ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘খোদা আমার সন্তানের হাসি মলিন হতে দিও না’

রাহাত সাইফুল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৪ ৯:২৯:১৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-০৪ ৯:৩৫:৩৩ পিএম

করোনাভাইরাস বর্তমান সময়ে একটি আতঙ্কের নাম। প্রতিদিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চি‌কিৎসক, নার্সদের এই ভাইরা‌সে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। এদি‌কে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালেও করোনার সংক্রমণ লক্ষ্য করা গে‌ছে। তারপরও দা‌য়িত্ব থে‌কে স‌রে আসেন‌নি রিপা (ছদ্মনাম)। সংক্রম‌ণের আশঙ্কা র‌য়ে‌ছে জে‌নেও তি‌নি না‌র্সের দা‌য়িত্ব পালন ক‌রে‌ছেন।

রিপা ও তার স্বামী রাজধানীর বা‌সিন্দা। তাদের দুই বছর বয়সী কন্যা সন্তান র‌য়ে‌ছে। স্বামী স্ত্রী দুজনই চাক‌রি ক‌রেন বিধায় সচেতনভা‌বেই মে‌য়ে‌কে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন নানির কাছে।

প্রায় প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত নার্স বা চি‌কিৎসক‌দের সংবাদ বা‌ড়ি ফি‌রে স্বামী‌কে রিপা বল‌তেন। কে জানতো একদিন নিজেও আক্রান্ত হ‌বেন ক‌রোনাভাইরা‌সে! ‌বিষয়‌টি উল্লেখ ক‌রে ফেসবু‌কে পোস্ট দি‌য়ে‌ছেন তি‌নি। তু‌লে ধ‌রে‌ছেন ম‌নো‌বেদনার কথা।

রিপা জ্বর অনুভব করে করোনা টেস্ট করান। গত ২ তারিখ করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। মুহূর্তেই যেন সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায় রিপার। রাইজিংবিডির সঙ্গে আলাপ কালে এমনটাই জানান রিপা।

তি‌নি বিষয়‌টি নি‌য়ে স্ট্যাটাস দি‌লে সাহস আর সান্ত্বনার বাণী শু‌নি‌য়ে‌ছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। কিন্তু কো‌নো কিছুই মা‌য়ের মন‌কে প্র‌বোধ দি‌তে পা‌রে‌নি।  আজ ফেসবুকে মেয়ের ছবি আপলোড ক‌রে রিপা সৃষ্টিকর্তার কাছে আকুতি জানিয়ে লিখেছেন: ‘খোদা আমার সন্তানের সুন্দর হাসিটা মলিন হতে দিও না... সব সময় ভালো রেখো ওকে। যদি আমার ডানা থাকত উড়ে গিয়ে তোকে এক নজর দেখে আসতাম। হে খোদা আমাকে শক্তি দাও সব কিছু কাটিয়ে ওঠার জন্য।’

দোয়া চেয়ে রিপা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এখন বাসায় কোয়া‌রেন্টাই‌নে আছি। বা‌ড়ি ও আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে মোবাইল ফো‌নে কথা হয়। সবাই যোগাযোগ রাখছেন।’

রিপা আরো ব‌লেন, ‘এর আগে অনেকেই পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জা‌নি‌য়ে‌ছেন। কিন্তু আমি কাউকে জানাতে পারি নি।কারণ আমার মন থেকে আসে না। আমার মেয়েটার দুই বছর শেষ হ‌লো।  চাকরির কারণে ও‌কে নি‌য়ে কো‌নো ঈদ, বৈশাখ কোনটাই কাটাতে পারিনি। কখনো হাসপাতা‌লে রোগী বেশি, কখনো ডেঙ্গু, আর এখন তো ক‌রোনার চাপ। সময় এভাবে কেটে যাচ্ছে। তুই রাগ করিস না মা। তোর মা যে ভালো‌বে‌সে এ পেশা বেছে নিয়েছে। তুই বড় হবি তবে সেটা আমার চোখের আড়ালে। ভাবলে কষ্ট হয় কিন্তু রোগীর কথা ভাবলে মনে হয় আমার জন্য হাসপাতাল। ওখানে আমাকে যেতেই হবে। তুই সুস্থ থাক দোয়া করি।’

 

ঢাকা/রাহাত/তারা