ঢাকা, শুক্রবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

যে কারণে কলা চা খাবেন

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০১ ৮:১৮:৫৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-০১ ৪:১৭:১৫ পিএম
যে কারণে কলা চা খাবেন
প্রতীকী ছবি

দেহঘড়ি ডেস্ক : কলা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটি ফল। যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিকর এবং অনেক ধরনের রান্নায় মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এমনকি আরামদায়ক চা তৈরিতেও কলা ব্যবহৃত হয়। কলা চা এর পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং কীভাবে কলা চা বানাবেন- তা নিয়ে এ প্রতিবেদন।

কলা চা কী?

গরম পানিতে পুরো একটি কলা সেদ্ধ করে তৈরি করা হয় কলা চা। সেদ্ধ কলাটি ফেলে দিয়ে পানিটুকু পান করা হয়। আর এটিই কলা চা হিসেবে পরিচিত। আপনার পছন্দের উপর নির্ভর করে খোসা সহ কলা অথবা খোসা ছাড়া কলা দিয়ে এই চা তৈরি করতে পারেন। যদি শুধু খোসা দিয়ে তৈরি করেন, তাহলে তা হবে কলার খোসার চা। এই চা-ও পুষ্টিকর।

তবে খোসায় উচ্চমাত্রার আঁশযুক্ত উপাদান থাকায় কলার খোসার চা তৈরিতে সময় বেশি লাগে। তাই অনেকে খোসা বাদ দিতেই পছন্দ করেন। কলা চা-এর স্বাদ বাড়াতে বেশিরভাগ মানুষ দারুচিনি বা মধু যোগ করে পান করেন। বিশেষ করে রাতে ভালো ঘুমের জন্য কলায চা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

কলা চা-এর পুষ্টিগুণ
কলা চা এর জন্য বিস্তারিত পুষ্টি তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যেহেতু পুরো একটি কলা এবং পানি দিয়ে এটি তৈরি করা হয় সেহেতু কলাতে থাকা পানিতে দ্রবনীয় কিছু পুষ্টি সম্ভবত রয়েছে। যেমন ভিটামিন বি৬, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং কপার।

যেহেতু বেশিরভাগ মানুষ এই পানীয়টি তৈরির পর সেদ্ধ কলাটি ফেলে দেয়, তাই কলা চা যথেষ্ট পরিমাণ ক্যালোরির উৎস নয়। কলা সেদ্ধ করার ফলে পানিতে ভিটামিন বি৬ এবং পটাশিয়ামের মতো কিছু পুষ্টি থাকলেও তা ফল হিসেবে একটি কলা খাওয়ার সমপরিমাণ নয়। বেশি সময় সেদ্ধ পুষ্টির ঘনত্ব বাড়াতে পারে। 

যাহোক, কলা চা পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের বড় উৎস হতে পারে, প্রয়োজনীয় এসব খনিজ উপাদান হার্টের স্বাস্থ্য এবং ভালো ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। উপরন্তু, এতে কিছু ভিটামিন বি৬ রয়েছে যা স্বাস্থ্যকর ইমিউন সিস্টেম এবং লাল রক্তকণিকা বিকাশে সহায়তা করে। 

কলা চা-এর স্বাস্থ্য উপকারিতা
কলা চা পানে নানা ধরনের স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে পারেন। যেমন-

* অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান: কলাতে স্বাভাবিকভাবেই ডোপামিন এবং গ্যালোক্যাচীন সহ পানিতে দ্রবণীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো বেশি থাকে। এসব উপাদান ফ্রি র‌্যাডিক্যালগুলোর সঙ্গে লড়াই করতে এবং হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী দশা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। তবে কলার তুলনায় এর খোসায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি থাকে। ফলে পানীয়টি তৈরির সময় এতে খোসা যুক্ত করলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি পাওয়া যাবে। অন্যদিকে কলাতে প্রকৃতিগতভাবে ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি থাকে, কলা চা এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস হিসেবে ভালো নয়। ভিটামিন সি তাপ সংবেদনশীল, সম্ভবত কলা চা তৈরির সময় এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টটি নষ্ট হয়ে যায়।

* পেট ফাঁপা কমাতে পারে : কলা চা-তে পটাশিয়াম বেশি থাকে, এই মিনারেল এবং ইলেকট্রলাইট উপাদানটি শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর রক্তচাপ ও পেশী সংকোচন নিয়ন্ত্রণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সোডিয়াম, অন্যান্য মিনারেল ও ইলেকট্রোলাইটের সঙ্গেও পটাশিয়াম ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। পটাশিয়ামের চেয়ে সোডিয়ামের পরিমাণ যখন বেশি হয় তখন পেট ফুলে যাওয়া বা পেট ফাঁপা সমস্যার সৃষ্টি হয়। কলা চা-তে বিদ্যমান পটাশিয়াম এবং পানি উপাদানগুলো শরীরকে প্রস্রাবের মাধ্যমে সোডিয়াম ত্যাগ করার সংকেত দিয়ে উচ্চ-লবণযুক্ত খাদ্যের কারণে পেট ফোলা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

