ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, অ্যাকশনে প্রশাসন

এম এ রহমান মাসুম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০১ ৯:২০:১০ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০১ ৯:২০:১০ পিএম

চলতি মাসে কুড়িগ্রামের এক সাংবাদিককে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে এনে চোখ বেঁধে নির্যাতন করে ডিসি অফিসের দুই-তিন জন ম্যাজিস্ট্রেট। আবার ক্ষমতার অপব্যহার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদক আইনে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিতর্কিত এমন কর্মকাণ্ডে সারাদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। শেষ পর্যন্ত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে প্রত্যাহার হয় জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা।

এর রেশ কাটতে না কাটতেই করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মাস্ক না পরা নিয়ে তিন সিনিয়র সিটিজেনকে কান ধরায় যশোরের মণিরামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এটা নিয়েও সমালোচনা তুঙ্গে ওঠায় তাকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা তাকে।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে কিছু 'অতি উৎসাহী' মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তার বাড়াবাড়িতে সরকারকে বিব্রত হতে হয়েছে। মাঝে মধ্যে  এরূপ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এতে সমালোচনার মুখে থাকা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতনরা বিব্রত। তবে ভিন্ন উদাহরণও রয়েছে। কিন্তু দু'একজন কর্মকর্তাদের বাড়াবাড়ি আচারণ পুরো প্রশাসনকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মাধ্যমে তাদের সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, এর ব্যত্যয় হলে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে। কেউ যেন দায়িত্বে অবহেলা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করেন। এতে ব্যাড ইমেজ তৈরি হচ্ছে, আমরা এর দায়ভার নেব না।

বাহাদুরি দেখানোর জন্য কোনো কাজ করলে, চাকরির শৃঙ্খলাবিধি ভঙ্গ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনজন সিনিয়র সিটিজেনকে কান ধরিয়ে মনিরামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসান ভুল করেছেন বলে মত দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মনিরামপুর উপজেলার ইউএনও ওই বয়স্ক তিনজনের কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। তাদের হাতে খাদ্যসামগ্রী এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার তুলে দিয়েছেন।

অন্যদিকে জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন এর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা ওই কর্মকর্তাকে (সাইয়েমা হাসান) প্রত্যাহার করে বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে সংযুক্ত করার জন্য বলেছি। সেটা করা হয়েছে। যে তিনজন সিনিয়র সিটিজেন সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে মণিরামপুরের ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) মিডিয়াকে নিয়ে তাদের বাড়ি গিয়ে তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমরা খুবই দুঃখিত। যা ঘটেছে তাতে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে তার পক্ষে আমাদের স্যরি বলা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তাদের আচরণের জন্য আমাদের বিব্রত হতে হয়। এ ঘটনায় আমরা অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছি।

হাজারের বেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে দু'একটি ঘটনা বড় কিছু নয় দাবি করেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার।

তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, দেশের করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহস্রাধিক কর্মকর্তা কাজ করে যাচ্ছেন। এতো কর্মকর্তাদের মধ্যে দু'একটি ঘটনা বড় কিছু নয়। তাছাড়া এরই মধ্যে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মন্ত্রী নিজে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কথা বলেছেন।

ইমাম মজুমদার আরও বলেন, হাজার কর্মকর্তাদের মধ্যে মণিরামপুরের ঘটনাকে আমি বিচ্ছিন্ন বলবো। তবে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয়। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করি।

বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে যশোরের মণিরামপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসানের নেতৃত্বে শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চিনাটোলা বাজারে অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে পড়েন প্রথমে দুই বৃদ্ধ। এর মধ্যে একজন বাইসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন। অপরজন রাস্তার পাশে বসে কাঁচা তরকারি বিক্রি করছিলেন। তাদের মুখে মাস্ক ছিল না। এ সময় পুলিশ ওই দুই বৃদ্ধকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে সাইয়েমা হাসান শাস্তি হিসেবে তাদের কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন।

শুধু তাই নয়, এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই তার মোবাইল ফোনে এ চিত্র ধারণ করেন। এছাড়া পরবর্তীতে অপর এক ভ্যানচলককে একইভাবে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন। শুক্রবার রাতে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা।

জানতে চাইলে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার এ বিষয়ে বলেন, ওই কর্মকর্তাকে মণিরামপুর থেকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় কমিশনার অফিসে সংযুক্ত করেছি। তার অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ঢাকা/এম এ রহমান/এসএম