ঢাকা, রবিবার, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ভয়ানক উপসর্গ দেখা দিলেই ঘাবড়ে যাবেন না

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-২২ ৩:৫৪:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-২২ ৩:৫৪:১১ পিএম
প্রতীকী ছবি

প্রযুক্তি কিংবা গুগলের কল্যাণে এখন সচেতন মানুষ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে সহজেই জানতে পারেন। যেমন মাথাব্যথা হলে গুগলে সার্চ দিয়ে মাথাব্যথার কারণ সহজেই জানা যায়। মাথাব্যথার ধরন নিজেই শনাক্ত করে ঘরোয়া চিকিৎসাও করা সম্ভব। অনেকে কোনো একটি রোগের উপসর্গ নিজের মধ্যে আছে মনে করে ঘাবড়ে যান। কিন্তু তিনি জানেন না, বুকে ব্যথা অনুভব করলেই হার্ট অ্যাটাক হবে এমন নয়। কিছু ভয়ানক উপসর্গ আছে যেগুলো সবসময় দুশ্চিন্তার কারণ নাও হতে পারে। দুই পর্বের প্রতিবেদনে আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব।

বুক ব্যথা : বুক ব্যথায় আপনার মনে প্রথমেই যে সন্দেহ জাগতে পারে তা হলো- হার্ট অ্যাটাক নয় তো? এনওয়াইইউ ল্যানগোন হেলথের ইন্টারনাল মেডিসিনের ক্লিনিক্যাল ইন্সট্রাক্টর আলবার্ট আহন বলেন, তরুণদের ডায়াবেটিসের মতো কার্ডিয়াক রিস্ক ফ্যাক্টর না থাকলে বুক ব্যথা মারাত্মক কিছু নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অল্প বয়সিদের বুক ব্যথার সঙ্গে বুকজ্বালা, মানসিক চাপ অথবা উদ্বেগের সম্পর্ক রয়েছে। অথবা এক্সারসাইজের সময় বুক প্রাচীরের মাংসপেশি চাপে পড়লেও বুকে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। আপনার বুক ব্যথার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

বুক ধড়ফড় : বুক ব্যথার মতো বুক ধড়ফড় বা হার্ট প্যালপিটেশনও অবধারিতভাবে কার্ডিয়াক সমস্যার ইঙ্গিত দেয় না। বুক ধড়ফড়ের অনুভূতি ভীতিকর হতে পারে, কিন্তু এটা জেনে রাখা ভালো যে অনেক সাধারণ কারণ থেকে এ উপসর্গ হতে পারে। যেমন- মানসিক চাপ, শরীরে পানির ঘাটতি, ঘুমের অভাব ও অত্যধিক ক্যাফেইন। এসব রিস্ক ফ্যাক্টর আমাদের জীবনের একটি অংশ, কিন্তু আমরা চাইলেই এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। কফি ও ওয়ার্কআউট সাপ্লিমেন্ট কমিয়ে অথবা মানসিক চাপ হ্রাস করে আপনার হার্টবিটকে শান্ত করতে পারেন। কিন্তু আপনার বুক ধড়ফড় নিয়মিত হলে অথবা এর সঙ্গে বুক ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট থাকলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

কানে শোঁ শোঁ শব্দ : আপনার কানে শোঁ শোঁ শব্দ হলে সম্ভবত এটি নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এটি স্বাভাবিক বয়স্ক মানুষের একটি উপসর্গ। ধমনী শক্ত হয়ে গেলে অথবা রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে রক্তপ্রবাহে যে পরিবর্তন আসে তাতে এ ধরনের শব্দ সৃষ্টি হতে পারে। ওয়েবএমডি’র প্রধান মেডিক্যাল এডিটর ব্রুনিল্ডা নাজারিও বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই শব্দ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মনের সন্দেহ দূর করতে চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারেন। এটি শ্রবণশক্তি হারানো অথবা মধ্যকর্ণে ক্ষতির লক্ষণও হতে পারে।

হাতের কাঁপুনি : আপনার হাত কাঁপলে নিজে নিজে এই সিদ্ধান্তে আসার প্রয়োজন নেই যে, আপনার পারকিনসন’স হয়েছে। পারকিনসন’সের সূচনা সাধারণত শরীরের একপাশে হয়ে থাকে এবং এর সঙ্গে শারীরিক অনমনীয়তা, ধীর হাঁটাচলা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে অসুবিধা হয়। নিম্ন রক্ত শর্করা অথবা থাইরয়েড সমস্যা থেকেও আপনার হাত কাঁপুনি হতে পারে। অথবা হাতের এ কম্পন এসেনশিয়াল ট্রেমরও হতে পারে, যা আপনাকে অতিষ্ঠ করলেও এটি একটি বিনাইন সমস্যা। ডা. আহন বলেন, ‘এসেনশিয়াল ট্রেমরের ক্ষেত্রে কিছু করতে গেলেই হাতে কাঁপুনি ধরে, যেমন- কিছু আঁকড়ে ধরা। ক্যাফেইন সীমিতকরণ অথবা বিটা-ব্লকার্স সেবনে আপনার হাতের কম্পন বন্ধ হতে পারে।’

ভুলে যাওয়া : একজন মানুষের বয়স যত বাড়তে থাকে তিনি ভুলে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে তত দুশ্চিন্তা করতে থাকেন। কারণ তিনি মনে করেন, এটি ডিমেনশিয়া বা মারাত্মক স্মৃতিভ্রংশতার লক্ষণ! কিন্তু আপনাকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে, এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেন না, কারণ এটা সম্পূর্ণরূপে স্বাভাবিক যে- বয়সের সঙ্গে স্মরণশক্তির ধার কমবে। এমনকি কখনো কখনো মানসিক চাপে অল্প বয়সি লোকদেরও ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। মনে রাখবেন: শব্দ বা নাম নয়, চেহারা বিস্মরণ হওয়াটাই মারাত্মক স্মৃতিভ্রংশতার লক্ষণ হতে পারে।

স্কিন ট্যাগ : স্কিন ট্যাগ সাধারণ মানুষের কাছে আঁচিল নামেই বেশি পরিচিত। সকল স্কিন গ্রোথ ক্যানসার নয়। স্কিন ট্যাগ হচ্ছে ত্বকের ওপর মাংসল-বর্ণের গ্রোথ যা সাধারণত ঘাড়, বুক, বগল ও চোখের আশপাশে ওঠে থাকে। পরিবর্তনশীল তিল ক্যানসার হওয়ার উচ্চ আশঙ্কা থাকলেও স্কিন ট্যাগ সম্পূর্ণরূপে বিনাইন, অর্থাৎ ক্যানসারমুক্ত। ডা. নাজারিও বলেন, ‘শরীরের এখানে-সেখানে একটি দুটি স্কিন ট্যাগের উপস্থিতি সাধারণত বিনাইন।’ এগুলোতে কোনো পরিবর্তন না এলে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। কিন্তু তিল অপসারণ করতে চাইলে অথবা কোনো স্কিন ট্যাগ হঠাৎ ফেটে গেলে ডার্মাটোলজিস্টের কাছে যাওয়া উচিত।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)


ঢাকা/ফিরোজ/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন