ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ কার্তিক ১৪২৬, ২২ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ক্যাসিনো সরঞ্জাম : ২০ আমদানিকারক চিহ্নিত

এম এ রহমান মাসুম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২৬ ৬:৩০:২৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-০১ ৪:০৭:৩৭ পিএম

মিথ্যা ঘোষণাসহ বিভিন্ন কৌশলে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম আমদানি করা ২০ প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

এর আগে প্রাথমিকভাবে পাঁচ আমদানিকারকের কথা জানানো হলেও পরে আরো ১৫ আমদানিকারককে চিহ্নিত করা হয়। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার পুস্পিতা এন্টারপ্রাইজের মালিক সুরঞ্জন শেঠ তাপসকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দার কার্যালয়ে বিকেল পৌনে ৪টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।

এর আগে পুস্পিতা এন্টারপ্রাইজের পক্ষে সিঅ‌্যান্ডএফ এজেন্ট বেত্রাবতি ট্রেডের মালিক মো. আশরাফুল ইসলামকে সোমবার চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন, আইন-কানুন অনুসরণ করেই আমদানিকারদের পক্ষে যথাযথ শুল্ক-কর দিয়ে পণ্যগুলো ছাড় করেছি। কোনো অনিয়ম বা মিথ্যা ঘোষণা ছিল না।

একই কারণে এ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক আহসানুল আজমকে বুধবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জুতা, কম্পিটার, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ কিংবা ফার্নিচারের আড়ালে আমদানি হয়েছে ক্যাসিনো সরঞ্জাম। এ অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি নীতির সুযোগ নিয়ে রোলেট গেম টেবিল, পোকার গেম, ক্যাসিনো ওয়ার গেম টেবিল ইত্যাদি সরঞ্জাম আমদানি করা হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, জুয়ায় ব্যবহৃত প্রতিটি মেশিন ও সরঞ্জামের দাম প্রায় ১ লাখ টাকা থেকে ৩ কোটি টাকা। মিথ্যা ঘোষণায় কোটি কোটি টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি দেয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে আসা চালানের তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত আমদানিকারকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- এ এম ইসলাম অ‌্যান্ড সন্স, ন্যানাথ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, পুস্পিতা এন্টারপ্রাইজ, বি পেপার মিলস লিমিটেড ও এ থ্রি ট্রিড ইন্টারন্যাশনাল।

এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে বলেন, আমরা গত ১০ বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম খুঁজে পেয়েছি। কোনো আইনের লংঘন করেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে এনবিআর সূত্রে আরো জানা যায়, আমাদানিকারকদের মধ্যে ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর এ এম ইসলাম অ‌্যান্ড সন্স জুতার সরঞ্জাম ও মোবাইল যন্ত্রপাতির ঘোষণা দিয়ে ঢাকা কাস্টম হাউস দিয়ে একটি বড় চালান ছাড় করায়। কিন্তু গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, ক্যাসিনো চিপস ও রেসিং কার্ড আনা হয়েছে। একই ভাবে ঢাকা কাস্টম হাউস দিয়ে ২০১৮ সালের মে মাসে ন্যানাথ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটারের মাদার বোর্ডের নামে, এ থ্রি ট্রিড ইন্টারন্যাশনাল ২০১৭ সালের আগস্ট জন্মদিনের সরঞ্জামের নামে, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে বি পেপার মিলস লিমিটেড ফার্নিচারের নামে রোলেট গেম টেবিল, পোকার গেম, ক্যাসিনো ওয়ার গেম টেবিল ইত্যাদি সরঞ্জাম আমদানি করে বলে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা। তবে পুস্পিতা এন্টারপ্রাইজ ক্যাসিনো সরঞ্জাম ঘোষণা দিয়েই পণ্য আমদানি করেছে। এসব আমদানিকারক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পণ্যগুলো আমদানি করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেছে বলে মনে করেন গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ক্যাসিনোর মেশিনসহ খেলার বেশিরভাগ সামগ্রী চীন থেকে আমদানি হয়েছে। রয়েছে অর্থ পাচারের তথ্যও।

একই সঙ্গে ক্যাসিনোতে জুয়ায় টাকা লগ্নিকারী ব্যক্তিদের আয়কর ফাইল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে আরো কিছু আমদানিকারককে জিজ্ঞাসাবাদ করবে শুল্ক গোয়েন্দা। এছাড়া, ক্যাসিনোর মেশিন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কীভাবে এসব মেশিন আমদানি করেছে তা খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেবে শুল্ক গোয়েন্দা।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ক্যাসিনোতে প্রতি রাতে হাজার হাজার কোটি টাকার খেলা হয়। রাজধানীতে অন্তত ৬০টি ক্যাসিনোর তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফকিরাপুলে ইয়ংমেন্স ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। আটক করা হয় ১৪২ জনকে। উদ্ধার করা হয় ক্যাসিনোর রোলেট, স্লট মেশিন, জুয়ার গুটিসহ অন্যান্য সামগ্রী। একই দিনে রাজধানীর আরো কয়েকটি অভিজাত ক্লাবে অভিযান চলে। কয়েক দিন ধরে রাজধানীসহ সারা দেশে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রতিটি ক্যাসিনোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দামি মেশিন ও খেলার সামগ্রীর সন্ধান পায়। সঠিকভাবে শুল্ক-কর পরিশোধ করে এসব মেশিন আমদানি করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে এনবিআর।


ঢাকা/এম এ রহমান/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন