ঢাকা, রবিবার, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘ঘরে বসে থাকলে খামু কি?’

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৫ ১১:১৬:০৯ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২৫ ১১:২৪:৪৭ এএম

দেশজুড়ে এখন করোনাভাইরাস সতর্কতা। প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা।করোনা থেকে রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে নানা প্রয়াস চলছে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার এলাকায় অবস্থিত ঢাকা নিম্ন আদালত। প্রতিদিন এখানে হাজারো লোকের জনসমাগম হয়। এখন তেমন সমাগম নেই। করোনা ভাইরাসের কারণে সুপ্রিম কোর্ট জামিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়া নিম্ন আদালতের অন্যান্য বিচারকাজ মুলতবি করেছেন।

এ নিম্ন আদালতের মহানগর দায়রা জজ আদালতের বটতলায় জিনিসপত্র সাজিয়ে ভরদুপুরে বসে ছিলেন মুচি নরেন্দ্র দাস। কাজ নেই তার। আবার লোকজনও কম। তারপরও সেই সকাল থেকে ঠায় বসে আছেন। যদি কেউ আসে, তাতে কিছু রোজগার হবে। করোনা নিয়ে তার যেন কোন চিন্তাই নেই। কোন ধরণের সতর্কতাও অবলম্বন করেননি। চিন্তুা শুধু রোজগার না হলে কি খাবেন।

নরেন্দ্র দাস জানালেন, ভুলতার গাউছিয়ায় তার বাসা। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬। নিজে এই জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন। আর এক ছেলে সুতার কারাখানায় কাজ করে। এই দুজনের আয়ে কোনমতে সংসার চলে। প্রতিদিন সেখান থেকে আসেন কাজ করতে।

বললেন, ‘সকাল থেকে কোন কাস্টমার নাই। কিভাবে যে সংসার চলবে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৮শ থেকে ৯শ টাকা আয় হতো। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত একশ টাকার কাজ হয়নি।'

তিনি বলেন, ‘৮ বছর ধরে এই আদালত প্রাঙ্গনে কাজ করছি। কোনদিন এত কম সংখ্যক লোক দেখিনি। করোনা ভাইরাসের কারণে লোকজন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। আমাদের কি আর ঘরে বসে থাকার ভাগ্য আছে। গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। জমানো টাকাও নাই যে ঘরে বসে খাব। ঘরে বসে থাকলে খামু কি। তাই তো বাধ্য হয়ে কাজে এসেছি।'

করোনাভাইরাসের কারণে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মহানগর দায়রা জজ আদালত, জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ অন্যান্য আদালতে আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীর ভিড় নেই। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট আদালতের কর্মচারীরাও ছুটি চান। তারাও আতঙ্কিত।

সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পারভেজ ভূঁইয়া বলেন, ‌‘করোনা নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে কোর্ট মুলতবি ঘোষণা করা উচিত। কারণ, এখানে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সমাগম হয়।'

 

ঢাকা/মামুন খান/টিপু