ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর আগে দু’টি যুদ্ধ রেখে গেছেন

এম এ রহমান মাসুম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২৫ ১০:৫৪:০৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-২৫ ১০:৫৪:০৮ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, 'বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর আগে দু’টি যুদ্ধ রেখে গেছেন। একটি হচ্ছে রক্তাক্ত যুদ্ধ, যার মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই যুদ্ধে ৩০ লাখ নারী-পুরুষ শহীদ হয়েছেন। জীবন দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর পরিবারসহ জাতীয় চার নেতা। আর একটি যুদ্ধ হলো সোনালী যুদ্ধ। যারা প্রথম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি, তারা সেই রক্তের ঋণ শোধ করতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে একসাথে কাজ করবেন।’

রোববার রাজধানীর আইডিইবিতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, এনবিআরের সিনিয়র সদস্য কালিপদ হালদার ও সুলতান মাহমুদ ইকবাল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীর পিতা সারা জীবন স্বপ্ন দেখেছেন এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির। এ দেশের মানুষকে তিনি অনেক ভালোবেসেছিলেন, ভালোবাসতেন। সে জন্য তিনি কোন কাজ অসমাপ্ত রেখে যাননি। বঙ্গবন্ধু শুধু একটি নাম না, তিনি বিশ্বাসের নাম, একটি দেশের নাম, একটি পতাকার নাম।

অন্যদিকে ১৫ আগস্ট হত্যা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের চিহ্নত করতে একটি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে তাদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে তাদেরকে বর্জন করার আহ্বান জানান আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকি।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রোগ্রামে জাতীর পিতার থাকার কথা ছিল। আমি সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। শেখ হাসিনাও তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। আমাদের উপাচার্য শেখ হাসিনাকে ১৫ আগস্টের প্রোগ্রামে থাকার জন্য বলেছিলেন। সেই সময় শেখ হাসিনার স্বামী ওয়াজেদ মিয়া প্রশিক্ষণের জন্য জার্মানিতে ছিলেন। তিনি স্ত্রী-সন্তানকে সঙ্গে রাখার জন্য আলাদা বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। ওয়াজেদ মিয়া বার বার শেখ হাসিনাকে ফোন করছিলেন সেখানে যাওয়ার জন্য। কিন্তু উপাচার্য ১৫ আগস্টের প্রোগ্রাম পর্যন্ত থেকে যাওয়ার কথা বলায় তিনি (শেখ হাসিনা) দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে তিনি বঙ্গবন্ধুর কাছে বিষয়টি বলেন। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন- ‘জামাই যা বলে তাই কর’। এরপর ১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনা জার্মানি চলে যান। ভাগ্যগুণে বেঁচে যান তিনি।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ আগস্ট ২০১৯/এম এ রহমান/নবীন হোসেন