ঢাকা, সোমবার, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি : স্বার্থ, অর্থ আর অশ্রুর পদাবলী

জাফর সোহেল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৭ ৪:১০:৩৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৭ ৪:১০:৩৯ পিএম

ছেলেটার নাম পুরো মনে নেই। ডাক নাম রাজু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ১ম বর্ষে পড়ত। বিভাগের এক  অধ্যাপক তাকে মাসে ১ হাজার টাকা বৃত্তি দিতেন। গরিব বাবা-মায়ের সন্তান। ঘটনা ২০০৮ সালের। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থাকলেও তখনো হলের পেশিশক্তি ছাত্রদলের হাতে। ‘ছাত্রদল করবে’ এমন নাকে ক্ষত দিয়ে একটা রুমের মেঝেতে জায়গা পেয়েছিল রাজু। সেই রুমেই চকির ওপরে থাকত ছাত্রদলের জুনিয়র এক নেতা। ছোটখাটো কী একটা বিষয় নিয়ে তর্ক বাঁধে রাজুর সঙ্গে। সহজ-সরল বলে রাজু প্রথমে বুঝতে পারেনি কার সঙ্গে সে ঝগড়া করছে। অবশ্য বুঝতে খুব বেশি সময়ও লাগে না। ছাত্রদলের সই নেতা এবং তার অনুসারীরা ক্রিকেটের স্ট্যাম্প নিয়ে রাজুর ওপর হামলে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দেয় রাজু। নেতা আর অনুসারীরা তার পিছু নেয়। এক পর্যায়ে তারা চিৎকার করে বলতে থাকে- এই, শিবির, শিবির, ধর ধর...।’ প্রাণ বাঁচাতে রাজু ঢুকে পড়ে টয়লেটে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না। টয়লেটের ময়লা পানির সঙ্গে রাজুর লাল রক্ত মিশে একাকার হয়ে যায়। যে কোনো ভাবেই হোক এ ঘটনায় কিছুটা সাহস সঞ্চার হয়েছিল কয়েকজন ছাত্রের মধ্যে। তারা হল প্রশাসনকে চেপে ধরেছিল অপরাধীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার জন্য। কিন্তু হল প্রশাসন তখন বিএনপি’র দখলে। মেরুদণ্ডহীন প্রভোস্ট কোনো পদক্ষেপ নেননি।

বুয়েটের ছাত্র আবরারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা শুনে, পত্রিকায় তার ছবি দেখে আমার চোখে খালি রাজুর ফোলা ফোলা হাত-পা-মুখ ভেসে ওঠে। বেচারা রাজু, এত সহজ-সরল হওয়ার কী দরকার ছিল? তবু আজ সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই, রাজু বেঁচে গেছে; তাকে আবরারের মতো পরিণতি ভোগ করতে হয়নি। এর মাত্র ৬ মাস পরের ঘটনা। ২০০৯ সালের প্রথম দিক। ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। হলের রাজত্ব এসেছে ছাত্রলীগের হাতে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শেষ বর্ষের এক ছাত্রকে একদিন ধরে নিয়ে গেল তারই ব্যাচমেট ছাত্রলীগের বড় এক নেতা। ছেলেটিকে গরুপেটা করে হল থেকে বের করে দেয়া হলো। হলে গিয়ে শুনি, ঐ ছাত্রকে শিবির আখ্যা দিয়ে পেটানো হয়েছে। ঘটনার গভীরে গিয়ে জানলাম- একেবারেই ব্যক্তিগত বিরোধ।

এই দুটি ঘটনা দুই সরকারের আমলের দুটি বাস্তব উদাহরণ। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন ঘটনার অভাব নেই। বছরের পর বছর ঘটনার পর ঘটনা ঘটেই চলে; কোনো প্রতিকার নেই, কোনো বিচার নেই। ঘটনা ঘটায় ছাত্রদল, ঘটনা ঘটায় ছাত্রলীগ, ঘটনা ঘটায় ছাত্রশিবির; শিকার হয় নিরীহ ছাত্ররা। কেন স্বপ্ন আর সাধনার বিদ্যাপীঠে গিয়ে স্ট্যাম্পের আঘাত সইতে হবে মেধাবী ছাত্রদের? আমরা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বেতের আঘাত যেন করা না হয় সেজন্য আইন করেছি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেন স্ট্যাম্পের আঘাত সইতে না হয় সেজন্য কিছুই করছি না! তারা দিনের পর দিন মার খেয়েই চলেছে, আমাদের কোনো বিকার নেই! এখনো মাঝে মাঝে পত্রিকায় এ ধরনের খবর পাই। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ভূমিকা এখানে নীরব দর্শক। এসব ঘটনার প্রতিকার বা বিচারের কোনো আয়োজন চোখে পড়ে না। প্রশ্ন জাগে, তাহলে হলগুলোতে প্রশাসনের দরকার কী?

হল প্রশাসনে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই দায়িত্বে থাকেন। তাদের একটা ছাত্রকে অন্যায়ভাবে আঘাত করা হয় কিন্তু তারা কিছুই করেন না। শিক্ষক চরিত্রের সঙ্গে বিষয়টি কী করে যায় ভেবে পাই না। সারাজীবন শিক্ষকেরাই আমাদের শিখিয়েছেন- অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে। অর্থাৎ অন্যায়কারী ও অন্যায় সহ্যকারী বা সমর্থনকারী উভয়ে সমান। এই হিসেবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকেরা ততটাই অপরাধী যতটা ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলের কর্মীরা অপরাধী। আজ বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যার জন্য যেমন ছাত্রলীগের কর্মীরা দায়ী তেমনি সেখানকার শিক্ষকেরাও সমানভাবে দায়ী। কারণ, তারা ঐসব ছাত্রদের খুনি হয়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন; তারা তাদের খুনি হওয়া থেকে রক্ষা করেননি, তাদের অন্যায় কর্মে কখনো বাধা দেননি। যেসব শিক্ষক, প্রভোস্ট, প্রক্টর, ভিসি রাজনৈতিক কর্মীদের অন্যায় কর্মের কোনো শাস্তি দেন না বা দিতে পারেন না, তারা নিজেদের শিক্ষক দাবি করতে পারেন না। শিক্ষক যেমন স্নেহ করবেন তেমনি বিচারও করবেন। কিন্তু এখনকার শিক্ষকেরা তা করেন না। কেউ ইচ্ছে করে নিজের স্বার্থ দেখেতে গিয়ে করেন না। কেউ ভয়ের কারণেও করেন না। শিক্ষকেরা নিজেদের করণীয় বা দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করেন না বলেই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অন্যায় ঘটে। দেশের শিক্ষক সমাজের জন্য এটা খুবই লজ্জাজনক।

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের প্রায় সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যা ও ছাত্র লাঞ্চনার মতো ঘটনা ঘটছে যুগের পর যুগ। কী আশ্চর্য, এতদিনেও এদেশের শিক্ষক সমাজ এসব ঘটনা বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেননি। অথচ তারাও চুটিয়ে রাজনীতি করছেন। কেউ আওয়ামী লীগের কেউ বিএনপি-জামাতের রাজনীতি করেন। কেন করেন? কারণ তারা নিজের দল ক্ষমতায় এলে বিভিন্ন রকম সুবিধা নিতে চান। কেউ প্রমোশন চান, কেউ প্রভোস্ট হতে চান, কেউ ভিসি হতে চান। আবার কেউ সরকারি কোনো দপ্তরের কাজ পেতে চান, প্রেষণে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানও কেউ কেউ হতে চান। এতে করে তারা অর্থ পান, বাড়ি পান, গাড়ি পান। আর এসবের জন্য এতটাই নির্লজ্জ হয়ে যান যে, নিজের সন্তানসম ছাত্রদের নিরাপত্তা দিতে ভুলে যান। প্রায় ৬ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ও হল জীবনে শিক্ষকদের এই চরিত্র অনেকটা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছি। আবরার ফাহাদকে বুয়েটের যে শিক্ষার্থীরা হত্যা করেছে তারাও এক ধরনের লাইসেন্স পেয়েছে প্রশাসন তথা এই শিক্ষকদের কাছ থেকেই। আমি মনে করি না, আবরার ফাহাদই হত্যাকরীদের প্রথম শিকার। হাত চালানোর একটা অভ্যাস থাকতে হয়। এই হত্যাকারীরা অতি অবশ্যই আরও আবরারদের আঘাত করেছে, পিটিয়েছে, হল থেকে বের করে দিয়েছে। আর সেসব ঘটনায় বুয়েটের শিক্ষক নামীয় দলীয় চাটুকাররা কোনো বিচার করেননি। ফলে তারা আবরারকেও পিটিয়েছে নির্ভয়ে। তাদের মনে এই জোর ছিল যে, এদেশে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের কিছুই হবে না- তা তারা যাই করুক না কেন, এমনকি কাউকে হত্যা করলেও!         

আবরার হত্যার ঘটনায় যদি সত্যিকারের চেতন ঘটে আমাদের তবে সবার আগে বাংলাদেশে শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করা দরকার। এটা যদি করা যায়, শিক্ষকেরা যদি প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রতি নিরপেক্ষ থাকেন তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ন্যায় প্রতিষ্ঠা পাবে। শিক্ষকেরা তখন যে কোনো অন্যায়ের বিচার করবেন, করতে পারবেন। তদের কোনো পিছুটান থাকবে না। অন্যায় ঘটলে তার প্রতিকার হবে; ছাত্রদের মধ্যে বৈষম্য হ্রাস পাবে। এটা হলে শিক্ষার্থীরাও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শিখবে। শিক্ষকদের কাছে তারা ন্যায় বিচার চাইতে শিখবে। এখন যা মোটেও নেই। এই লেখার প্রথম দিকে বর্ণিত দুই ঘটনায় আক্রান্ত কেউ তাদের শিক্ষকদের কাছে বিচার প্রত্যাশা করেনি। কারণ, তারা জানত তাদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা হয় দলীয় সুবিধাভোগী নাহয় অসুবিধাভোগী। তারা অনেকটাই মেরুদণ্ডহীন প্রাণী।

বুয়েটের শিক্ষার্থীরা আবরার হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদী হয়েছেন, রাস্তায় নেমেছেন। তারা বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি তুলেছেন। বুয়েটের উপাচার্য ক্যাম্পাসে রাজনীতি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে এটা ভালো খবর। কিন্তু এতে গোটা অসুখটার সামান্যই সারবে। কারণ বুয়েটে নিষিদ্ধ থাকলেও পাশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা অপরাপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি থাকবে। এর প্রভাব গিয়ে বুয়েটেও পড়বে। তাছাড়া নিষিদ্ধ থাকলেও যেমন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিবিরের রাজনীতি পরোক্ষভাবে চলমান আছে তেমনি বুয়েটেও পরোক্ষভাবে হলেও রাজনৈতিক শক্তি থেকে যাবে।  অসুখ সারাতে চাইলে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। ছাত্র রাজনীতির এই মুহূর্তের যে চারিত্রিক বেশিষ্ট্য তাতে এটি বন্ধ করলে রাষ্ট্র ও সমাজের বিশেষ কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ এখনকার কিংবা গত তিন দশকের ছাত্র রাজনীতির নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করলে এটাই বেরিয়ে আসবে যে, এটি ছাত্রদের কল্যাণে কিছুই করতে পারেনি। এমন কোনো ভালো উদাহরণ নেই যা ছাত্রদের পক্ষে বিদ্যমান ছাত্র সংগঠনগুলো করেছে। ছাত্রদের অধিকার আদায়ে কিংবা কোনো ঘটনার ন্যায় বিচারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশকিছু আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে যার সবগুলোই করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সাম্প্রতিক সময়ের কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এর উদাহরণ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো বড় অন্যায় ঘটলে সাধারণ ছাত্ররা এমনিতেই সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নেমে পড়ে। সেজন্য তাদের রাজনৈতিক চর্চার দরকার হয় না। আর বিপরীত চিত্র হলো- ছাত্র রাজনীতি যারা করে তারা ছাত্রদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বাধা দেয়। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের রক্ত ঝরায়। অনেক নিরীহ ছাত্রের আর তাদের পরিবারের নীরব অশ্রুর কারণ হয় ছাত্ররাজনীতির কুশীলবরা। তারা টেন্ডারবাজি করে, অর্থ আর ক্ষমতাই তাদের প্রধান চর্চা হয়ে দাঁড়ায়। ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে এটাই এখন বড় সত্য।

