ঢাকা     মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭ ||  ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ভয়ঙ্কর হওয়ার আগেই সংশোধনাগারে ১৯০ কিশোর

30 || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:২৫, ৩০ আগস্ট ২০১৯  
ভয়ঙ্কর হওয়ার আগেই সংশোধনাগারে ১৯০ কিশোর

মাকসুদুর রহমান : বয়সে তারা কিশোর। কিন্তু ভাব-সাব, চাল-চলন, ঠাটবাট বড়দের মতই! তাদের আবার গ্যাংও রয়েছে। আর দলবল নিয়েই তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে।

কিন্তু এসব কিশোররা ভয়ঙ্কর অপরাধী হওয়ার আগেই তাদের নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে কাজ শুরু করেছে র‌্যাব। বুধবার পর্যন্ত গ্যাং কালচারে জড়িত ১৯০ জন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্সের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া পরিচালক লে. কর্নেল ইমরানুল হাসান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় কিশোর অপরাধীদের সংশ্লিষ্টতা পাই আমরা। দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনাও হয়। এ কারণে কিশোররা যেন কোন ধরনের অপরাধে জড়িত না থাকে সে জন্য র‌্যাব বিশেষভাবে কাজ শুরু করে গত জানুয়ারি থেকে। তারই অংশ হিসেবে র‌্যাবের সবগুলো ব্যাটালিয়নকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এলাকা বা পাড়া-মহল্লায় এরূপ কিশোর গ্যাং গুলোকে চিহ্নিত করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাইজিংবিডির প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, ‘দেখেন তারা বয়সে কিশোর। এ কারণে এখনও তাদের সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তারা যেন ভয়ঙ্কর হয়ে না ওঠে সে কারণে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’

র‌্যাবের গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা যায়, শুধু রাজধানীতেই বিভিন্ন নামে ৫০ থেকে ৬০টি কিশোর গ্যাং রয়েছে। এসব গ্রুপের নামগুলোও বেশ বাহারি। নিজেদের দলের শক্তির অবস্থা জানান দিতে সিনেমাটিক নাম ব্যবহার করে পাড়া মহল্লায় তাদের মহড়াও চলে নিয়মিত। ডিসকো বয়েস, বিগবস, বাইকার গ্যাং স্টার, নিউ নাইন স্টার, স্টার বন্ড গ্রুপ, ফাস্ট হিটার, কিশোর অপরাধীচক্রসহ আরও অনেক নামে কিশোররা গ্রুপ করেছে। গ্রুপের বেশিরভাগ সদস্য স্কুল পড়ুয়া কিশোর।

এলাকাভিত্তিক একটি আতঙ্কের নাম এই কিশোর গ্রুপ। সকাল-বিকাল-সন্ধ্যা কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত তারা পাড়া-মহল্লার গলির মোড়, রাজনীতিক কার্যালয়ের সামনে এমনকি বিভিন্ন খাবারের দোকানের সামনে আড্ডা দেয়। মেয়েদের উত্যক্ত করার পাশাপাশি মাদক সেবনেও তাদের কোন রাখঢাক নেই। এছাড়া এলাকায় সিনিয়র-জুনিয়র, আধিপত্য বিস্তার নিয়েও তাদের দৌড়ঝাপ চলে নিয়তই। ছোট থেকে মাঝারি অপরাধতো করছেই, মাঝে মধ্যে মানুষ হত্যার মতো জঘন্য অপরাধও করেছে। দেশীয় অস্ত্রের সাথে আধুনিক ছোট আগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে তাদের দখলে। এগুলোর ব্যবহারও তারা করছে হরহামেশা।

র‌্যাবের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর, মান্ডা, উত্তরা, যাত্রাবাড়ি, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং-এর সদস্যদের ধরতে ১৩টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় ১৯০ কিশোরকে। বেশিরভাগের বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর। এ কারণে অভিভাবকে জানিয়ে কিশোর শোধনাগারে পাঠানো হয় তাদের।

র‌্যাবের কাছে তথ্য আছে, উল্লেখিত এলাকায় ৩ থেকে ৪টি কিশোর গ্রুপ রয়েছে। তারা মাদক সেবন থেকে নানা অপরাধ করছে। এদের পেছনে আবার প্রভাবশালীদের পাশাপাশি এক শ্রেণির রাজনীতিবিদও আছে। যাদের কিশোররা বড় ভাই হিসেবে জানে। আর এই বড় ভাইয়েরা মাঝে মধ্যেই তাদের স্বার্থের জন্য কিশোরদের ব্যবহার করছে। এসব কিশোরদের বিষয়ে এখনই যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে তারা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা মনে করেন।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ আগস্ট ২০১৯/মাকসুদ/নবীন হোসেন

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়