ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১০ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

রাইড শেয়ারিংয়ে করোনা ঝুঁকি, আছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও

আহমদ নূর : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৩ ১১:৩২:০১ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-০৩ ৫:৩১:১১ পিএম
ছবি : শাহীন ভূঁইয়া

দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ছুটি থাকার পর জীবন জীবিকা স্বাভাবিক করতে সীমিতভাবে সবকিছু খুলে দিয়েছে সরকার। এতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, মাস্ক ব্যবহার ও জীবানুনাশক ব্যবহারে শর্ত দিলেও নানাভাবে এর লঙ্ঘন হচ্ছে।

এরমধ্যে রাইড শেয়ারিংয়ে সামাজিক ও শারিরিক দূরত্ব না মানা ও যাত্রী একই হেলমেট বার বার ব্যবহার করায় করোনাভাইরাসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। এদিকে অ্যাপসের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং চালু না হওয়ার পরও যারা অফলাইনে এ কাজে যুক্ত হচ্ছেন, তারা নিজের ও যাত্রীর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছেন বলে মনে করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে রাজধানীর গাবতলী এলাকায় কথা হয় মোটরসাইকেল চালক গিয়াসের সঙ্গে। তিনি অফলাইনে রাইড শেয়ারিং করছেন। আলাপকালে তিনি জানান, দুই মাস ঘরে থেকে সব সঞ্চয় ফুরিয়ে গেছে। আর্থিক টানাপোড়ন তৈরি হওয়ায় আবারো রাইড শেয়ারিংয়ে নেমেছেন।

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে করণীয় কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।’

তবে মোটরসাইকেলে আড়াইফুট সিটে দুই ব্যক্তির বসা এবং একই হেলমেট অনেক ব্যক্তির ব্যবহারে করোনা ঝুঁকি আছে কীনা জানতে চাইলে তিনি গাড়ি নিয়ে সরে যান।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে আরেক চালক মো. জামিলের সঙ্গে কথা হলে জানান, অন্যান্য সময়ের তুলনায় যাত্রী কম। তবে পেটের দায়ে রাইড শেয়ারিং করতে হচ্ছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুলতানা শাহানা বানু বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে মানতে হবে।  তা না হলে ঝুঁকি আরো বেড়ে যাবে। এছাড়া করোনাভাইরাস এত শক্তিশালী যে কোনো বস্তুতে এটি দুই ঘন্টা থেকে ১০ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।  প্লাস্টিকে এটি খুব সহজে মানিয়ে নিতে পারে।'
 


বাইকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না হওয়া এবং একই হেলমেট একাধিক ব্যক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি তুলে ধরে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ‍দুজন ব্যক্তির মধ্যে তিন ফুট ‍দূরত্ব রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া একটি বস্তু একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করলে যদি ওই বস্তুতে করোনাভাইরাস থাকে তাহলে সবাইকে সংক্রমিত করতে পারে।

এদিকে, অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং চালু করতে দাবি জানিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে বিআরটিএ গত ৩০ মে দেওয়া এক নির্দেশনায় মোটরসাইকেলে যাত্রীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হবে জানিয়ে রাইড শেয়ারিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাইড শেয়ারিং অ্যাপস পাঠাওয়ের প্রধান বিপনন কর্মকর্তা সৈয়দা নাবিলা মাহবুব বলেন, ‘অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং বন্ধ থাকলেও অফলাইনে চলছে। এর ফলে যাত্রী ও চালক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।  এজন্য অনলাইনে রাইড শেয়ারিং চালু করার দাবি জানানো হয়েছে।'

অন্যদিকে, অফলাইনে রাইড শেয়ারিংয়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী ও অনলাইন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তারা এগুলো ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করছেন।

অনলাইন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মঈন উদ্দীন বলেন, ‘অফলাইনে রাইড শেয়ারিং করলে চালক ও যাত্রীদের কোনো তথ্য নিরপেক্ষ কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকে না।   চালক বা যাত্রী যে কেউ অপরাধী মানসিকতার হতে পারে। সুযোগ বুঝে তাদের মধ্যে যে কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। পরে কোনো তথ্য না থাকায় অপরাধী খুঁজতে বেগ পেতে হতে পারে।'

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অফলাইনে রাইড শেয়ারিং করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।  কে কার গাড়িতে উঠছে এটা জানা প্রায় অসম্ভব। অফলাইনে রাইড শেয়ারিংয়ের কারণে চুরি, ছিনতাই এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।'

 

ঢাকা/নূর/টিপু