অনেকেই ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা উঠলেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, তাহলে ছাত্রদের অধিকারের কথা কে বলবে? কিন্তু এই কথাটি তারা চিন্তা করেন না যে, যে রূপের ছাত্ররাজনীতির জন্য তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন, সেই রূপের ছাত্ররাজনীতি এখন আর নেই। ছাত্রদের অধিকার আদায়ে সত্যিকারের সংগ্রামী ছাত্র সংগঠন এখন নেই। এটাই এখনকার বড় বাস্তবতা। এখন যারা ছাত্ররাজনীতি করেন তাদের অনেকে জানেনই না কেন তারা রাজনীতি করছেন। প্রতিষ্ঠানের বা হলের বড়ভাই হয়ত বলেছেন, চল রাজনীতি করবি- অমনি তিনি রাজনীতি করা শুরু করেছেন। অনেকে দেখছেন, রাজনীতি করলে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়, হলে ভালো সিট পাওয়া যায়- তাই করছেন। অনেকে দেখছেন এখানে অর্থেরও বেশ যোগ আছে- তাই রাজনীতি করছেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পরে গত তিন দশকে ছাত্রদল বলি আর ছাত্রলীগ বলি– মূল ধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছাত্র সংগঠনগুলো এমন কোনো আন্দোলন সংগ্রামের উদাহরণ তৈরি করতে পারেনি যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে গেছে। বরং রাজনীতি করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রাণ হারিয়েছেন অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী। কিন্তু তাদের এবং তাদের পরিবারের দুর্ভাগ্য- এরা কেউই সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিহত বা শহীদ হননি। স্বার্থের দ্বন্দ্বে তারা মারা গেছেন। টেন্ডারবাজির মতো অর্থিক স্বার্থের পেছনে ছুটতে গিয়ে অনেকে মারা গেছেন। বুয়েটের আবরারের মতো কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু বকরের মতো অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন কোনো কারণ ছাড়া। শত শত শিক্ষার্থী বিনা কারণে বা মিথ্যা অপবাদে মার খেয়েছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন। তিন দশকের ছাত্ররাজনীতি এমন সব ফল উপহার দিয়েছে জাতিকে। মেধাবী ছাত্ররা উচ্চশিক্ষা নিতে এসে খুনি হয়েছে ছাত্ররাজনীতির ছোঁয়ায়। সুতরাং ছাত্ররাজনীতি বলতে যে ‘গৌরব’ বাংলাদেশে ছিল তা এখন আর অবশিষ্ট নেই। সেই পবিত্র সত্তা মরে গেছে, তার দেহ পঁচে গলে গেছে, সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। এই ময়লা দুর্গন্ধ যুক্ত সত্তাটিকে এখন মাটিচাপা দিতে হবে। প্রয়োজন যদি কিছু থেকে থাকে তার জন্য নতুন করে চিন্তা করতে হবে। নতুন ভাবনা ভাবতে হবে। ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্র রাজনীতি প্রয়োজন এমন ‘ইউটোপিয়ান’ ধরনের চিরন্তন ধারণা বাদ দিতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসুর ন্যায় ছাত্রসংসদ বাধ্যতামূলক করা হোক। ছাত্ররা রাজনীতি ও সমাজনীতির চর্চা সেখানে করবে। আলাদা করে বড় দলের লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি ছাত্রদের জন্য দরকার নেই। আবরার হত্যা এবং এই ঘটনায় বেরিয়ে আসা ছাত্ররাজনীতির নোংরা চোহারা দেখেও আমরা যদি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারি তা হবে খুবই দুঃখজনক।

লেখক: সাংবাদিক


ঢাকা/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন