ঢাকা, সোমবার, ৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

চোখের সামনে ভালোবাসার মানুষের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-১৪ ৩:১৯:৪৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-১৪ ৬:১০:২২ পিএম

চীনের উহান শহরে গত জানুয়ারি থেকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস। হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেড নেই, চিকিৎসক অপ্রতুল-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথম দিকে হিমশিম খেতে হয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষকে। অনেকে হাসপাতালে প্রিয়জনকে রেখে এসে দ্বিতীয়বার দেখার সুযোগ পাননি। তার আগেই ভাইরাস কেড়ে নিয়েছে প্রাণ। আবার কারো স্বজনের ভাগ্যে মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে হয়তো জুটেছে হাসপাতালের বিছানা।

এদেরই একজন উহানের বাসিন্দা শিয়াও হুয়াং। বাবা-মার মৃত্যুর পর দাদা-দাদীর কাছে লালিত-পালিত হয়েছে সে। ২০ জানুয়ারি তার দাদা আক্রান্ত হন করোনাভাইরাসে। ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় নগরীর গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় ২৬ জানুয়ারির আগে দাদাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব হয়নি হুয়াংয়ের। এর তিন দিন পর প্যাথলজি পরীক্ষায় দাদার দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয় চিকিৎসকরা। এরও তিন দিন পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে হুয়াংয়ের দাদী। ভর্তি হলেও হাসপাতালে দাদার জন্য বিছানা মেলেনি। বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত হুয়াংকে আশ্রয় নিতে হয় হাসপাতালের করিডোরে। হাসপাতাল কর্মচারীদের হাতে-পায়ে ধরে পরে একটি চেয়ার ও একটি ফোল্ডিং বিছানা জোগাড় করতে সক্ষম হন তিনি।

নিজের ডায়েরিতে হুয়াং লিখেছেন, ‘চোখের সামনে কোনো ডাক্তার কিংবা নার্স নেই। চিকিৎসক ছাড়া হাসপাতালটিকে যেন কবরস্থান মনে হচ্ছে।’

শেষ পর্যন্ত একটি বিছানা মিলেছে; তবে দাদার মৃত্যুর মাত্র তিন ঘন্টা আগে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাদার পাশেই ছিলেন হুয়াং।

চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে হুয়াং লিখেছেন, ‘দাদা, শান্তিতে থাক। স্বর্গে কোনো কষ্ট নেই।’

করোনাভাইরাস আক্রান্তদের করুণ চিত্র তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘অনেক রোগী মারা গেছেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গ ছাড়াই। এমনকি শেষ মুহূর্তে এক পলকের দেখাও হয়নি কারো সঙ্গে।’

হুয়াংয়ের দাদীও ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী। অধিকাংশ সময় মাথার ওপরের এই শেষ ছায়াটির পাশেই থাকছেন তিনি ।

তবে প্রাণপ্রিয় এই মানুষটিও হয়তো পরাজিত হবে মৃত্যুর কাছে। সেই আশঙ্কার কথা জানিয়ে হুয়াং লিখেছেন, ‘কোনো কার্যকর ওষুধ নেই। চিকিৎসক আমাকে আশা রাখতে নিষেধ করেছেন। হয়তো সে নিজে নিজে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। আমরা কেবল ভাগ্যের ওপর সব ছেড়ে দিতে পারি।

 

ঢাকা/শাহেদ