ঢাকা, শনিবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মার্সেল ফ্রিজে ফ্রি পাওয়া লাখ টাকা দান করবেন দোকানি

এম মাহফুজুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৩ ২:১৬:২৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৭-১৩ ৩:২২:৫৪ পিএম
মার্সেল ফ্রিজে ফ্রি পাওয়া লাখ টাকা দান করবেন দোকানি
মার্সেল ফ্রিজ কিনে ফ্রি পাওয়া এক লাখ টাকার চেক গ্রহণ করছেন মোহাম্মদ বাবুল

এম মাহফুজুর রহমান : দেশের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড মার্সেলের রেফ্রিজারেটর কিনেছিলেন নারায়ণগঞ্জের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বাবুল।

মার্সেলের চলমান ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন ফোর এর আওতায় ফ্রিজটি কিনে তিনি ফ্রি পেলেন এক লাখ টাকা। ওই এক লাখ টাকা তিনি দান করবেন দু’টি মসজিদে এবং অন্যান্য গরিব নিকটাত্মীয়দের মাঝে।

ডিজিটাল ক্যাম্পেইন এর আওতায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফ্রিজের ক্রেতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে মার্সেল। মার্সেলের যেকোনো শোরুম থেকে ফ্রিজ কিনে মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করলে প্রতিদিনই লাখপতি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। থাকছে লাখ লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচারসহ হাজার হাজার পণ্য ফ্রি পাওয়ার সুযোগ।

মার্সেল কর্মকর্তারা জানান, ক্রেতারা জুলাইয়ের ৩ তারিখ থেকে কোরবানি ঈদ পর্যন্ত এসব সুবিধা পাচ্ছেন।

গত ৭ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের মার্সেল শোরুম ‘শারমিন ইলেক্ট্রনিক্স’ থেকে ফ্রিজটি কেনেন বাবুল। ২১ সিএফটির ফ্রিজটি ৪০ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে কেনেন তিনি। কেনার পর মোবাইল ফোনে রেজিস্ট্রেশন করলে ফিরতি এসএমএসে তিনি এক লাখ টাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন।

স্থানীয় বাজারের এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ‘এই প্রথম মার্সেলের কোনো পণ্য কিনি। এসব অফার সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। শোরুমের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, যা কিছুই কিনবেন কিছু না কিছু ফ্রি পাবেনই। ফ্রিজ কিনে এক লাখ টাকা পেয়েছি। এটাতো আসলেই অনেক দারুণ ব্যাপার! ফ্রি টাকা পাওয়ায় আমার পরিবারের সবাই আনন্দিত। বাসায় ব্যবহারের জন্য ফ্রিজ কিনেছিলাম কিন্তু ফ্রি পাওয়া টাকা আমার কাজে ব্যয় করব না।’

‘এক লাখ টাকার ৩৫ শতাংশ দান করব আমার এলাকায় নির্মাণাধীন দু’টি মসজিদে। ১০ শতাংশ দেব আমার খালাকে। বাকিটাও অন্যান্য গরিব ও এতিম নিকটাত্মীয়দের দান করব। যারা এ টাকায় কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন,’ বলেন ৬ সদস্যের পরিবারের প্রধান বাবুল।

৩৩ বছরের এই যুবক আরো বলেন, ‘মার্সেল কর্তৃপক্ষকে আমি ধন্যবাদ জানাই। মার্সেল পণ্য আমাদের এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। এসব অফারের কারণে মার্সেল শোরুমগুলোতে অনেক ভিড় দেখা যায়। মার্সেল পণ্য দামে যেমন সাশ্রয়ী, মানেও ভালো।’

এদিকে নরসিংদীর চকবাজারের মানিক মিয়া, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর গোয়ালগ্রামের শাহারুল ইসলাম এবং নারায়নগঞ্জ সদরের মিজমিঝি দক্ষিণ পাড়ার বাবুল হোসেনও মার্সেল ফ্রিজ কিনে ফ্রি পেয়েছেন এক লাখ টাকা।

মানিক মিয়া। তিনিও মুদি দোকানি। তার দুই ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী। গত ১০ জুলাই শাহে প্রতাপ মোড় এলাকায় মার্সেল শোরুম ‘এইচ টি টি ইলেক্ট্রনিক্স’ থেকে ফ্রিজটি কেনেন। ২৫ হাজার ৯৯০ টাকা দিয়ে ফ্রিজটি কেনার পর একই পদ্ধতিতে তিনিও রেজিস্ট্রেশন করলে ফিরতি এসএমএসে টাকা ফ্রি পাওয়ার বিষয়টি জানেন।

৫৫ বছরের মানিক মিয়া রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘পাঁচ সদস্যের পরিবার। বাসায় ব্যবহার করতেই ফ্রিজটি কিনেছিলাম। টাকার দরকার ছিল। মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে ছেলেদের বিদেশে পাঠিয়েছি। কিন্তু মার্সেল ফ্রিজ কিনে এতো টাকা পাওয়া যাবে তা কল্পনাতেও আসেনি। ফ্রি পাওয়া টাকাটা আমি পারিবারিক কাজে লাগাব।’

‘পরিবারের জন্য এই প্রথম নিজে দামি কিছু কিনেছি। এর আগে ছেলেরাই এসব করত। পরিবারের জন্য প্রথম কিছু কিনেই এক লাখ টাকা ফ্রি পেলাম। এটা আমার কাছে খুবই মজার। আত্মীয়-স্বজন সবাই ফোন দিয়ে খবর নিচ্ছে। খুবই ভালো লাগছে আমার। মার্সেলের আরো কিছু হোম আ্যপ্লায়েন্সেস পণ্য কিনব। তাদের পণ্য আগেও ব্যবহার করেছি। ভালোই লাগে আমার কাছে।’ বলেন রায়পুরার মেহেরনগর গ্রামের এই মুদি দোকানি।

উল্লেক্ষ্য, বিক্রয়োত্তর সেবাকে অনলাইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে কাস্টমার ডাটাবেজ তৈরি করছে মার্সেল। ক্রেতাদের নাম, ফোন নম্বর এবং ক্রয়কৃত পণ্যের মডেল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য মার্সেলের সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে। তাই ওয়ারেন্টি কার্ড হারিয়ে গেলেও যেকোনো শোরুমে গিয়ে ক্রেতারা খুব সহজেই বিক্রোয়ত্তর যেকোনো সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এ কার্যক্রমে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে লাখপতি হওয়ার সুযোগসহ বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ জুলাই ২০১৯/এম মাহফুজুর রহমান/ইভা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন