ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১০ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনার কারণে হয়নি ১ লাখ কোটি টাকার ঈদ বাণিজ্য

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৫ ৪:৪৫:৫৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৫ ৬:০২:৫৭ পিএম

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ব্যবসায়ীরা সারাবছর যে ব্যবসা করেন, তার উল্লেখযোগ্য অংশটা হয় দুটি ঈদে। গতবছরও দেশে বিভিন্ন খাতে ঈদকেন্দ্রিক বাণিজ্যের আকার ছিল ১ লাখ কোটি টাকার বেশি। করোনায় সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের ধাক্কা লেগেছে ঈদকেন্দ্রিক বাণিজ্যেও। ফলে টানা দুটো জাতীয় উৎসবে ব্যবসা বঞ্চিত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

সরকারের ঘোষণার পর করোনা ঝুঁকিতে জীবিকার তাগিদে মার্কেট শপিংমল চালু হলেও জমেনি ঈদের কেনাকাটা। যে কয়টি দোকান খুলেছে তাতেও নেই ঈদের আমেজ। প্রত্যাশিত ক্রেতা না পেয়ে হতাশ ব্যবসায়ীরা। ঢাকা শহরের ব্যস্ত বিপণিবিতানগুলো প্রায় তিন মাস হলো বন্ধ। ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যবসার কথা। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় নিজেরাই সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। মার্কেট চালু করার সুযোগ পেয়েও করোনা সংক্রমণ রোধ করতে বড় বড় শপিংমলগুলো বন্ধ রেখেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে ঈদবাণিজ্যের পরিণতিও হয়েছে বাংলা নববর্ষের মতো। গতমাসে দেশবাসীর সার্বজনীন ওই বৈশাখের উৎসবেও ব্যবসা করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন লাখ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শ্রমিক এবং উদ্যোক্তা- যারা ঈদকেন্দ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তবে তুলনামূলকভাবে অনলাইনকেন্দ্রিক ব্যবসার অবস্থা ভাল হলেও প্রত্যাশিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ১০ মে থেকে সরকার দোকান পাট, মার্কেট, শপিংমল ও বিপণিবিতানগুলো খোলার অনুমতি দিলেও ক্রেতাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। এর কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদরা দুটো কারণ বলছেন। প্রথমত, করোনা আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুহার বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশা বিরাজ করছে। দ্বিতীয়ত, করোনা পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘায়িত হয়, সেই চিন্তায় মানুষ সঞ্চয়ের প্রতি জোর দিচ্ছে। ফলে উচ্চবিত্ত এবং উচ্চমধ্যবিত্তদের হাতে টাকা পয়সা থাকার পরও অনেকে মার্কেটে যাচ্ছেন না। আবার কেনাকাটা করার মতো সাধারণ মানুষের (মধ্যবিত্ত এবং নিন্মবিত্ত) হাতে পর্যাপ্ত অর্থকড়ি নেই।

ঈদে সব বয়সী মানুষই নিজেকে নতুন জামা-কাপড় সঙ্গে নতুন আসবাবপত্র ইত্যাদি কেনে। ফলে ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরই সরগরম থাকে দেশের বিভিন্ন শপিংমল, বিপণিবিতান এমনকি ফুটপাথও। ঈদের মাসে যেমন সারাদেশের শপিংমল বা মার্কেটগুলো গতিশীল হয় সেসঙ্গে সারাদেশের কুটিরশিল্প, তাঁতশিল্প, দেশীয় বুটিক হাউজগুলোতেও কর্মচাঞ্চল্য বাড়ে এবং বাড়ে আর্থিক লেনদেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঈদ ঘিরে প্রতিবছর দেশে বিভিন্ন খাতে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ব্যবসা হয়ে থাকে। এবার সেই বাণিজ্যে ধস নেমেছে প্রধানত করোনার কারণে। সাথে দেশের কিছু এলাকায় কিছুটা প্রভাব রয়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের।

বলাকায় ভারতীয় পোশাক বিক্রির প্রতিষ্ঠান সানজিদা ফ্যাশনের সত্ত্বাধিকারী মিলন হোসেন বলেন, ঈদকেন্দ্রিক বড় পরিসরের ব্যবসার যে ধারা আমাদের রয়েছে তার ১০ শতাংশ ব্যবসাও এবার হয়নি। দুমাস পরেই আসবে ঈদুল আজহা, তখনো এই অবস্থা থাকে কী না- আমরা সেই শঙ্কায় রয়েছি।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, বর্ষবরণ উৎসবের মতো ঈদ বাণিজ্যও বলতে গেলে বন্ধই। সীমিত পরিসরে কিছু দোকান, মার্কেট ও শপিংমল চালু হলেও কেনাকাটা নেই। ঈদ ঘিরে কিছু বিনিয়োগ করেছিল ব্যবসায়ীরা।তাও উঠে আসবে না।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হয়তো পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে। এটি অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতি। আমরা প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনার আওতায় দোকানদার ব্যবসায়ীদের আনার দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আমাদের বেগ পেতে হবে। তাই করোনার পর ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্যও পরিকল্পনা করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার একটা ফান্ড দিয়েছে সরকার। সেখান থেকে একটা অংশ একেবারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য দেয়া প্রয়োজন।

 

ঢাকা/হাসান/সাজেদ