'দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশ'
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।
সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশ এবং ভারত: একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভবিষ্যৎ’শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রিংলা বলেন, ‘স্থলে-জলে সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারত। এই বন্ধনের জন্য আমাদের অংশীদারিত্ব অনেক বেশি পরিমাণে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতাকেন্দ্রিক হবে। আমাদের নেতাদের বিচক্ষণতার কারণেই আমরা সীমান্ত ও জমি বিনিময়সহ অনেক কঠিন সমস্যা যেগুলো প্রতিবেশীদের মধ্যকার সম্পর্ক নষ্ট করে, সেগুলো চিহ্নিত করে পরিপক্কতার সাথে সমাধান করতে পেরেছি। আমি বলব যে বাংলাদেশ এবং ভারত যেভাবে এ ধরনের সমস্যাগুলো সমাধান করেছে তা অন্যান্য দেশের জন্য অনুকরণীয়।’
তিনি বলেন, ‘সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বিশ্বে আমাদের বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার ও এই অঞ্চলে আমাদের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। আমাদের দুই দেশের সরকারের মধ্যকার সম্পর্ক একইসাথে বিস্তৃত ও সমন্বিত। যার মধ্যে ৭৫টি আলোচনার বিষয় যা আমাদের স্থায়ী অংশীদারিত্বের একটি শক্তিশালী কাঠামো গঠনের জন্য আমাদের জনগণ ও সরকারকে যুক্ত করেছে।’
বাংলাদেশের সাথে রেল যোগাযোগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘১৯৬৫ সালের আগের ছয়টি রেল সংযোগ ২০২১ সাল নাগাদ আবারো চালু হবে, যার ফলে স্থলপথে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। প্রান্তিক ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস পরিষেবা চালুর ফলে কলকাতা-ঢাকা এবং কলকাতা-খুলনা রুটে মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপেসের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে।’
হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা আরো বলেন, ‘আমরা বাণিজ্য সহজীকরণ ও প্রসারণে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করছি। আরো সহজ বাণিজ্য প্রক্রিয়াগুলো আমাদের উভয় পক্ষের সম্পদ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ করে দেবে। এছাড়াও, আমাদের একে অন্যের বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণেরও অনেক সুযোগ রয়েছে এবং সরকার হিসেবে আমাদের উচিত, ব্যবসায়ীদের ও উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে একে অন্যের দেশে ব্যবসা করার সুযোগ দেয়ার চেষ্টা করা।’
ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিস) এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ, বিসের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল শেখ মাসুদ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, বিস চেয়ারম্যান এম ফজলুল করিম প্রমুখ।
** ‘চলতি বছরেই তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে’
ঢাকা/হাসান/জেনিস
রাইজিংবিডি.কম