ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, ০৭ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

পাখির মাধ্যমে ব্যায়াম ‘ফিকামলি’

জাহিদ সাদেক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-১৬ ৮:০০:৫৫ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-১৬ ২:১২:৩২ পিএম
ড. আব্দুল ওয়াদুদ

রাজধানীর সোনারগাঁও রোডের একটি বাড়ি। প্রতিদিন সেখানে দর্শনার্থী ভিড় করেন পাখি দেখার জন্য। তাও আবার বিনামূল্যে। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে পাখির বসতবাড়ি। লোকে বলে ‘পাখির চিড়িয়াখানা’। নাম প্লাটিনাম জিম।

পাঠক এটুকু পড়ে ভাবতে পারেন নামের সঙ্গে ‘জিম’ কেন? ঘটনা হলো, সেখানে একটি জিমনেশিয়ামও তৈরি করা হয়েছে। জিমের সদস্যদের পাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি অনুকরণ করে ব্যায়াম, অ্যারোবিক্স, যোগাসন ও মেডিটেশন শেখানো হয়। এক্ষেত্রে পাখির সঙ্গে ব্যায়ামের সম্পর্ক নিয়ে একটি তত্ত্ব আবিষ্কার করা হয়েছে। তত্ত্বের নাম ‘ফিকামলি’। বিষয়টি অনেকটা মনের সঙ্গে দেহের সম্পর্ককেন্দ্রিক। অর্থাৎ দেহের সঙ্গে ব্যায়ামের সম্পর্ক, ব্যায়ামের সঙ্গে বিনোদনের সম্পর্ক, বিনোদনের সঙ্গে পাখির সম্পর্ক।

ফিকামলি তত্ত্বের নেপথ্য মানুষ ড. আব্দুল ওয়াদুদ। কয়েকজন দর্শনার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল ড. ওয়াদুদ নিজেও এক বিচিত্র মানুষ। পাখির সঙ্গে তার প্রেম, পাখির সঙ্গেই সংসার। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি পাখি পালন করছেন। এবং কাজটি করতে গিয়ে ফিকামলি তত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন। আগ্রহী দর্শনার্থীরা তার চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করতে পারেন এবং ফিকামলি তত্ত্ব মেনে ব্যায়াম অনুশীলনও করতে পারেন। তার সংগ্রহশালায় দুর্লভ এবং দামি অনেক পাখি রয়েছে। যেমন  স্কারলেট ম্যাকাও। ১৪ লাখ টাকা মূল্যের স্কারলেট ম্যাকাও দেখতে শুধু সুন্দর নয়, গুণও তার অনেক। ড. ওয়াদুদ জানালেন, পাখিটি মানুষের অনুকরণে কথা বলতে পারে। খেলাধুলাও করতে পারে। এমনকি পাখিটি  খেলনা সাইকেলও চালাতে পারে। এই পাখির সবচেয়ে বড় যে গুণ- সবার সঙ্গে মিশতেও পারে। বিশ্বে এই জাতের পাখি খাঁচায় পোষা আছে মাত্র ২০০। সার্ক দেশগুলোতে এর সংখ্যা ১০টির বেশি নয়। তারই একটি রয়েছে ড. ওয়াদুদের সংগ্রহে।

সুদূর আমেরিকার এই পাখি বাংলাদেশের টিয়া পাখির সমগোত্রীয়। গড়ন তেমনই, তবে আকারে একটু বড়। একবার তাকালে চোখ ফেরানো যায় না। ওয়াদুদের সংগ্রহে আরো আছে ৪০ লাখ টাকায় কেনা বিরল পাখি গোল্ড ম্যাকাও। তিনি বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন অ্যান্ড রিয়ারিং এসোসিয়েশনের মহাসচিব। কথাপ্রসঙ্গে জানালেন, ১৯৯৭ সালে গোল্ড ম্যাকাও দুটি আনা হয় ব্রাজিল থেকে। দৃষ্টিনন্দন এই পাখি মানুষের মতো কথা বলে সকালে ও বিকালে। খেলাধুলা এবং শারীরিক কসরতও করতে পারে। তার সংগ্রহশালায় আরও যে সব বিরল পাখি রয়েছে তা হলো- গ্রীন উইং ম্যাকাও, হ্যান্স ম্যাকাও, কাইক, পিন্যান্ট, সিনাসন, আফ্রিকান গ্রে প্যারট, লেডি আমহাস্ট, রোবিনো, রোজেলা ব্যাক ক্যাপ, বাজরিকা, ইস্টার্ন রোজেলা, আমাজান প্যারট, রক পাবলার বুরকিস, ডায়মন্ড ডাভ, রেইনবো লরী, জানদিয়ার, প্যারাকিট, মুলুকান কাকাতুয়া- এই তালিকা আরো বড়। জানালেন, কিছুদিন আগে তিনি আমেরিকা থেকে ৬০ লাখ টাকা মূল্যের বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও বিরল এক জোড়া প্যারাডাইস পাখিও কিনে এনেছেন। 

ড. ওয়াদুদ বলেন, ‘পাখি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করে। সময়মত ঘুমাতে যায় ও ঘুম থেকে জেগে ওঠে। খাবার গ্রহণের পূর্বে সে বিভিন্ন ধরনের অঙ্গভঙ্গি করে যা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।’ তিনি মনে করেন, সুস্থতা বলতে শুধু শারীরিক সুস্থতা বুঝায় না। শরীর-মন ও আত্মার সম্মিলিত সুস্থতাই প্রকৃত সুস্থতা। শারীরিক সুস্থতার জন্য ফিজিওথেরাপি, মানসিক সুস্থতার জন্য পাখির মাধ্যমে ক্যাথারসিস থেরাপি, আত্মার সুস্থতার জন্য মেডিটেশনের মাধ্যমে করা হয় মলিফিকেশন থেরাপি। অর্থাৎ ফিজিওথেরাপি, ক্যাথারসিস ও মলিফিকেশন- এই তিনের সমন্বয়ে ‘ফিকামলি’ ব্যায়াম। সহজ কথায় ফিকামলি হলো পাখি, ব্যায়াম ও ধ্যান- এই তিনের সমন্বয়ে দেহ, মন ও আত্মার সুস্থতার জন্য বিনোদনভিত্তিক অনুশীলন পদ্ধতি।

সব বয়সের নারী পুরুষের জন্য এই ব্যায়াম সহজ এবং কার্যকরী। বিশেষ করে ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ক্রোধ-টেনশন দূরীকরণ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এই ব্যায়াম অতুলনীয়। বাচ্চাদের মানসিক বিকাশে এই ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে  বলেও জানালেন ড. ওয়াদুদ। তার স্বপ্ন ভবিষ্যতে তিনি দেশের প্রতিটি জেলায় ফিকামলি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করবেন।

 

ঢাকা/তারা

     
 

ট্যাগ :