ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনা ছড়ানোয় চীনকে শায়েস্তা করার সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের

নিউজ ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-০১ ৬:৪২:৫৭ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-০২ ৭:০৯:১৬ এএম

মহামারি করোনাভাইরাস নিয়ে নাজেহাল অবস্থায় আছে ক্ষমতাধর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নভেম্বরে নির্বাচন। তার আগে করোনা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাম্প সরকার। প্রায় ১১ লাখ আমেরিকান করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৬৪ হাজার। মৃত্যু, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা, নানারকম সমস্যা—সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে ট্রাম্প সরকার রয়েছে ব্যাকফুটে।

এমন সময় তারা চীনকে দেখে নেওয়া ও শায়েস্তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল)। স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে তারা চীনের বিরুদ্ধে নানারকম ব্যবস্থা নিবে করোনাভাইরাস ছড়ানোর দায়ে।

অবশ্য করোনাভাইরাস নিয়ে শুরু থেকেই ‘ব্লেম গেইম’ খেলছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। মার্চের শুরুতে চীন সরকারের মুখপাত্র লিজিয়ান জোহাও এক টুইটা বার্তায় দাবি করেছিলেন মহামারি করোনাভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী উহানে ছড়িয়ে দিয়ে গেছে।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন প্রশাসন চেষ্টা করছে চীনকে দোষারোপ করার। তারা শুরু থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছে ‘করোনাভাইরাস কোনো প্রাণী থেকে ছড়ায়নি, এটা মানবসৃষ্ট এবং উহানের ল্যাবরেটোরি থেকে ছড়িয়েছে’— এমনটা প্রমাণ করতে। কিন্তু এটার পক্ষে তেমন শক্ত কোনো প্রমাণ এখনো যোগাড় করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেলিজেন্সি কমিউনিটি (আইসি)।

যেহেতু তারা এটা প্রমাণ করতে পারেনি এখনো যে করোনা মানবসৃষ্ট কিংবা চীনের তৈরি জীবাণু অস্ত্র—তাই তারা দ্বিতীয় পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি চীন করোনাভাইরাসের বিষয়টি শুরুতে গোপন করেছে। তারা যদি সেটা না করতো তাহলে বিশ্ব এ বিষয়ে আরো সচেতন হতো এবং করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারতো না।

সুতরাং চীন বিষয়টি শুরুতে ইচ্ছা করেই চেপে গেছে এবং সে কারণেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রও। ‍সুতরাং তাৎক্ষনিকভাবে না হলেও দীর্ঘ মেয়াদে চীনের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিবেই।

এবং এটা তাদের নির্বাচনী কৌশলের একটি অংশ। তারা চীনের বিরুদ্ধে নানামুখী ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে আমেরিকানদের সহানুভূতি পেতে চাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রণোদনা, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বাধ্যবাধকতা পরিহার করা, নতুন বাণিজ্য পলিসি তৈরি করার মাধ্যমে তারা চীনকে শায়েস্তা করবে। এর মাধ্যমে দেশের জনগনের আস্থা ও সমর্থন অর্জন করবে। যাতে নির্বাচনে সুবিধা করতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন সবার আগে জোর দিতে যাচ্ছে তাদের অর্থনীতি যে পিছিয়ে পড়েছে সেটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে তারা চীনের বিরুদ্ধে কঠোরও হবে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয় সেটা এখন দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র : সিএনএন ও লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস

 

ঢাকা/আমিনুল