ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিতে মানবাধিকার কমিশনের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৫ ৫:৩৩:০৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৫ ৫:৩৩:০৬ পিএম
ফাইল ফটো

পোশাক কারখানায় যোগ দেওয়া শ্রমিক-কর্মচারীর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি মোকাবিলায় মালিক কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

রোববার (০৫ এপ্রিল) কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারহানা সাঈদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম (এনডিসি) বিষয়টি রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছেন।

বিবৃতিতে সংকটকালীন এ সময়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল এবং মানবিক আচরণ করার অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘করোনা এখন বৈশ্বিক মহামারি। মানবিক এই বিপর্যয়কে প্রতিহত করার লক্ষ্যে বিশ্বের সব জনগোষ্ঠীর দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজন।  জাতীয় মানবাধিকার কমিশন লক্ষ্য করছে যে, করোনা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং সামাজিক দূরত্ব অপরিহার্য বিবেচনায় সর্বসাধারণকে ঘরে থাকার জন্য সরকার বিভিন্ন অনুশাসনসহ গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। কিন্তু শ্রমজীবীরা ছুটির আমেজ নিয়ে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি মাথায় না রেখে গাদাগাদি করে শহর ছাড়তে থাকেন যা প্রকারন্তরে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়’।

পরবর্তীতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জনগণ যাতে ঘরে থাকেন, সে লক্ষ্যে সরকার এই সাধারণ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করে। কিন্তু এই বর্ধিত ছুটির বিষয়ে গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশ্যে শ্রমজীবী মানুষের ঢল নামে। সংবাদ মাধ্যমের সচিত্র প্রতিবেদনে দেখা যায় গত শনিবার সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ও মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ঘাটের জনস্রোত সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের কোনো পরোয়াই করেনি। সরকারের যেখানে ঘরে থাকার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এবং তা পরিপালনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে, সেখানে এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এতে  করে একদিকে যেমন শ্রমজীবী এক একজন মানুষ নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন, তেমনি তার আশেপাশের প্রতিজন ব্যক্তিকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছেন। এর ফলে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির প্রত্যাশিত ফলাফল  পুরোটাই এখন শঙ্কার মধ্যে পড়েছে। এরকম উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পোশাক কারখানায় যোগদান করা শ্রমিক-কর্মচারীর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি মোকাবিলায় মালিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংকটকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল এবং মানবিক আচরণ করতে কমিশন অনুরোধ জানায়।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে যেখানে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি  মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই, সেখানে নিজেকে ঘরবন্দি রাখার সাময়িক কষ্ট হলেও তা স্বীকার করে নিয়ে ব্যক্তি থেকে সমষ্টি, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষের দায়িত্বশীলতার সাথে তা অনুসরণ করার জন্যও আহ্বান জানায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আসুন সবাই মিলে সরকার নির্দেশিত সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। নিজের ঘরে অবস্থান করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করে সন্তানদের মধ‌্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করি। একে অন্যের বিপদে দূরে থেকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে  নিজেকে সুরক্ষিত রাখি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে করোনার বিরুদ্ধে জয়ী হতে সাহায্য করি।’


ঢাকা/মেহেদী/জেডআর