ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৬ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

১ লাখ মানুষের শিক্ষক ৭ বছরের শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-১৭ ৭:৪৭:৩৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-১৮ ১২:২১:২০ এএম

পাঁচ বছর বয়সে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং নিয়ে কাজ শুরু। সাত বছর বয়সে ইউটিউব চ্যানেল চালু করে কোডিং আর ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে টিউটোরিয়াল পোস্ট করতেন তিনি। প্রত্যেকটি ভিডিও আপলোডের পর সারা বিশ্ব থেকে আসতো হাজার হাজার প্রশ্ন। এর সবগুলোর জবাবও দিতেন তিনি। ৯ বছর বয়সে অ্যাপলের জন্য অ্যাপস তৈরি। এখন বয়স তার ১৬। কাজ করছেন তিনি আইবিএমের হয়ে। পদবি জুটেছে গুগল ডেভেলপার এক্সপার্টের।

অসম্ভব মেধাবি এই কিশোরের নাম তন্ময় বকশি।  ভারতীয় বংশোদ্ভূত তন্ময় স্বপরিবারে বাস করেন কানাডায়।

২০০৩ সালে ভারতে জন্ম তন্ময়ের। তার পরিবার ২০০৪ সালে কানাডায় চলে যায়। বাবা পুনেত বকশি সেখানে ট্রাকিং কোম্পানির কম্পিউটার প্রোগ্রামার ছিলেন। গণিত আর বিজ্ঞান শিক্ষকও ছিলেন তিনি। বাসায় বাবা যখন কোডিং করতেন, তখন পাঁচ বছরের তন্ময় অপারবিস্ময় নিয়ে সেই কাজ দেখতো।

তন্ময়ের জবানিতেই সেই গল্পের কিছু অংশ শুনি-

‘কম্পিউটার কীভাবে কাজ করে সেটা ছিল আমার কাছে অনেক বেশি আকর্ষনীয়। পর্দার পেছনে কী হয় আর কীভাবে কম্পিউটারকে নিয়ন্ত্রণ করে কাজের আদেশ দেওয়া হয় আমি সেটা জানতে চাইছিলাম।’

ছেলের আগ্রহ থেকে বাবা তাকে প্রোগ্রামিং শেখালেন। এরপর থেকে তন্ময় নিজের মতো করে ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করেন। একইসঙ্গে চলে তার প্রোগ্রামিংয়ের ওপর পড়াশোনা।

সাত বছর বয়সে তন্ময়ের ইউটিউব চ্যানেল খোলার কথাতো আগেই বলেছি। এই চ্যানেলের মাধ্যমে এক লাখ শিশু ও নবিশদের প্রোগ্রামিং শেখাতেন তিনি। বর্তমানে তার চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করেছে দুই লাখ মানুষ।

আট বছর বয়সে অ্যাপলের জন্য অ্যাপস বানানোর কায়দা-কানুন নিজে নিজেই শেখেন তন্ময়। ৯ বছর বয়সে প্রথম অ্যাপস তৈরি করেন তিনি। গুণ শেখানোর ওই অ্যাপসটি অ্যাপল অ্যাপস স্টোরে স্থান পায়।

১১ বছর বয়সে প্রোগ্রামিংয়ের ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন তন্ময়। তার সব মনোযোগ গিয়ে পড়ে আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্ট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আইবিএমেরে ওয়াটসন বেস প্রোগ্রামিং দিয়ে তিনি তৈরি করেন ‘আস্ক তন্ময়’ অ্যাপস। ওয়াটসনের মতোই এই অ্যাপস সম্ভাব্য প্রায় সব প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম।

এখন কী করছেন তন্ময়? ১৬ বছরের কিশোর এখন আইবিএমের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছেন। এর মধ্যে এই টেক জায়ান্টের ডেভেলপার কনফারেন্সসহ বিভিন্ন সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার কাজটিও রয়েছে। ২০১৬ সালে ভারতের বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত আইবিএম ডেভেলপার কানেক্ট অনুষ্ঠানে ২৫ হাজার মানুষের সামনে বক্তৃতা দিয়েছিলেন তিনি।

শিশু ও নবিশদের আইওএস অ্যাপ প্রোগ্রামিং শেখাতে ‘হ্যালো সুইফট’ নামের একটি বইও লিখেছেন তন্ময়। বর্তমানে তার কাজের ক্ষেত্র আর্টিফিসিয়াল নিউরাল নেটওয়ার্ক। স্বাস্থ্যখাতে এই নিউরাল নেটওয়ার্কের কীভাবে উন্নয়ন ঘটানো যায় তা নিয়ে আইবিএমের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। তার স্বপ্ন-চিকিৎসা ক্ষেত্রে মানুষের সামর্থ্য যেখানে শেষ, সেখান থেকে শুরু হবে রোবটের সাফল্য। এক সময় মানুষের পরিবর্তে রোবটই হবে শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক।

 

ঢাকা/শাহেদ