরে খেলছে। কয়েকজন নারী মাথার ঘোমটাটা আরো একটু টেনে নিজেদের কাজে মন বসিয়েছেন। কেউ এরই মাঝে হাঁসমুরগি, ছাগল, গরুও পালছেন। মোনায়েম সরদারের কণ্ঠ ভারি হয়ে আসে- আমরা কীভাবে বাঁচবো?
 


বাসিন্দারা জানালেন, ঘূর্ণিঝড় আইলার পর এখানকার মানুষের জীবনধারা বদলাতে শুরু করে। আইলার প্রবল জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে বাড়িঘর ভেসে যায়। শেষ অবধি কারও কোনো ভিটে অবশিষ্ট ছিল না। আবার জীবিকার তাগিদে এলাকাও ছাড়তে পারছে না মানুষগুলো। সে কারণে আইলায় যতখানি পানি উঠেছিল, ততখানি উঁচু মাচা পেতে ঘর বানানো হয়েছে। সেই ঘরেই বসবাস করছেন কালাবগির ঝুলন্ত পাড়ার মানুষেরা। আইলার মতো বড় জলোচ্ছ্বাস আর আসেনি, তবে জোয়ারের পানিও ঘরের পাটাতন প্রায় ছুঁয়ে যায়।
কালাবগির ঝুলন্ত পাড়ার পথ ধরে হাঁটলে মনে হবে এটা বাংলাদেশের বাইরের কোনো জনপদ। নাগরিক সেবার ছিটেফোঁটা হয়তো এদের কাছে পৌঁছায়। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে জীবনের অন্যান্য প্রয়োজনগুলো এদের সাধ্যের বাইরে। অথচ বাঁধের ভেতরের অংশে নিজের ঘরে বসে মনিরুজ্জামান বলছিলেন, কালাবগিকে একসময় ‘বাংলার কুয়েত’ বলা হতো। চিংড়ির পোনা ধরে এ এলাকার মানুষ বেশ ভালো ছিল। দাকোপের ব্যাংকগুলোতে যেত এখানকার পোনা ব্যবসায়ীদের টাকা। প্রতিদিন এত টাকা জমা হতে দেখে ব্যাংকের লোকজনও অবাক হয়ে যেতো। মনিরুজ্জামান জানান, সে সময় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলের হাতেই বেশ টাকা-পয়সা ছিল। অনেকে এলাকায় জমি কিনেছে। অনেকে আবার খুলনা কিংবা দাকোপ শহরেও জমি কিনে বাড়ি করেছে। এলাকার অনেকের জমি নদীতে হারিয়ে গেছে। অনেক মানুষ আবার এখানকার ব্যবসা গুটিয়ে পাড়ি জমিয়েছে শহরে। শুধু মাছ কিংবা মাছের পোনার ব্যবসা নয়, এলাকায় কৃষি আবাদ করেও মানুষজন বেশ সচ্ছল জীবন কাটাতো। এখন আর সে দিন নেই। কালাবগিতে ব্যবসা নেই, এখন আর বাইরের মানুষ ফিরেও তাকায় না। এমনকি এই জনপদের উন্নয়নেও সরকারি-বেসরকারি তৎপরতা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।       

এলাকায় কর্মরত খুলনাভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আইলার পর এলাকাটি বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভাঙনে স্থানীয় বাসিন্দারা জমি হারিয়েছে। ফলে তাদের দুর্ভোগ আরও অনেকখানি বেড়ে গেছে। এদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। কারণ অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করতে হলে জমি প্রয়োজন। ওই এলাকায় এমন কোনো জমিও নেই। ফলে উন্নয়ন করতে হলে তাদের অন্যত্র সরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে। এরপর এদের কী ধরণের সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, সেটা দেখতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ঘূর্ণিঝড় আইলার আগের কালাবগির সঙ্গে এখনকার কালাবগির মিল নেই। বহু জনপদ হারিয়েছে নদীতে। বেড়িবাঁধ চলে গেছে। সাইক্লোন শেলটার, স্কুল, রাস্তাঘাটসহ বহু স্থাপনা হারিয়ে গেছে। মানুষ কাজ হারিয়েছে। আর কাজ হারানোর কারণে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট বেড়েছে। স্কুল পড়ুয়া অনেক ছেলেমেয়েরা আর্থিক সংকটের কারণে কাজে নামতে বাধ্য হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা টেকসই হয়নি।
এলাকার সমস্যা প্রসঙ্গে ইউপি সদস্য মোনতাজ সানা বলেন, নদীর ভাঙনের কারণে এখানে বারবার বাড়ি বদল করতে হয়। এর পাশাপাশি নদীতে পোনা ধরা নিষিদ্ধ। ফলে মানুষের হাতে কাজ নেই। অনেককেই ধারদেনা করতে চলতে হয়। বহু পরিবারের পুরুষ এখন কাজের সন্ধানে বাইরে চলে গেছে। এখানকার মানুষ আইলার পর থেকে খুবই সংকটে দিনাতিপাত করছে। সমস্যা সমাধানে এলাকায় রাস্তাঘাট করতে হবে। ব্লক ফেলে নদীর ভাঙন রোধ করতে হবে। তাহলে সংকট অনেকটা কাটবে।

কালাবগির এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত পর্যন্ত হাঁটি। শেষ বাড়িটিতে কেউ থাকেন না। চলে গেছেন অন্যত্র। হাঁটতে হাঁটতে এমন পরিত্যক্ত বাড়ি চোখে পড়ল আরও অনেকগুলো। ঘূর্ণিঝড় আইলার প্রলয়ে নিঃস্ব হওয়া মানুষগুলো আর মাথা তুলতে পারেনি। নিজের বসতভিটা হারানোর পর এদের ঠাঁই হয়েছিল বাঁধের ধারের জমিতে। সেখানেও ঘর বানানোর মতো এক টুকরো মাটি অবশিষ্ট নেই। ফলে জোয়ারের পানির সমান উঁচু খুঁটির ওপর মাচা পেতে বানানো হয়েছে ঘর। ফিরি একই পথে। কানে বাজতে থাকে কালাবগির নাগরিক কণ্ঠ। নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করি- কী করে টিকে থাকবে মানুষগুলো! দেশে এত কাজ হচ্ছে- এই মানুষগুলোর জীবনমান বদলানোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া গেল না!





রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ মে ২০১৯/তারা

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

সংশ্লিষ্ট খবর:


Walton AC
Marcel Fridge