ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ কার্তিক ১৪২৬, ২২ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ইন্টারভিউয়ে কমন কিছু প্রশ্নের জবাব দেবেন যেভাবে

সাখাওয়াত মিশু : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২৫ ১১:১১:২০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-২৫ ২:০১:৫৮ পিএম
প্রতীকী ছবি

ইন্টারভিউয়ে আপনাকে যেসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে, সেগুলোর জবাব যদি আগে থেকেই জানা থাকে তবে কেমন হয়?

ইন্টারভিউয়ে কী ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখী হতে হবে তা অনুমান করা যায় না। তারপরও আমরা আপনাকে ইন্টারভিউয়ে কমন ৩১টি প্রশ্ন, যেগুলো সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা করা হয়, সেগুলোর জবাব সম্পর্কে ধারণা রাখতে সহায়তা করবো। ইন্টারভিউয়ের প্রশ্নের জবাব নিয়ে তিন পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* আপনার সম্পর্কে অল্প কথায় কিছু বলুন?

এই প্রশ্নটি খুব সাধারণ বলে অনেকেই এ প্রশ্নের জবাব দিতে আগে থেকে প্রস্তুতি নেন না। কিন্তু এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখবেন। এ সময় আপনার কর্মসংস্থান বা ব্যক্তিগত ইতিহাস বলবেন না। সংক্ষেপে এবং গোছালোভাবে কিছু কথা বলবেন, যা আপনি কাজের জন্য কেন যোগ্য যথাযথভাবে এই বিষয়টিই তুলে ধরবে। আপনার ২-৩টি কৃতিত্ব বা অভিজ্ঞতা দিয়ে কথা শুরু করে পূর্বের চাকরিতে সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আপনার অবস্থান তুলে ধরে কথা শেষ করুন।

* এখানে নিয়োগের কথা কিভাবে শুনলেন?

এটিও একটি সাধারণ প্রশ্ন। তবে এই প্রশ্নটি কোম্পানিটির প্রতি আপনার প্যাশন এবং কানেকশন প্রকাশ করার উপযুক্ত এক সুযোগ দেয়। এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে কিভাবে আপনি এই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বিষয়ে জেনেছেন তা খোলাখুলি বলুন। যদি বন্ধু বা প্রফেশনাল কারো মাধ্যমে জেনে থাকেন, তবে অনায়াসে তার নামটি বলুন। কিংবা বিজ্ঞাপন বা অন্য কোনো মাধ্যমে জেনে থাকলে সেটি বলুন। তারপর কেন বিষয়টি আপনার নজর কেড়েছে তা বলুন।

* এই কোম্পানি সম্পর্কে আপনি কী জানেন?

ইন্টারভিউয়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই কোম্পানি সম্পর্কে জেনে যাবেন। এখন বেশিরভাগ কোম্পানিরই ওয়েবসাইট রয়েছে। সেখান থেকে কোম্পানির সম্পর্কে জেনে যেতে পারেন। এর ফলে আপনি কোম্পানির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভালোভাবে জানার সুযোগ পাবেন।

যখন আপনাকে কোম্পানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, তখন এমন একটি লাইন বলার মাধ্যমে জবাবটি শুরু করবেন যাতে তারা বুঝতে পারে যে আপনি কোম্পানির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত। তারপর কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে উদ্ধৃতি দিয়েও দু-একটি লাইন তুলে ধরে তার সঙ্গে ব্যক্তিগত অভিমত যুক্ত করে দিন। যেমন: কোম্পানির উদ্দেশ্যটি খুবই প্রসংশনীয় কারণ....

* কেন আপনি এই চাকরিটি চান?

যেকোনো কোম্পানিই চাইবে কাজের প্রতি আগ্রহী এমন একজনকে নিয়োগ দিতে। সুতরাং আপনাকে এই প্রশ্নটির ভালো একটি জবাব দিতে হবে।

প্রথমে এমন কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলুন যার মাধ্যমে আপনি জবাবটিকে দারুনভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। (যেমন: আমি কাস্টোমার সাপোর্ট পছন্দ করি। কারণ আমি মানুষকে সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে সন্তুষ্ট করার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাই।) তারপর কেন আপনি এই কোম্পানিটিকে পছন্দ করেন তা বলুন। (যেমন: আমি সবসময় নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী। আপনারা দারুন কিছু কাজ করছেন। আমি আপনাদের এই যাত্রার অংশ হতে চাই।)

* কেন আমরা আপনাকে চাকরিটি দেব?

বলা হয়ে থাকে, এই প্রশ্নটি যাদের করা হয়, তারা ভাগ্যবান। এই প্রশ্নটি করলে বুঝতে হবে কোম্পানি আপনার দিকে এগিয়ে আসতে চাইছে। (ভয় পাবেন না, আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন।)

আপনার নিজেকে তুলে ধরার জন্য এরচেয়ে ভালো কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। তাই চাকরিদাতার মনোযোগ ধরে রাখার মতো কঠিন চ্যালেজ্ঞটির মুখোমুখি হতে হবে আপনাকে।

প্রশ্নের জবাবে আপনি তিনটি বিষয়কে তুলে ধরার চেষ্টা করবেন: আপনি শুধু নির্দিষ্ট কাজটিই নয় আরো বেশি কিছু দিতে সক্ষম, আপনি যেকোনো কাজের ভালো ফলাফল এনে দিতে পারবেন, আপনি যেকোনো টিম এবং পরিবেশে কাজ করতে পারবেন। এই বিষয়গুলো যত্নের সঙ্গে তুলে ধরতে পারলে আপনিই হবেন অন্যদের তুলনায় অনন্য।

* আপনার পেশাগত শক্তি কী?

এই প্রশ্নের জবাবে আপনাকে অবশ্যই সঠিক (যা আপনার মাঝে আসলেই আছে), প্রাসঙ্গিক (যে পদের জন্য চেষ্টা করছেন তার সঙ্গে সম্পর্কিত) এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরুন। তারপর সম্পর্কিত একটি উদাহরণ তুলে ধরুন।

* কোন বিষয়টিকে আপনার দুর্বলতা বলে মনে করেন?

এই প্রশ্নের মাধ্যমে মূলত চাকরিদাতারা আপনার নিজস্বতা এবং সততা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবেন। এক্ষেত্রে আপনি নিজের কোনো দুর্বলতা থাকলে তা তুলে ধরে এর থেকে দ্রুত উত্তরণের চেষ্টা করবেন, এমনটি উল্লেখ করবেন। যেমন: আপনি সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখতে পারেন না। কিন্তু পেশাগত কাজের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি আপনার প্রয়োজন হতে পারে। তাই বিনয়ের সঙ্গে বিষয়টি তুলে ধরে এর থেকে উত্তরণের কথা বলুন।

* আপনার পেশাগত সেরা অর্জন কী?

শুধু এই প্রশ্নই নয়, অন্য যেকোনো প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও ‘আমাকে চাকরিটি দিন’ এ ধরনের কোনো কথা বলবেন না। চাকরির ক্ষেত্রে অর্জনের বিষয়ে বলার সময় আপনার যেকোনো একটি কর্ম তুলে ধরুন। তারপর এর ফলাফলও তুলে ধরুন।

যেমন: আমি জুনিয়ার অ্যানালিস্ট পদে কর্মরত ছিলাম। সেখানে একমাসে ১০ কর্ম ঘণ্টার অপচয় রোধ করেছি এবং এনভয়েসের ভুল ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে পেরেছি।

* কর্মক্ষেত্রে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হয়েছেন কী? হলে তা কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?

এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনি কর্মক্ষেত্রে মুখোমুখী হওয়া কোনো একটি দ্বন্দ্ব অথবা চ্যালেঞ্জ তুলে ধরুন। এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও আপনি শান্ত এবং আনন্দদায়ক পরিবেশ ধরে রাখবেন। আর আপনার বক্তব্যে কিভাবে আপনি কোনো একটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন তার বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং ফলাফল তুলে ধরুন। তবে বাড়তি, অবস্তাব এবং ভুল কোনো তথ্য দেবেন না।

* ৫ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

এ প্রশ্নের জবাবে আপনি স্পষ্টভাবে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরুন। চাকরিদাতা আপনার মাঝে বাস্তব অভিজ্ঞতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং লক্ষ্য ও আপনার উদ্দেশ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তাই জানতে চাইবেন। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতাসহ ৫ বছর পর নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান তা অল্প কথায় বলুন।

(চলবে)

তথ্যসূত্র: দ্য মিউস


ঢাকা/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন