ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ০৯ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

শিশুর মুখে ৭ মার্চের ভাষণে নিস্তব্ধ আ.লীগ কার্যালয় (ভিডিও)

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-১৭ ১০:১০:৩৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-১৮ ৩:২৯:১৭ এএম

বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পূর্বঘোষিত আতশবাজির কর্মসূচি তখনও শেষ হয়নি, এরই মধ্যে শিশুকণ্ঠে ভেসে এলো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের কালজয়ী সেই ভাষণ।

শিশুকন্ঠে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ দিচ্ছে কে এই শিশু? আতশবাজির সেই ক্ষণ স্মৃতিতে ধরে রাখতে যারা এতোক্ষণ মোবাইল ক্যামেরায় ধারণৎ করছিলেন- তড়িঘড়ি করে তারা ছুটলেন সেই শিশুকণ্ঠের অনুসন্ধানে।

ততক্ষণে মুজিব কোট পরা শিশুটি তর্জনী উঁচিয়ে বলে চলেছে- ‘আজ দুঃখ-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি- আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর ও যশোরের রাজপথ আমার ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে...’

ভাষণ চলছে। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে সুনসান নীরবতা। সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছে ভাষণের প্রতিটি কথা। যেন মর্মে মর্মে উপলব্ধি করার চেষ্টা করছে প্রতিটি অক্ষরের আক্ষরিক অর্থ। মাঝে মাঝে ভাষণের টার্ন বুঝে সেদিনের মতো চিৎকারও দিচ্ছিলেন কেউ কেউ। ভাষণের সেই মুহূর্তটি মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করে নিয়েছেন উপস্থিত প্রায় সবাই।

‘প্রত্যেক গ্রামে, মহল্লায়, ইউনিয়নে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটি গড়ে তুলুন। হাতে যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।’-ভাষণ শেষ করেই তারকা বনে যায় শিশুটি।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে তাকে নিয়ে জটলা শুরু হয়ে যায়। তার সঙ্গে সেলফি তুলতে শুরু করেন, হ্যান্ডশেক করেন অনেকেই। অপেক্ষাকৃত মুরব্বীরা তাকে বুকে জড়িয়ে দোয়া করেন।

কিছুক্ষণ আগেও যে ছিল অচেনা, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কল‌্যাণে সেই শিশুটিই হয়ে গেলো সবার আপনজন। ভালোবাসার মানুষ। বঙ্গবন্ধু তো এমনই। তিনি নেই, তবুও আছেন- সবার হৃদয়ে বাংলার সবচেয়ে আপন বন্ধু হয়ে।

শিশুটির নাম মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ ঈশা। পিতা অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ জানে আলম। থাকেন ঢাকায়। বাড়ি গোপালগঞ্জ।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ কীভাবে শেখা হলো- জানতে চাইলে মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ ঈশা রাইজিংবিডিকে বলে, ‘আমি শিখেছি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুনে। অনেক চেষ্টার পর আমি এটা মুখস্ত করতে পেরেছি। এটা শিখতে আমার প্রায় দেড় মাস লেগেছে।’

ভাষণ শুনতে শুনতে ভাষণটি মুখস্থ করার অনুপ্রেরণা পেয়েছে বলেও জানায় ঈশা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ভাষণটি সবার মাঝে তুলে ধরে খুব আনন্দ লেগেছে বলে অভিব‌্যক্তি প্রকাশ করে ঈশা।

শেখ মোহাম্মদ জানে আলম জানান, ক্লাস ওয়ান থেকে গত পাঁচ বছর ধরে এই ভাষণ বিভিন্ন জায়গায় শুনিয়ে আসছে ঈশা।

 

ঢাকা/পারভেজ/সনি