এরা সাহসী বটে!
তাদের সবার বয়স ২০ এর ঘরে। এর সবাই নারী। তবে তাদের সাহসিকতায় এখন পঞ্চমুখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
কী করেছিলেন তারা? দিল্লির রাজপথে টেনে এনে পুলিশ পেটাচ্ছিল তাদের বন্ধুকে। ওই সময় পুলিশের লাঠির আঘাত থেকে বাঁচতে সরে যাননি তারা। মারোন্মুখ পুলিশের সামনেই রুখে দাঁড়িয়েছিলেন জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়ার এই শিক্ষার্থীরা।
নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। নয়াদিল্লির জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রোববার সেই বিক্ষোভে শামিল হয়।
বন্ধুকে বাঁচাতে পুলিশের মুখোমুখি হওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, সংঘর্ষের সময় তারা নিউ ফ্রেন্ডস কলোনির একটি বাড়িতে যেয়ে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু বাড়ির ভেতরে ঢুকে যাওয়ার পরপর প্রায় ১২ জন পুলিশ সেখানে চলে আসে। এসময় পুলিশ সদস্যরা তাদের বের হয়ে আসতে বলে। ওই বাড়ির লোকজনও তাদের বের হয়ে যেতে বলে। এক পর্যায়ে তাদের পুরুষ বন্ধুটিকে দুই পুলিশ কর্মকর্তা কলার ধরে টেনে বের করে নিয়ে আসে। রাস্তায় ফেলেই তাকে পেটাতে শুরু করে পুলিশ। বন্ধুকে বাঁচতে শেষ পর্যন্ত তারা পুলিশের লাঠির সামনে দাঁড়িয়ে যান।
লাদিদা ফারজানা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘তাদের সঙ্গে কোনো নারী পুলিশ ছিল না। তাই আমরা ভেবেছিলাম পুলিশ হয়তো আমাদের গায়ে হাত তুলবে না। আমরা সহজেই আমাদের বন্ধুটিকে বাঁচতে পারব’।
তবে এতোটা সহজে তারা বন্ধুটিকে বাঁচাতে পারেন নি। তাদেরকে মারার জন্য লাঠি উঠিয়েছিল পুলিশ। কথা না মানায় এক পর্যায়ে অশ্রাব্য ভাষায় তাদের গালিগালাজ করে পুলিশ।
জীবনে প্রথমবার পুলিশের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন উল্লেখ করে শিক্ষার্থী আয়েশা রিনা বলেন,‘আমি কখনোই ভাবিনি যে আমাদেরকে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। তবে ওই মুহূর্তে পিছিয়ে আসার কোনো কারণই ছিল না’।
এই দলটির সঙ্গে থাকা চন্দনা জাদব নামের স্নাতকের শিক্ষার্থী বলেন, ‘পুলিশ আমাকে আঘাত করলেও এর জন্য কোনো অনুশোচনা করতাম না আমি’।
ঢাকা/শাহেদ
রাইজিংবিডি.কম