ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সবুজ প্রকৃতি আর লেকের শহর কাপ্তাই

রেজাউল করিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১২ ৭:১২:১২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১২ ৭:৫৩:১১ পিএম

দেশের বৃহত্তম কাপ্তাই লেক, সবুজ বৃক্ষ আচ্ছাদিত উঁচু-নিচু পাহাড়, শান্ত শীতল জলের কর্ণফুলী নদী, গভীর মমতা আর ভালোবাসায় গড়া আদিবাসীদের বর্ণিল জীবন ধারা সব মিলিয়ে অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিলিত আহ্বান। এত সৌন্দর্য এক জায়গায় মিলিত হয়েছে দেশের যে স্থানটিতে তার নাম কাপ্তাই।

প্রকৃতির প্রায় সব রূপ-রং যেন এখানে এসে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।  সেই সৌন্দর্যের সুধা পান করতে সারা বছরই প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে কাপ্তাইয়ে।

কাপ্তাই রাঙ্গামাটির একটি উপজেলা হলেও চট্টগ্রাম শহরের সাথে কাপ্তাইয়ের যোগাযোগ খুবই সহজ। মাত্র ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের দূরত্ব। আর এই দূরত্ব পেরুলেই হারিয়ে যাওয়া সম্ভব অপূর্ব সুন্দর প্রকৃতির মাঝে। কাপ্তাইয়ে গেলে যেসব স্থান আপনার পছন্দ হবে, সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন রাইজিংবিডির প্রতিবেদক।

কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক : কাপ্তাইয়ে বেড়াতে গেলে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ থাকে কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ককে ঘিরে। বাংলাদেশ বন বিভাগের পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনে কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কটি। পার্কে প্রবেশ করতেই পাখির কিচির-মিচির, বানরের লম্ফঝম্প আর নানা প্রজাতীর বন্যপ্রাণির আনাগোনা যে কোনো পর্যটককে অভিভূত করবে। কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গা বালুছড়া এলাকা থেকে কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কের শুরু এবং কাপ্তাই লেক ও কর্ণফুলী নদীর পাশ ঘেঁষে এই পার্কের অপূর্ব সুন্দর সীমানা। কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কে বেড়াতে পারবেন যে কোনো পর্যটক।

কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন জানান, কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মণ্ডিত এলাকা। এই পার্কে রয়েছে পাহাড়, নদী, লেক আর প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্র‌্যের অপূর্ব সংমিশ্রণ। সাধারণ পর্যটকের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, গবেষক এবং জীব বৈচিত্র‌্য সংরক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিতরা বিভিন্ন গবেষণা কাজে কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কে আসেন।

কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক সকার জন‌্য উন্মুক্ত। তবে গভীর বনে প্রবেশ, থাকা, খাওয়া এবং সংরক্ষিত বনের অভ্যন্তরে যাতায়তের জন্য বন বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। এই অনুমতিও মিলবে খুব সহজে।

কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কের ভিতরে পাহাড়ের উপর বন বিভাগের ‘বনফুল’ নামক অপূর্ব সুন্দর একটি বিশ্রামাগার রয়েছে। পূর্বানুমতি নিয়ে বুকিং সাপেক্ষে এই বিশ্রামাগারে থাকা ও ছুটি কাটানো যেতে পারে। এই রেস্ট হাউজের বারান্দা থেকেই দেখা যায় ন্যাশনাল পার্কের সবুজ প্রকৃতি আর শান্ত শীতল জলে বহমান কর্ণফুলী। এ ছাড়া পার্কে রয়েছে সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। এখানে উঠে কাপ্তাই উপজেলার সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্য একনজরে উপভোগ করা যায়।

পাহাড় ঘেরা নীল জলের কাপ্তাই হ্রদ : ১৯৫৬ সালে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দেয়া হয়। বাঁধ দেয়ার ফলে সৃষ্টি হয় দেশের বৃহত্তম কাপ্তাই হ্রদ। কাপ্তাই আর রাঙ্গামাটির মাঝখানে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে স্ফটিক নীল জলের কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাই (কর্ণফুলী) হ্রদ বা কাপ্তাই লেক। পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দেয়ার ফলে এই হ্রদ সৃষ্টি হলেও এ হ্রদের কৃত্রিমতা স্বাভাবিক সৌন্দর্যকেও ছাড়িয়ে গেছে।

লুসাই পাহাড়ের অদূরে সলিল কন্যা কর্ণফুলীর স্বাভাবিক চলার পথে চঞ্চলা পায়ের ছন্দময় গতিতে যেন বিচ্ছেদের নূপুর পরানো হয়েছে। কখনো দুই পাহাড়ের মাঝখানে সরু খাড়াপথ, আবার কখনো বা দিগন্ত বিস্তৃত অথৈ জলরাশি। উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় বিভিন্ন গোত্রের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিচিত্র নিবাস। নিজস্ব সংস্কৃতিতে তৈরি বিচ্ছিন্ন এ জনপদগুলো আরো আকর্ষণীয়।

কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমণের বা নৌবিহারের স্থানগুলির মধ্যে কাপ্তাই, বিলাইছড়ি, রাঙ্গামাটি, সুভলং, জুরাছড়ি, হরিণছড়া, রাঙ্গামাটি চাকমা রাজবাড়ী প্রভৃতি স্থান উল্লেখযোগ্য। নুন্যতম খরচে কাপ্তাই লেকে নৌবিহার করা সম্ভব। কাপ্তাই জেটিঘাট, কাপ্তাই নৌবাহিনী শহীদ মোয়াজ্জেম নৌঘাটসহ লেকের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইঞ্জিন বোট, সাম্পান, ডিঙি নৌকা প্রভৃতির মাধ্যমে কাপ্তাই লেক ঘুরে বেড়ানো যায়।

কাপ্তাই লেক ঘিরেই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শহীদ মোয়াজ্জম ঘাঁটি এবং কাপ্তাই জেটিঘাট সংলগ্ন সেনাবাহিনী পরিচালিত দু’টি অসাধারণ পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। নির্দিষ্ট ভ্রমণ ফি দিয়ে এসব পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ করতে পারেন যে কেউ।

কাপ্তাই বাঁধ : কর্ণফুলী নদীর মাঝখানে দেশের বৃহত্তম বাঁধ সৃষ্টির ফলে কাপ্তাইয়েই পৃথক হয়ে গেছে কর্ণফুলী নদী। তবে কাপ্তাইয়ে গেলে মনে হতে পারে, কাপ্তাই থেকেই শুরু হয়েছে কর্ণফুলী। কাপ্তাই বাঁধের এক অংশে নদী, অপর অংশে লেক। এই দুইয়ে মিলে যেন অপূর্ব সুন্দরের মিলন মেলা।

কাপ্তাইয়ে বেড়াতে গেলে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিয়ে দেখা যাবে দেশের বৃহত্তম কাপ্তাই বাঁধ। কাপ্তাই বাঁধ দেখার জন্য কাপ্তাই ওয়াগ্গা ৪ বিজিবি ব্যাটেলিয়ন অথবা কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। একটু চেষ্টা করলেই অনুমতি পাওয়া যায়। কাপ্তাই বাঁধের পাশাপাশি পর্যটকদের জন‌্য দর্শনীয় হবে কাপ্তাই ২৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দেশের একমাত্র জল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।

রাঙ্গুনিয়া অ্যাভিয়ারি পার্ক : কাপ্তাই যাওয়ার পথে কাপ্তাই উপজেলার প্রবেশ মুখেই রয়েছে দেশের প্রথম অ্যাভিয়ারি পার্ক। কৃত্রিম লেক এবং সবুজ প্রকৃতি ঘিরে এখানে তৈরি করা হয়েছে পাখির অভয়ারণ‌্য। এখানে ঘুরে বেড়ানোর নানা সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে ক্যাবল কার। এই কারে ভ্রমণ করে দেখা যাবে সবুজ অরণ‌্য, যা সব বয়সী মানুষের জন‌্য সমান উপভোগ‌্য।

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনধারা : কাপ্তাইয়ে বেড়াতে এলে দেখা মিলবে স্থানীয় ভিন্ন ভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠী এবং তাদের বৈচিত্র‌্য‌্যময় সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট‌্যময় জীবন ধারা। পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি আদিবাসী নৃগোষ্ঠীর মধ্যে কাপ্তাই উপজেলায় বসবাস করে মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, খিয়াং, পাংখুয়া ও তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠী। এদের রয়েছে নানা বৈচিত্র‌্য‌্যময় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড।

কাপ্তাইয়ে রয়েছে দেশের বৃহত্তম বৌদ্ধ মন্দির। কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদীর তীরে চিৎমরম ইউনিয়নে মন্দিরটি অবস্থিত।

চিৎমরম এলাকার বাসিন্দা রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য প্রকৌশলী থোয়াচিং মারমা জানান, কাপ্তাইয়ের চিৎমরম বৌদ্ধ মন্দিরটি আদিবাসীয় ভাষায় চিংম্রং বৌদ্ধ বিহার হিসেবে বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পরিচিত। বাংলাদেশ ছাড়িয়ে চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভারত, নেপাল প্রভৃতি দেশ থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষু, দায়ক-দায়িকারা মন্দির দর্শনে আসেন।সুউচ্চ পাহাড়ের উপর নির্মিত এই বৌদ্ধ মন্দিরটি প্রায় দুই বছরের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করেছে বৌদ্ধ দায়ক-দায়িকারা। মন্দিরটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান।

কাপ্তাইয়ের আকর্ষণীয় আরো কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র : কাপ্তাই উপজেলায় পাহাড়, লেক ও কর্ণফুলী নদীর সৌন্দর্যকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় আকর্ষণীয় একাধিক পর্যটনকেন্দ্র। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কাপ্তাই বিজিবি পরিচালিত জুম রেস্তোঁরা। নামে রেস্তোঁরা হলেও এটি মূলত একটি পরিপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র।

এ ছাড়া আছে কাপ্তাই নৌ-বাহিনী প্রশিক্ষণ ঘাঁটি শহীদ মোয়াজ্জমের পর্যটনকেন্দ্র লেক প্যারাডাইস। কাপ্তাই সেনা জোন নিয়ন্ত্রিত কাপ্তাই লেকের উপর আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র এটি।

এ ছাড়া বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় বনশ্রী পর্যটনকেন্দ্র, পাহাড়িকা পর্যটনকেন্দ্র, বিএফআইডিসি পর্যটনকেন্দ্র ইত্যাদি। এসব পর্যটরকেন্দ্রে রয়েছে আকর্ষণীয় কয়েকটি রিসোর্ট। এখানে থাকা খাওয়া আর নিরাপদে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার অপূর্ব সুযোগ বিদ্যমান।

ওয়াগ্গা চা বাগান : কাপ্তাইয়ে রয়েছে চট্টগ্রামের বৃহত্তম ও মনমুগ্ধকর চা বাগান। কাদেরী টি এস্টেট পরিচালিত এই চা বাগানটি পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত মনোরম ও উপভোগ্য দর্শনীয় স্থান। দেশের বিভিন্ন যায়ড়া থেকে চা বাগানটি পরিদর্শনে আসেন পর্যটকরা।

কাদেরী টি এস্টেটের পরিচালক খোরশেদুল আলম কাদেরী বলেন, ‘চা বাগানটি পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত। যে কেউ এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। ’

কাপ্তাই উপজেলা সদরের কাছে কর্ণফুলী নদীর তীরে ওয়াগ্গা ইউনিয়নে এ চা বাগানটির অবস্থান।

কাপ্তাই যেতে হলে : ঢাকা বা দেশের যে কোনো জেলা থেকে সড়ক পথে বাস, রেল বা বিমানে করে চট্টগ্রাম আসতে হবে। এরপর চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কাপ্তাই যাওয়া যায়। চট্টগ্রাম শহর থেকে কাপ্তাইয়ের দূরত্ব মাত্র ৫৮ কিলোমিটার। এ ছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি কাপ্তাই পর্যন্ত বাস সার্ভিস রয়েছে।

ঢাকার কলাবাগান, মতিঝিল, ফকিরাপুল থেকে প্রতিদিনই সকাল বিকেল মর্ডান লাইন, এস আলম, ডলফিন, ও শ্যামলি পরিবহনের বাস ঢাকা-কাপ্তাই সার্ভিস দিয়ে থাকে। কমলাপুর রেলষ্টেশন থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম হয়ে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি গেইট লক সার্ভিসে কাপ্তাই যাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের অবস্থা খুবই চমৎকার। চট্টগ্রাম থেকে হালদা নদী পার হয়ে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া হয়ে চন্দ্রঘোনা। চন্দ্রঘোনা বাস স্টপেজের স্থানীয় নাম লিচুবাগান। লিচুবাগান সংলগ্ন চন্দ্রঘোনা কাগজকল ও রেয়ন শিল্প কারখানা পাশে রেখে মাত্র ১২ কিলোমিটার উঁচুনিচু আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ হয়ে কাপ্তাই।

খরচ কেমন : দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অত্যন্ত কম খরচে কাপ্তাই ভ্রমণ ও প্রকৃতির রূপ-রং উপভোগ করা যায়। ঢাকা থেকে কাপ্তাই পর্যন্ত বাস ভাড়া মাথাপিছু ৫৫০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে কাপ্তাইয়ের বাস ভাড়া ৫৫ টাকা। ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলেও যেতে পারেন।  সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত ভালো।

কাপ্তাই সড়কের কোথাও খানা-খন্দ নেই। কাপ্তাইয়ে থাকার জন্য ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিজিবি’র রেস্ট হাউজ পাওয়া যাবে। সরকারি রেস্ট হাউস বুক করা যাবে ৩শ’ থেকে হাজার টাকার মধ্যে।

কাপ্তাইয়ে বেড়ানো ও পর্যটন সংক্রান্ত বিস্তারিত যে কোনো তথ্যের জন্য ০১৫৩৪৫৮৫৭১৭ এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।


চট্টগ্রাম/রেজাউল/সনি

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন