চীনা বিনিয়োগে বাংলাদেশে হবে বিশেষায়িত হাসপাতাল

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গাবিষয়ক বিশেষ দূত ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, চীনের বিনিয়োগে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেছেন, বিশেষায়িত একটি হাসপাতাল নির্মাণের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানালে চীন তাতে রাজি হয়েছে। খুব শিগগিরই বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে।
রবিবার (৩০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার রোগী প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে দেশে কেন আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে না, একজন গণমাধ্যমকর্মীর এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি চীনের কুনমিংয়ে যান। সেখানে চীনের কো-অপারেশন মিনিস্টারের সঙ্গে তার কথা হয়। ওই সময় বাংলাদেশের রোগীদের সুচিকিৎসার্থে সেখানকার কয়েকটি হাসপাতাল চিহ্নিত করা যায় কি না, সে ব্যাপারে তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল। অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তারা অতি দ্রুত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার জন্য চারটি হাসপাতাল ঠিক করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেই চারটি হাসপাতালের একটি ফার্স্ট পিপলস হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। গত ১০ মার্চ বাংলাদেশ থেকে একটি দল চিকিৎসা গ্রহণের জন্য সেখানে যায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে চীনের কুনমিং যেতে মাত্র ২ ঘণ্টা সময় লাগে। কুনমিংয়ের হাসপাতালে চিকিৎসার মান ও পরিবেশ অত্যন্ত ভালো।
খলিলুর রহমান আরো বলেন, আমাদের তাতে সন্তুষ্ট হলে চলবে না। বাংলাদেশে অত্যন্ত উঁচু মানের হাসপাতাল প্রয়োজন। এ কারণেই চীন সরকারের কাছে বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণের অনুরোধ করা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রসারে চীন ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বর্তমানে চীনে পড়াশোনা করছেন। তা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ৫০টি চমৎকার বর্ষ অতিক্রম করেছি। আগামী ৫০ বছরে আমরা কেমন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলব, তার একটি শক্ত ভিত্তি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং তৈরি করে দিয়েছেন। তার একটি দিক হচ্ছে, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং অন্য দিকটা হচ্ছে শিল্পায়ন। এই দুটি স্তম্ভ তারা শক্ত করে প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন। এগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ হচ্ছে দুই দেশের মানুষের। তার একটি প্রধান বিষয় হচ্ছে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে বলেছেন, আমরা এক-দুজন নয় বরং হাজার হাজার বাংলাদেশি চাইছি, যারা চীনে শিক্ষা নিতে যাবেন। আগামী এপ্রিল মাসে কুনমিং শহরের গভর্নর বাংলাদেশে আসছেন। ওই সফরে শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। আমরা চাইছি, যেন বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী চীনে শিক্ষার সুযোগ লাভ করতে পারেন। এ বিষয়ে আমরা অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।
একইসঙ্গে দুই দেশের মানুষের সঙ্গে সংযোগ এবং শিক্ষার প্রসারের জন্য ঢাকা এবং চীনে দুটি কালচারাল সেন্টার স্থাপন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
ঢাকা/হাসান/রফিক