ঢাকা, বুধবার, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বাথরুমে যত ভুল

মাহমুদুল হাসান আসিফ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১৮ ২:৪৪:২৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৮-১৮ ২:৪৫:৫৯ পিএম
প্রতীকী ছবি

মাহমুদুল হাসান আসিফ : আপাতদৃষ্টিতে কিছু মনে না হলেও বাথরুমের বেশ কিছু অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্য এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর যথেষ্ট বাজে প্রভাব ফেলে। গরম পানি দিয়ে হাত ধোয়া থেকে শুরু করে বেশি সময় টয়লেটে বসে থাকার মতো ২২ ভুল অভ্যাস নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* কমোডের ঢাকনা খোলা অবস্থায় ফ্ল্যাশ করা : অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট চার্লস জেরবা বলেন, প্রতিবার কমোড ফ্লাশ করার সময় মলের বিভিন্ন অংশ এবং মূত্র কমোড থেকে প্রায় ৬ ফুট পর্যন্ত উপরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আপনার টয়লেট ফ্ল্যাশ করার সময় অবশ্যই ঢাকনা বন্ধ করে নিন, যাতে এসব নোংরা জিনিস বাতাসে না ছড়ায়।

* ব্যবহৃত টিস্যু টয়লেটে ফেলা : বেশিরভাগ টিস্যু ‘ফ্ল্যাশযোগ্য’ হিসেবে দাবী করা হলেও আসলে তা নয়। কনজ্যুমার রিপোর্টের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, টয়লেট টিস্যু ব্যতীত অনেক সাধারণ টিস্যু ১০ মিনিটেও পানির সঙ্গে মিশে যায়না বরং টয়লেটের ভেতরে আটকে থাকে আপনার অজান্তেই। শুধুমাত্র এই টিস্যুর কারণে বড় বড় ড্রেন এবং নর্দমা আটকে যায়। আরো যেসকল টয়লেট্রিজ পণ্য কখনোই ফ্ল্যাশ করবেন না সেগুলো হল- স্যানিটারি ন্যাপকিন, ট্যাম্পন, কনডম, ব্যান্ডেজ এবং দাঁতের ফ্লসিং।

* শ্যাম্পু করার সময় চুল মাথার উপরে নিয়ে আসা : যাদের চুল অনেক লম্বা, তারা শ্যাম্পু করার সময় চুল মাথার উপরে নিয়ে এসে স্তূপ করে থাকেন। আসলে শ্যাম্পু করার সময় এসব কিছু না করে আপনার চুল যে পজিশনে আছে ঠিক তেমনিভাবে চুল পরিষ্কার করুন; এটা বেশি ফলপ্রদ। আপনার চুল স্বাভাবিক হোক অথবা কোঁকড়ানো; আপনার চুলকে তার আকৃতিতে রেখে শ্যাম্পু করুন। এতে আপনার চুল নরম থাকবে এবং জটও কম লাগবে।

* কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করা : কানের খইল হয়তো আপনার কাছে নোংরা জিনিস বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এটি আপনার কানের পর্দার একমাত্র প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। কোনো খাদ্য চিবানো এবং কথা বলার সময় কানের খইল কানের ভেতর থেকে বাইরের দিকে চলে আসে এবং তখনই আপনি কটন বাড দিয়ে তা পরিষ্কার করে ফেলেন। ফলে আপনার শরীর তার প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হয়। তাছাড়া কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করার সময় এই খইল অনেকসময় কানের ভেতরের অংশে আটকে যায়। এজন্য অতিরিক্ত কান খোঁচানোর অভ্যাস পরিত্যাগ করুন।

* টয়লেটে বেশি সময় বসে থাকা : অনেকেই আছেন যারা টয়লেটে বসে বই পড়েন অথবা মোবাইল নাড়াচাড়া করতে পছন্দ করেন। কিছু মানুষের নিকট এটা আনন্দদায়ক বা মজার হলেও এখানে বড় ধরনের একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে যায়। কারণ সিরামিকের কমোডে বেশিক্ষণ বসে থাকার কারণে অর্শরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এভাবে বসে থাকার ফলে আপনার মলদ্বারের ওপর ব্যাপক চাপের সৃষ্টি হয় যার ফলে অর্শরোগের সৃষ্টি হয়। অর্শরোগের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হচ্ছে, পায়ুপথে রক্তপাত হওয়া। কিন্তু আপনার কাছে এটা অনেকটা চুলকানি বা হালকা ব্যথার মতো মনে হতে পারে। অবশ্য অর্শের সমস্যা সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে নিরাময় হয়ে যায়। তবে মনে রাখবেন টয়লেট কখনোই অবসর সময় কাটাবার জায়গা হিসেবে ধরে নেবেন না।

* গোসলের তোয়ালে মুখমন্ডল পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার করা : অন্যান্য অনেক জিনিসের মতো গোসলের তোয়ালে হচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আবাসস্থল। ব্যাকটেরিয়া থেকে নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায় হচ্ছে, প্রতিবার মুখ মোছার সময় একটি পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করা। প্রতিদিনের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষ্কার তোয়ালে যদি ব্যবহার না করতে পারেন, আপনার হাত দিয়ে মুখমন্ডল পরিস্কার করুন। তবে কয়েকদিন পরপর তোয়ালে পরিষ্কার করুন অথবা নতুন পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করুন। উল্লেখ্য, ভেজা তোয়ালেতে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে।

* সাবানের উপরিভাগ পরিষ্কার করে না নেওয়া : যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থার তথ্যমতে, রোগ সৃষ্টিকারী অনেক অণুজীব সাবান ব্যবহারের পর সাবানের উপরিভাগে থেকে যায়। তবে এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ব্যাকটেরিয়া সাবান থেকে আপনার হাতে পৌঁছতে পারেনা। তারপরও নিরাপদ থাকার জন্য প্রতিবার সাবান ব্যবহারের আগে পানিতে সাবান ধুয়ে নিন এবং ব্যবহারের পর সাবান কোনো শুষ্ক স্থানে রাখুন। কেননা আর্দ্র বা ভেজা পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া তৈরির উপযুক্ত একটি পরিবেশ।

* সাধারণ তাপমাত্রায় বাথরুম পরিষ্কার করা : বাথরুম সম্পর্কিত স্বাস্থ্যগবেষক জেনী বোটেরো বলেন, গোসলের চৌবাচ্চা, বেসিন এবং টাইলস সাধারণ তাপমাত্রার তুলনায় ১০ ডিগ্রি বাড়িয়ে নিলে পরিষ্কারক উপাদানগুলোর কার্যক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে যায়। ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য চৌবাচ্চা এবং বেসিন গরম পানি দিয়ে পূর্ণ করে নিন। কিছুক্ষণ এভাবে রাখার পর সেগুলো পরিষ্কার করার কাজ শুরু করুন।

* টয়লেটের কাছাকাছি টুথব্রাশ রাখা : টুথব্রাশ সাধারণত টয়লেট থেকে ৪ ফুট বা তারও বেশি দূরে রাখা উচিত। কেননা টয়লেটে থাকা মলমূত্রের নির্যাস ফ্ল্যাশ করার সময় (যদি কমোডের ঢাকনা খোলা থাকে) ছড়িয়ে গিয়ে আপনার টুথব্রাশে পরতে পারে। তাছাড়া আরেকটি জায়গা হচ্ছে বেসিন, যেখান থেকে সাবান এবং ময়লা পানির নির্যাস আপনার টুথব্রাশে জমা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন টুথব্রাশ আলাদা করে বাথরুমের উপরের দিকের কোনো শুষ্ক স্থানে রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকে। যাতে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ এবং অন্য টুথব্রাশের সঙ্গে আপনার টুথব্রাশ মিশে যাওয়া থেকে আপনি নিরাপদ থাকতে পারেন।

* গরম পানি দিয়ে হাত ধোয়া : ব্যাকটেরিয়া থেকে নিরাপদ থাকার জন্য আপনার গরম পানি দিয়ে হাত ধোয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা গবেষণায় দেখা গেছে, গরম পানি এবং ঠান্ডা পানি এক্ষেত্রে একই কাজ করে থাকে। ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বলা হয়েছে, গরম পানি এবং ঠান্ডা পানি ব্যাকটেরিয়া হ্রাসের ক্ষেত্রে সমান কাজ করে। গবেষকরা এটাও বলেন যে, ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে রেহাই পেতে হলে ২১২ ডিগ্রী তাপমাত্রার ফুটন্ত গরম পানিতে আপনাকে হাত ধুতে হবে যা কখনোই সম্ভব নয়। তাছাড়া গরম পানি আপনার হাতের ত্বককে শুষ্ক করে দেয়। সুতরাং গরম পানিতে হাত ধোয়া থেকে বিরত থাকুন।

* মলত্যাগের সময় খুব জোরে কোঁথ দেওয়া : কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যার কারণে মলত্যাগের সময় জোরে কোঁথ দিলে অর্শরোগ হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা থাকে। আপনি যত জোরে কোঁথ দেবেন, আপনার মলদ্বারের শিরা-উপশিরার উপর ঠিক ততটা চাপ সৃষ্টি হবে। এর ফলে মলদ্বারের বিভিন্ন স্থানে ফাটলের সৃষ্টি হতে পারে। তাই মলদ্বারে বেশি চাপ সৃষ্টি না করে স্বাভাবিকভাবে মল বের হয়ে যেতে দিন। কেননা স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগের করলে আপনার মলদ্বার কম পরিশ্রমে মলত্যাগের উপযোগী হয়ে ওঠে। এভাবে যদি কাজ না হয়, প্রয়োজনে জোলাপ সেবন করুন।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

পড়ুন : * শ্যাম্পু ব্যবহার নিয়ে পাঁচ ভুল ধারণা

           * গোসলের ভালো ও খারাপ সময়

           * পাবলিক টয়লেটের যেসব স্থানে স্পর্শ করা উচিত নয়

           * গোসলের তোয়ালে কতদিন পর ধোবেন?

           * টিস্যু না পানি টয়লেটের পর কোনটি ভালো




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ আগস্ট ২০১৮/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন