ঢাকা, রবিবার, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৩১ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

দুর্যোগে শিক্ষার্থীদের টাকা ধার দেবেন শিক্ষক

জাহিদ সাদেক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৫ ২:৪২:৫৮ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-২৩ ১:৩৩:২৮ পিএম
গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ. বি. এস. মানিক মুনসী

বৈ‌শ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় বন্ধ রয়েছে দে‌শের সব শিক্ষা প্র‌তিষ্ঠান। সরকারী নির্দেশনায় সবাইকে ঘরে থাকার জন্য বলা হয়েছে। ফলে কর্মহীন হয়ে অর্থকষ্টে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন সাধারণ মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষ।

এমন সময় সেইসব পরিবারের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে বিরল মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ. বি. এস. মানিক মুনসী। 
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে জবি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তি‌নি। স্ট্যাটাসে লিখেছেন, তি‌নি টাকা ধার দিয়ে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করবেন। যদিও বিষয়‌টিকে তি‌নি ধার নয় বরং কর্যে হাসানা বা উত্তম ঋণ বলছেন।

‌ফেসবুক পেইজে তি‌নি লিখেছেন প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, আশা করি তোমরা ভালো আছো। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা সবাই কঠিন সময় পার করছি। তোমাদের অনেকেরই পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না। কারো কারো চলতে সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।  তোমাদের মেধার উপর এতোটুকু ভরসা আছে যে এক সময় তোমরা অনেক ভালো অবস্থানে থাকবে, হাজার হাজার লাখ লাখ টাকা উপার্জন করবে। এগুলো বলার উদ্দেশ্য হল কেউ যদি এখন আর্থিক কষ্টে থাকো তাহলে নিঃসংকোচে আমাকে ফোনে বা ইনবক্সে জানাতো পারো। আমার সাধ্যমত কর্জে হাসানাহ (উত্তম ঋণ) দিব। দান করে কাউকে ছোট করতে চাই না, এজন্য ঋণ, যা তোমার ভালো সময়ে আমাকে পরিশোধ করে দিবে।

মানিক মুনসী রাই‌জিং‌বি‌ডি‌কে বলেন, যাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না বা যারা টিউশনি করে পড়া‌শোনার খরচ চালায় তা‌দের হয়ত মেস ভাড়া আটকে গেছে। তারা আমাকে বললে আমি সাধ্যমতো তা‌দের সহযোগিতা করবো। বিশেষ করে আমার ডিপার্টমেন্ট (গণিত) বা অন্য কোনো ডিপার্টমেন্টের হলেও আমি আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। ই‌তোমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। আমি তাদের মাসিক খরচ দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।

এই অধ্যাপক মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মাসিক মোটামুটি ভালো সম্মানী পান। তাদের জন্য একজন দরিদ্র শিক্ষার্থীর মাসিক খরচ বহন করা তেমন কোনো ব্যাপার নয়। সুসময়ে শিক্ষার্থী টাকা পরিশোধও করে দিতে পারবে। সেজন্য দরকার ছাত্র-শিক্ষকের মাঝে সু-সম্পর্ক।

দান না করে ‌ধার বা ঋণ দি‌চ্ছেন কেন? এমন প্র‌শ্নের জবা‌বে মা‌নিক মুন‌সী ব‌লেন, ‌দে‌শের এমন প‌রি‌স্থি‌তি তথা বিশ্ব অাজ অ‌ঘো‌ষিত লকডাউ‌নে। অা‌মি শিক্ষক, অামার কর্তব্য যেমন শিক্ষার্থী‌কে শিক্ষা দান তেম‌নি তার ভ‌া‌লোমন্দ খোঁজখবর রাখাও কর্তব্য। আমার সামর্থ্য আছে দান করার কিন্তু আমি চাই না আমা‌র শিক্ষর্থীরা কা‌রো করুণায় বা দানে চলুক। এতে তাদের মধ্যে এক ধরনের অসহায়তা চলে আসতে পা‌রে। কেউ মন খারাপ করতে পারে। কিন্তু আমি‌ যে ঋণ দি‌চ্ছি তারা স্বা‌চ্ছন্দে গ্রহণ করতে পারবে। কেননা যখন তা‌দের সুসময় আস‌বে তারা এটা ফেরত দেবে। এতে এক ধরনের মান‌সিক স্বস্থিবোধ ও সুখ অনুভব করবে তারা।

এ‌দিকে সামা‌জিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে বিষয়‌টির উচ্চ প্রশংসা করেছেন অনেক শিক্ষার্থী। মাইনুল হাসান না‌মের এক শিক্ষর্থী স্ট্যাটাস‌টি শেয়ার দিয়ে বলেন, একজন যথাযথ অ‌ভিভাবকের দা‌য়িত্ব পালন করছেন তি‌নি। এভাবে আমাদের শিক্ষকরা এ‌গিয়ে এলে আমাদের যত সঙ্কটই থাকুক, জয় করতে পারব।

বিষয়‌টির উচ্চ প্রশংসা ক‌রে‌ বিশ্ব‌বিদ্যালয় শিক্ষক স‌মি‌তির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূ‌রে অালম আব্দুল্লাহ‌ বলেন, শিক্ষার্থীর আত্মসম্মান জ্ঞানই তার শিক্ষ‌কের আত্মসম্মান‌কে বহন করে। তাই দান না ক‌রে বরং ঋণ দেওয়াই উত্তম।

এতে ঋণ গ্রহিতা সং‌কোচ ছাড়াই ঋণ গ্রহণ করবে। এ‌টি এই সময় অনুকরণীয় উ‌দ্যোগ।


ঢাকা/তারা