* ভালো ঘুম হয়  :  ভালো ঘুমের দাওয়াই হিসেবে কলা চা বেশ জনপ্রিয়। এতে তিনটি প্রধান পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা অনেকেই ঘুমের উন্নতিতে সহায়তা হিসেবে দাবি করেন- পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ট্রিপটোফ্যান। ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়ামের একটি ভালো উৎস হচ্ছে কলা। এটি দুটি খনিজ পেশী-শিথিল করে আরো ভালো মানের ঘুম এবং বেশি সময়ের ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত। কলা শরীরে কিছু ট্রিপটোফ্যান সরবরাহ করে- এটি একটি অ্যামিনো অ্যাসিড যা ঘুম-প্ররোচিত হরমোন সেরোটোনিন এবং মেলাটোনিন তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদিও কোনো গবেষণায় ঘুমের সহায়ক হিসেবে কলা চায়ের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়নি। তাই এটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে, এই পুষ্টিগুলো চায়ে মেশানোর পর কি পরিমাণ থাকে। কলা যেভাবে চোখে ঘুম আনে, কলা চায়ের প্রভাব একইরকম কিনা তা বলাটা আসলে কঠিন।

* চিনির পারিমাণ কম : চিনিযুক্ত পানীয়গুলোর ভালো বিকল্প হতে পারে কলা চা। কলা সেদ্ধ করার সময় এর খুব অল্প পরিমান সুগার পানিতে মেশে, যা আপনার চায়ের জন্য প্রাকৃতিক মিষ্টি হিসেবে কাজ করে। অনেকেই কোমল পানীয় থেকে প্রচুর পরিমাণে চিনি গ্রহণ করে যা স্থূলতা, হৃদরোগ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শর্করা যোগ করা হয়নি এমন পানীয় হিসেবে কলা চা বেছে নিতে পারেন, এটি আপনার চিনির পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার সহজ উপায় হতে পারে।

* হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক: কলা চা-এর পুষ্টিগুণ হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। কলা চা-তে পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে, যা রক্তচাপ কমাতে এবং হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর জন্য সহায়ক। ৯০,১৩৭ জন নারীদের উপর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার স্ট্রোকের ঝুঁকি ২৭ শতাংশ কমানোতে সম্পর্কযুক্ত ছিল। ক্যাটচিন সমৃদ্ধ খাদ্য- কলা চা-তে বিদ্যমান এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে। তবে কোনো গবেণায় এখন পর্যন্ত কলা চা-তে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো এবং হৃদরোগের ঝুঁকির ওপর সেগুলোর প্রভাব নিয়ে সরাসরি পর্যালোচনা করা হয়নি।

কলা চা যেভাবে তৈরি করবেন

কলা চা তৈরি করা খুবই সহজ। খোসা ছাড়া অথবা খোসা সহ এই চা তৈরি যায়।

খোসা ছাড়া কলা চা

* একটি পাত্রে ২-৩ কাপ পানি নিন (৫০০-৭০০ মিলিলিটার) এবং চুলায় ফুটাতে দিন।

* পরিষ্কার পানি দিয়ে একটি পাকা কলা (খুব বেশি পাকা নয়) ধুয়ে নিন।

* কলার সামনের এবং পিছনের অংশ কেটে ফেলে দিন। খোসা ফেলে দিন।

* ফুটতে থাকা পানিতে কলা দিন।

* চুলার জ্বাল কমিয়ে ৫-১০ মিনিট সেদ্ধ করুন।

* পানি ফুটে আসলে এতে দারুচিনি অথবা মধু যোগ করুন (স্বাদ বাড়াতে চাইলে)।

* এবার কলা ফেলে দিয়ে পানিটুকু ২-৩ কাপে ভাগ করে নিন।

কলার খোসার চা
* একটি পাত্রে ২-৩ কাপ পানি নিন (৫০০-৭০০ মিলিলিটার) এবং চুলায় ফুটতে দিন।

* একটি কলার খোসা নিন।

* খোসার সামনের এবং পিছনের অংশ কেটে ফেলে দিন।

* ফুটতে থাকা পানিতে খোসা দিন।

* চুলার জ্বাল কমিয়ে ১৫-২০ মিনিট ধরে সেদ্ধ করুন।

* পানি ফুটে আসলে এতে দারুচিনি অথবা মধু যোগ করুন (স্বাদ বাড়াতে চাইলে)।

* এবার খোসা ফেলে দিয়ে পানিটুকু ২-৩ কাপে ভাগ করে নিন।

যদি এই চা আপনার কাছে উপভোগ্য হয়ে থাকে, তাহলে বাকিটুকু ফ্রিজে রেখে দিয়ে ১-২ দিনের মধ্যে পান করতে পারেন- ঠান্ডা কিংবা গরম করে।

অপচয় এড়াতে সেদ্ধ কলাটি স্মুদি, ওটমিল, পাউরুটি বা অন্য কিছুর সঙ্গে খেতে পারেন।

তথ্যসূত্র : হেলথলাইন

আরো পড়ুন : * কলার সুতার মতো অংশটি খাওয়া ভালো?

                 * কলার খোসা দিয়ে এসবও করা যায়!

                * যে ১৪ খাবারের অংশ ফেলে দেওয়া উচিত নয় (প্রথম পর্ব)

                * যে ১৪ খাবারের অংশ ফেলে দেওয়া উচিত নয় (শেষ পর্ব)



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ সেপ্টেম্বর ২০১৯/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন