ঢাকা, সোমবার, ১৩ মাঘ ১৪২৬, ২৭ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

দিন দিন বাড়ছে অসংক্রামক রোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-২৭ ৬:৪২:০৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২৭ ৬:৪৬:৪৪ পিএম

দেশে দিন দিন অসংক্রামক রোগ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের বহুমাত্রিক পরিকল্পনার পাশাপাশি জনসচেতনতার বিকল্প নেই।

বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য বহুখাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ২০১৮-২০২৫’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, সিরোসিসসহ নানাবিধ অসংক্রামক রোগ এখন প্রায় বেশির ভাগ বাড়িতেই দেখা যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে আমাদের জীবনযাপনে অসতর্কতা। ‘

মানুষ এখন তাদের নিজেদের শরীরের যত্ন নেয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, চর্বি, তেল, চিনিযুক্ত খাবার বেশি খায়। শারীরিক ব্যায়াম করে না, সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ করে না। এর ফলে নিজেদের অজান্তেই নিজেদের শরীরে অসংক্রামক রোগের বাসা বানিয়ে ফেলছে। এই রোগগুলির কারণে রোগাক্রান্ত মানুষটির যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি তার পরিবার তথা দেশেরও সমান ক্ষতি হচ্ছে।

অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ মতে, অসংক্রামক রোগের ঝুঁকির কারণসমূহ হলো তামাক সেবন, ধুমপান, অস্বাস্থ্যকর তৈলাক্ত খাবার, অতিরিক্ত লবণ, শারীরিক অলসতা, মদ্যপান ইত্যাদি। এসব যদি কারো জীবনাচরণে বিদ্যমান থাকে, তাহলে তাঁদের মধ্যে এই রোগগুলো হবার প্রবণতা বেড়ে যায়। যেহেতু এই দীর্ঘমেয়াদী রোগগুলো একবার হয়ে গেলে তা সারাজীবন থাকে, তাই রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে আমাদের রোগ প্রতিরোধের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা উচিত। ’

সভায় আলোচকরা জানান, বিশ্বের অন্যান্য স্থানের ন্যায় বাংলাদেশেও হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগ ইত্যাদির মতো অসংক্রামক রোগের প্রকোপ মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু ঘটে, যার ২২ শতাংশই হলো অকাল মৃত্যু।

তারা বলেন, দীর্ঘমেয়াদী অসংক্রামক রোগ ও তার ব্যয়বহুল চিকিৎসার ফলে প্রতিবছর লক্ষাধিক লোক দারিদ্র সীমার নিচে চলে যায়। ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। আর সেজন্যই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় অসংক্রামক রোগকে বেশ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কমিউনিটি স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি। সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম।  

 

ঢাকা/সাওন/সাজেদ