ঢাকা, রবিবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

পাবনায় শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

শাহীন রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১৬ ১:৫২:৫৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-১৭ ১২:১৭:৩৫ এএম
পাবনায় শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

পাবনা প্রতিনিধি : উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অসাদুপায় অবলম্বনে বাধা দেয়ায় পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের প্রভাষক মাসুদুর রহমানকে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হামলার শিকার শিক্ষকের দাবি, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সামসুদ্দিন জুন্নুনের নির্দেশে তার ওপর হামলা হয়। আর শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ করে ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন ওই ছাত্রলীগ নেতা। ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের নাম ওঠায় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করেছে জেলা ছাত্রলীগ।

বুধবার মধ্যরাতে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম আব্দুল কুদ্দুস বাদি হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার গোকুলনগর গ্রামের শাহেদ আলীর ছেলে সজল ইসলাম ও পাবনা সদরের মালঞ্চি গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে শাফিন শেখ। তবে হামলায় কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সামসুদ্দিন জুন্নুনকে দোষারোপ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি।

শিক্ষক মাসুদুর রহমান বলেন, ‘৬ মে তারিখে কলেজের ১০৬ নম্বর কক্ষে উচ্চ মাধ্যমিকের উচ্চতর গণিত পরীক্ষায় পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় দুজন ছাত্রী দেখাদেখি করায় তাদের সতর্ক করি। তারপরেও তারা বিরত না হলে, কিছু সময়ের জন্য খাতা জব্দ করে রাখায় তারা ক্ষুব্ধ হয়। এ ঘটনার পর বুঝতে পারছিলাম ছাত্রলীগের ছেলেরা আমার ওপর ক্ষুব্ধ। ১২ মে বাড়ি ফেরার সময় কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি সামসুদ্দীন জুন্নুনের নির্দেশে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আমাকে কিল, ঘুষি, লাথি দিয়ে ফেলে দেয়।’

৩৬ তম বিসিএস এর শিক্ষক মাসুদুর রহমান আরো বলেন, ‘আমাকে মারধোরের পর ঘটনা আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। আমি সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে, কর্মরত অবস্থায় লাঞ্ছিত হলাম, এরপরেও যদি বিচার না পাই তবে আর কিছুই বলার নেই।’

কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা সমগ্র শিক্ষক সমাজের জন্য অপমানের। ভয়ে আছি, না জানি আমাদের ওপর কখন হামলা হয়। আমরা এ হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, নিরাপদ কর্মপরিবেশ চাই।’

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘শিক্ষকের ওপর ন্যাক্কারজনক এ হামলা কখনই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি। আশা করছি, পুলিশ তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে।’

অভিযুক্ত সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শামসুদ্দিন জুন্নুন বলেন, ‘মাসুদ স্যারের ওপর যে হামলা হয়েছে সেটা দুজন ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হয়েছে। এ হামলায় আমার বা ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা নেই। বহিরাগত সন্ত্রাসীরা স্যারকে আক্রমণ করলে আমরা প্রতিরোধ করে সন্ত্রাসীদের বের করে দিয়েছি। আমরা স্যারের ওপর হামলার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’

শিক্ষক মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা ছাত্রী ফারহিন রহমান মীম বলেন, ‘গত ৬ মে পরীক্ষা চলাকালে মাসুদ স্যার আমাদের বেশ কয়েকজন ছাত্রীর হাত ধরেন। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা ১২ মে প্রিন্সিপাল স্যারে কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এখানে ছাত্রলীগের কারো সঙ্গে আমাদের কথা হয়নি বা তাদের ডাকিনি। আর নকল করার কথা বলা হলেও আমরা কোনো নকল করিনি, একটু দেখাদেখি করেছিলাম।’

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিবলী সাদিক জানান, ‘আমরা ছাত্রলীগ সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে চাই। যেহেতু ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের নাম উঠে এসেছে, সে কারণে জেলা ছাত্রলীগের জরুরি সভা করে সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। আর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে।’

ওই কলেজের শিক্ষকদের অভিযোগ, ‘কেবল মাসুদুর রহমানই নন, এর আগে একাধিক শিক্ষক ছাত্রলীগ নামধারী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে কলেজ ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। ভয়ে মুখ খোলেননি তারা।’ শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে এসব ঘটনার বিচার দাবি করেছেন শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।





রাইজিংবিডি/পাবনা/১৬ মে ২০১৯/শাহীন রহমান/ইভা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন